কুয়াকাটার নারিকেল বাগান এখন শুধুই ইতিহাস

Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি, ০১ ডিসেম্বর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লিলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। এক সময় দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে ছিল শত শত নারিকেল বাগান।

 

সমুদ্রের গা ঘেঁষে এ বাগানটি পর্যটকদের বাড়তি পরশ দিয়েছে। এটির প্রতি ছিলো ভ্রমণ পিপাসুদের এক অন্যরকম আকর্ষণ। গাড়ি পার্কিং, পিকনিক স্পট, বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ বাগানটি সর্বজনের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। ১০ বছর আগেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে বিশাল শালবাগান ও পূর্ব পাশের প্রায় ২’শ একর জমিতে উপর ছিলো নারিকেল বাগান। যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢেউয়ের ঝাপটায় বালু ক্ষয়ে সারি সারি নারিকেল বাগানটি আস্তে আস্তে সাগরগর্ভে বিলিন হতে থাকে। পাল্টে যায় তীর ঘেষা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালের দিকে বৃক্ষ প্রেমি ফয়েজ মিয়া বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা ১৯৭ একর সরকারী জমি ৯৯ বছরের লিজ নেয়। তিনি ওই জমির উপর “ফার্মস এন্ড ফার্মস” নামকরণ একটি বিশাল নারিকেল বাগান গড়ে তুলেন। নারিকেল গাছ ছাড়াও অন্যান্য জাতের গাছ রোপন করেন। এর মধ্যে পেয়ারা, কাজু বাদাম, লেবু, কুল, গর্জন বাগানসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও ঔষধি গাছ ছিল। নারিকেল গাছ সংখ্যায় বেশী ছিল বলে নারিকেল বাগান নামেই এটি পরিচিতি পায়। সকাল সন্ধ্যা নানা জাতের পাখির কলরব মুখোরিত থাকত বাগানটি। গহিন বনে প্রবেশ করতে বন্য হিং¯্রপ্রাণী ও অজগরের ভয় ছিল। জোছনা রাতে গাছে গাছে বানর ও বাদুরের দাপাদাপি,শেয়ালের ডাকাডাকি আর লুকোচুরি, শুকরের দূরহ দাঁত দিয়ে মাটির গর্ত করা এমন দৃশ্য এখন আর নেই। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালেরসাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে ফয়েজ মিয়ার ‘ফার্মস এন্ড ফার্মস’ ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি এখন রূপ কথার গল্প।

 

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে সমুদ্রে জোয়ারের পানি অস্বভাবিক বৃদ্ধির পায়। ফলে প্রচন্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় বালুক্ষয়ে ছোট হচ্ছে কুয়াকাটার মানচিত্র। বিশাল সৈকতে ঘুরলেই দেখা যায় অসংখ্য গাছের মূল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আগত দর্শনার্থীদের সমুদ্রস্নানে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করেই সাগরে নামতে তাদের। তারপরও এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। স্থানীয় প্রবিন বাসিন্ধা হাজী¡ আব্দুল আলী শেখ জানান, সাগরপাড়ের প্রায় দুই শ’ একর বাগানের লবনাক্ত মাটিতে যেসব গাছ জন্মে তার সবটাই ফয়েজ মিয়া লাগিয়ে ছিলেন। এক সময় এ বাগানে বাঘ, বানর, শিয়াল, শুকর, সাপ, গুইসাপ, সজারু ছিল অনেক। ভয়ে মানুষ বাগানের মধ্যে যেতে চাইতনা। এখন তার কিছুই নাই।

 

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ: বাকেক মোল্লা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের বালুক্ষয়ে বাগানটির গাছ সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সৈকতের বালুক্ষয়রোধের জন্য একধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকার্তা বরাবরে জানানো হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলা: আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

» ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত (ভিডিও)

» গলাচিপায় নির্মানাধীনব্রিজের ডাইভার্সন বাধ কেটে দিয়েছে এলাকাবাসী

» মৌলভীবাজারে বন্যা কবলিত এলাকায় বাড়ছে পানি বাহিত রোগ

» বৃদ্ধ নারীকে ৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাননাশের হুমকিতে দিশেহারা!

» শিশু ও নারী নির্যাতন এবং যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» রাণীনগরের সেই বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ৩টি গ্রাম প্লাবিত; পানি বন্দি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ

» সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের গলা কেটে পালিয়ে গেলেন নার্স

» ঔষধ কোম্পানী প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন

» নওগাঁয় অটিজম ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটার নারিকেল বাগান এখন শুধুই ইতিহাস

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি, ০১ ডিসেম্বর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লিলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। এক সময় দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে ছিল শত শত নারিকেল বাগান।

 

সমুদ্রের গা ঘেঁষে এ বাগানটি পর্যটকদের বাড়তি পরশ দিয়েছে। এটির প্রতি ছিলো ভ্রমণ পিপাসুদের এক অন্যরকম আকর্ষণ। গাড়ি পার্কিং, পিকনিক স্পট, বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ বাগানটি সর্বজনের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। ১০ বছর আগেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে বিশাল শালবাগান ও পূর্ব পাশের প্রায় ২’শ একর জমিতে উপর ছিলো নারিকেল বাগান। যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢেউয়ের ঝাপটায় বালু ক্ষয়ে সারি সারি নারিকেল বাগানটি আস্তে আস্তে সাগরগর্ভে বিলিন হতে থাকে। পাল্টে যায় তীর ঘেষা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালের দিকে বৃক্ষ প্রেমি ফয়েজ মিয়া বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা ১৯৭ একর সরকারী জমি ৯৯ বছরের লিজ নেয়। তিনি ওই জমির উপর “ফার্মস এন্ড ফার্মস” নামকরণ একটি বিশাল নারিকেল বাগান গড়ে তুলেন। নারিকেল গাছ ছাড়াও অন্যান্য জাতের গাছ রোপন করেন। এর মধ্যে পেয়ারা, কাজু বাদাম, লেবু, কুল, গর্জন বাগানসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও ঔষধি গাছ ছিল। নারিকেল গাছ সংখ্যায় বেশী ছিল বলে নারিকেল বাগান নামেই এটি পরিচিতি পায়। সকাল সন্ধ্যা নানা জাতের পাখির কলরব মুখোরিত থাকত বাগানটি। গহিন বনে প্রবেশ করতে বন্য হিং¯্রপ্রাণী ও অজগরের ভয় ছিল। জোছনা রাতে গাছে গাছে বানর ও বাদুরের দাপাদাপি,শেয়ালের ডাকাডাকি আর লুকোচুরি, শুকরের দূরহ দাঁত দিয়ে মাটির গর্ত করা এমন দৃশ্য এখন আর নেই। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালেরসাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে ফয়েজ মিয়ার ‘ফার্মস এন্ড ফার্মস’ ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি এখন রূপ কথার গল্প।

 

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে সমুদ্রে জোয়ারের পানি অস্বভাবিক বৃদ্ধির পায়। ফলে প্রচন্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় বালুক্ষয়ে ছোট হচ্ছে কুয়াকাটার মানচিত্র। বিশাল সৈকতে ঘুরলেই দেখা যায় অসংখ্য গাছের মূল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আগত দর্শনার্থীদের সমুদ্রস্নানে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করেই সাগরে নামতে তাদের। তারপরও এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। স্থানীয় প্রবিন বাসিন্ধা হাজী¡ আব্দুল আলী শেখ জানান, সাগরপাড়ের প্রায় দুই শ’ একর বাগানের লবনাক্ত মাটিতে যেসব গাছ জন্মে তার সবটাই ফয়েজ মিয়া লাগিয়ে ছিলেন। এক সময় এ বাগানে বাঘ, বানর, শিয়াল, শুকর, সাপ, গুইসাপ, সজারু ছিল অনেক। ভয়ে মানুষ বাগানের মধ্যে যেতে চাইতনা। এখন তার কিছুই নাই।

 

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ: বাকেক মোল্লা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের বালুক্ষয়ে বাগানটির গাছ সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সৈকতের বালুক্ষয়রোধের জন্য একধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকার্তা বরাবরে জানানো হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited