গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অসময়ে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন

Spread the love

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : বসত বাড়ির আঙ্গিনায়, উচু জমিতে, অসময়ে তরমুজের চাষ করে বাম্পার ফলনের আশায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের মনিশংকর ফলিয়া। তরমুজ মৌসুমের চেয়ে খরচ অনেক বেশি হলেও অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন এই কৃষক।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের মনিশংকর ফলিয়া একজন কৃষক। পেশায় একজন ভাল কৃষক হওয়াতে নির্ধারিত সময়ে তরমুজের চাষ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন। সেই সুবাদে অসময়ে তরমুজের চাষ করা যায় কি না এটি যাচাই বাচাই করার জন্য তাঁর এ অভিপ্রায়। তাছাড়া অকালে তরমুজ চাষ করতে পারলে বেশ লাভবানও হওয়া যায়।

 

অক্টোবরের প্রথম দিক দিয়ে মাদা তৈরি করে তরমুজের বীজ রোপণ করেন কৃষক মনিশংকর ফলিয়া। প্রথমে শুরু করেন বাড়ির উঠানের উপরে। বীজ লাগানোর কয়েক দিন পরে যখন চারা গাছ মাটির উপরে উঠতে লাগল তখনি অন্য এক উচু জমিতে আরো এক বিঘায় তরমুজের চাষ শুরু করেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি মোট ২০৮ শতাংশ (৪বিঘা) জমিতে তরমুজের চাষ করেন। এক একটি মাদায় ৪-৫ টি করে তরমুজের গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫-৭টি ফল আছে। ফলগুলো ২ কেজি থেকে শুরু করে ৮কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে।

 

কৃষক মনিশংকর ফলিয়া বলেন, আমি মোট ২০৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষা মূলক ভাবে এ বছর প্রথম অসময়ে তরমুজ চাষ করি। প্রথম থেকেই গাছ গুলো খুব ভাল দেখা গেছে। গাছে কোন রোগ বালাই নেই। যখন ফল আসে সে সময়ও গাছ গুলো দেখতে ভাল। প্রতিটি তরমুজ ৫ থেকে ৮ কেজি ওজন হয়েছে। একটা ক্ষেতের গাছ গুলো আগা থেকে লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকারের সার ও কিটনাশক ব্যবহার করেও কোন ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার তরমুজ হয়েছে। কিছু তরমুজ গাছ পাঁকার আগেই  লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে সঠিক ভাবে তরমুজ গাছে সার ও কিটনাশক ব্যবহার করে যাচ্ছি। এই তরমুজ গুলো সঠিক ভাবে পরিচর্যা করে পাঁকাতে পারলে প্রায় ২শ’ ২৫ মণ তরমুজ ফলবে। প্রতি মণ ২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারলে আমি অনেক টাকা লাভবান হতে পারব বলে আশা রাখি।

 

স্থানীয়রা জানান, মৌসুমি তরমুজের চাষ অল্প দিনের মধ্য শুরু হতে যাচ্ছে। অসময়ে তরমুজ চাষে বেশ লাভ হলেও মৌসুমি তরমুজ চাষের চেয়ে সতর্কতা বেশি। এ সময়ে আবহাওয়া তরমুজের জন্য প্রতিকূল থাকায় চাষে ঝুঁকি বেশি। কোটালীপাড়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অফিসা রমেন্দ্র নাথ হালদার, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, পার্থ প্রতিম বৈদ্য, মনজুর ও  উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার কৃর্ত্তিবাস পান্ডে, তরমুজ ক্ষেতে উপস্থিত থেকে কৃষক মনিশংকর ফলিয়াকে সার ও কিটনাশক ব্যবহারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের পৃথক কয়েকটি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী-১,ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-২

» বেনাপোলের আমড়া খালি এলাকা থেকে ৪১ টি সোনার বার সহ আটক-৪

» গাইবান্ধায় বিলের পাড়ে হাত পা বাধা অবস্থায় এক নারী উদ্ধার

» পুলিশ যা জানালো ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পর

» রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মত বিনিময় সভা

» ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার: নুসরাতের বাবা-মায়ের নামাজ আদায়

» বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

» ছাত্রদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে যা করতেন শিক্ষিকা!

» ছেলে থাকেন দালানে, মায়ের জায়গা ঝুপড়িতে

» সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন চাইলে যে ব্যবস্থা নিবেন ব্যারিস্টার সুমন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অসময়ে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : বসত বাড়ির আঙ্গিনায়, উচু জমিতে, অসময়ে তরমুজের চাষ করে বাম্পার ফলনের আশায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের মনিশংকর ফলিয়া। তরমুজ মৌসুমের চেয়ে খরচ অনেক বেশি হলেও অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন এই কৃষক।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের মনিশংকর ফলিয়া একজন কৃষক। পেশায় একজন ভাল কৃষক হওয়াতে নির্ধারিত সময়ে তরমুজের চাষ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন। সেই সুবাদে অসময়ে তরমুজের চাষ করা যায় কি না এটি যাচাই বাচাই করার জন্য তাঁর এ অভিপ্রায়। তাছাড়া অকালে তরমুজ চাষ করতে পারলে বেশ লাভবানও হওয়া যায়।

 

অক্টোবরের প্রথম দিক দিয়ে মাদা তৈরি করে তরমুজের বীজ রোপণ করেন কৃষক মনিশংকর ফলিয়া। প্রথমে শুরু করেন বাড়ির উঠানের উপরে। বীজ লাগানোর কয়েক দিন পরে যখন চারা গাছ মাটির উপরে উঠতে লাগল তখনি অন্য এক উচু জমিতে আরো এক বিঘায় তরমুজের চাষ শুরু করেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি মোট ২০৮ শতাংশ (৪বিঘা) জমিতে তরমুজের চাষ করেন। এক একটি মাদায় ৪-৫ টি করে তরমুজের গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫-৭টি ফল আছে। ফলগুলো ২ কেজি থেকে শুরু করে ৮কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে।

 

কৃষক মনিশংকর ফলিয়া বলেন, আমি মোট ২০৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষা মূলক ভাবে এ বছর প্রথম অসময়ে তরমুজ চাষ করি। প্রথম থেকেই গাছ গুলো খুব ভাল দেখা গেছে। গাছে কোন রোগ বালাই নেই। যখন ফল আসে সে সময়ও গাছ গুলো দেখতে ভাল। প্রতিটি তরমুজ ৫ থেকে ৮ কেজি ওজন হয়েছে। একটা ক্ষেতের গাছ গুলো আগা থেকে লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকারের সার ও কিটনাশক ব্যবহার করেও কোন ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার তরমুজ হয়েছে। কিছু তরমুজ গাছ পাঁকার আগেই  লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে সঠিক ভাবে তরমুজ গাছে সার ও কিটনাশক ব্যবহার করে যাচ্ছি। এই তরমুজ গুলো সঠিক ভাবে পরিচর্যা করে পাঁকাতে পারলে প্রায় ২শ’ ২৫ মণ তরমুজ ফলবে। প্রতি মণ ২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারলে আমি অনেক টাকা লাভবান হতে পারব বলে আশা রাখি।

 

স্থানীয়রা জানান, মৌসুমি তরমুজের চাষ অল্প দিনের মধ্য শুরু হতে যাচ্ছে। অসময়ে তরমুজ চাষে বেশ লাভ হলেও মৌসুমি তরমুজ চাষের চেয়ে সতর্কতা বেশি। এ সময়ে আবহাওয়া তরমুজের জন্য প্রতিকূল থাকায় চাষে ঝুঁকি বেশি। কোটালীপাড়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অফিসা রমেন্দ্র নাথ হালদার, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, পার্থ প্রতিম বৈদ্য, মনজুর ও  উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার কৃর্ত্তিবাস পান্ডে, তরমুজ ক্ষেতে উপস্থিত থেকে কৃষক মনিশংকর ফলিয়াকে সার ও কিটনাশক ব্যবহারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited