রাজাপুর মুক্ত দিবস আজ, ৪৬ বছরেও সংরক্ষিত হয়নি বধ্যভূমি-গণকবরসহ স্মৃতি বিজরিত ৭টি স্থান

Spread the love

জাকির সিকদার, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: আজ ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১ সনের এ দিনে বরিশাল বিভাগের ৯নং সেক্টরের মধ্যে ঝালকাঠির রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে।

 

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আতœসমর্পণ করে। শত্রু মুক্ত হয় রাজাপুর থানা, বন্ধ হয় গনহত্যা। রাজাপুর থানা মুক্ত হওয়ার ১৫ দিন পূর্বে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ও বাবুল হোসেন পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন। ১৯৭১ সনের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর আন্তানায় আক্রমন চালায়, শুরু হয় গুলি পাল্টা গুলি। ২৩ নভেম্বর ভোর রাত ৪ টার দিকে পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আতœসর্মপন করতে বাধ্য হয়। এ দিনের যুদ্ধে শহীদ হন আবদুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক এবং গুরুতর আহত হন মোঃ হোসেন আলীসহ কমপক্ষে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

 

সে দিনের এ যুদ্ধে ৩’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৯নং সেক্টরের অন্যতম সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর। এ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর’র পায়ের গোড়ালি গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার এ বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওম কে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজাপুর থানা শত্রু মুক্ত হওয়ায় ১৯৯৫ সালে রাজাপুরে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্র। এছাড়া শহীদের স্মরনে তাদের নামানুসারে রাজাপুরে কয়েকটি সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও রাজাপুর উপজেলায় যুদ্ধকালিন স্মৃতি বিজরিত ২টি বধ্যভূমি ও ৩টি গনকবরসহ ৭টি স্থান আজও অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উদ্যোগের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এসব স্থানগুলো। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা ঘাটের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় প্রায় ৭’শ থেকে ৮’শ নীরিহ মানুষকে হত্যা করা হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম) এর বাড়ীর সামনের বধ্যভূমিতে আরো প্রায় ২’শ লোককে হত্যা করা হয়। এছাড়াও শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ায় ২০১০ সালেু দুইটি গনকবর পাওয়া যায়।

 

যাহার একটি থেকে অনেক মানুষের হাড্ডি উদ্ধার হয় এবং সাতুরিয়ার তারাবুনিয়া গ্রামে একটি (অখননকৃত) গনকবরের সন্ধান দেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কাঠিপাড়ার শহীদ পরিবারগুলো আজ স্বীকৃতি পায়নি। উপজেলার প্রবেশ মূখে বাঘড়ী বাজারের খাল সংলগ্ন থানা ঘাটের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমিটি ২০০৯ সালে তৎকালীন ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের কাজ শুরু হয় মাত্র দুই টন টি.আর এর অর্থ ও ব্যক্তিগত সাহায্যের অনুদানে। পরে সামান্য কাজ করেই অর্থের অভাবে বন্ধ গেলেও বর্তমান ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কাজ শুরু করলেও এখন তা মাঝ সম্পন্ন হয়নি। উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ শত মুক্তিযোদ্ধার প্রানের দাবী অচিরেই যাতে কালের স্বাক্ষী বধ্যভূমি ও গনকবরের স্মৃতি সংরক্ষ করা হয়। রাজাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিবসটি পালনের লক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গহন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» রোহিঙ্গাদের কারণে বনাঞ্চলের ক্ষতি হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

» নুসরাত হত্যা: ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির

» নিখোঁজের ১১ দিন পর ময়মনসিংহ থেকে সোহেল তাজের ভাগ্নে উদ্ধার

» বান্দরবানে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

» ভারতের বিহার প্রদেশে খালি পেটে লিচু খাওয়ার পর ১০৩ শিশুর মৃত্যু

» বড়লেখায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» শনিবার ৪ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন এ প্লাস

» আগৈলঝাড়ায় ১১শ’ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

» বিশালতা : মোঃ জুমান হোসেন

» ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত-ভিটাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাজাপুর মুক্ত দিবস আজ, ৪৬ বছরেও সংরক্ষিত হয়নি বধ্যভূমি-গণকবরসহ স্মৃতি বিজরিত ৭টি স্থান

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

জাকির সিকদার, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: আজ ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১ সনের এ দিনে বরিশাল বিভাগের ৯নং সেক্টরের মধ্যে ঝালকাঠির রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে।

 

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আতœসমর্পণ করে। শত্রু মুক্ত হয় রাজাপুর থানা, বন্ধ হয় গনহত্যা। রাজাপুর থানা মুক্ত হওয়ার ১৫ দিন পূর্বে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ও বাবুল হোসেন পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন। ১৯৭১ সনের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর আন্তানায় আক্রমন চালায়, শুরু হয় গুলি পাল্টা গুলি। ২৩ নভেম্বর ভোর রাত ৪ টার দিকে পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আতœসর্মপন করতে বাধ্য হয়। এ দিনের যুদ্ধে শহীদ হন আবদুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক এবং গুরুতর আহত হন মোঃ হোসেন আলীসহ কমপক্ষে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

 

সে দিনের এ যুদ্ধে ৩’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৯নং সেক্টরের অন্যতম সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর। এ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর’র পায়ের গোড়ালি গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার এ বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওম কে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজাপুর থানা শত্রু মুক্ত হওয়ায় ১৯৯৫ সালে রাজাপুরে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্র। এছাড়া শহীদের স্মরনে তাদের নামানুসারে রাজাপুরে কয়েকটি সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও রাজাপুর উপজেলায় যুদ্ধকালিন স্মৃতি বিজরিত ২টি বধ্যভূমি ও ৩টি গনকবরসহ ৭টি স্থান আজও অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উদ্যোগের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এসব স্থানগুলো। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা ঘাটের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় প্রায় ৭’শ থেকে ৮’শ নীরিহ মানুষকে হত্যা করা হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম) এর বাড়ীর সামনের বধ্যভূমিতে আরো প্রায় ২’শ লোককে হত্যা করা হয়। এছাড়াও শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ায় ২০১০ সালেু দুইটি গনকবর পাওয়া যায়।

 

যাহার একটি থেকে অনেক মানুষের হাড্ডি উদ্ধার হয় এবং সাতুরিয়ার তারাবুনিয়া গ্রামে একটি (অখননকৃত) গনকবরের সন্ধান দেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কাঠিপাড়ার শহীদ পরিবারগুলো আজ স্বীকৃতি পায়নি। উপজেলার প্রবেশ মূখে বাঘড়ী বাজারের খাল সংলগ্ন থানা ঘাটের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমিটি ২০০৯ সালে তৎকালীন ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের কাজ শুরু হয় মাত্র দুই টন টি.আর এর অর্থ ও ব্যক্তিগত সাহায্যের অনুদানে। পরে সামান্য কাজ করেই অর্থের অভাবে বন্ধ গেলেও বর্তমান ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কাজ শুরু করলেও এখন তা মাঝ সম্পন্ন হয়নি। উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ শত মুক্তিযোদ্ধার প্রানের দাবী অচিরেই যাতে কালের স্বাক্ষী বধ্যভূমি ও গনকবরের স্মৃতি সংরক্ষ করা হয়। রাজাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিবসটি পালনের লক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গহন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited