শৈলকুপায় নালশে পীঁপড়ার ডিম বিক্রি করে চলে কালামের ৬ জনের সংসার!

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কালাম হোসেন। তিনি লালশো (নালশে) বা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

 

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজনগর গোরস্থানের পাশের দেখা যায় একটা লম্বা বাঁশ ও থলে হাতে এক যুবক গাছে গাছে তন্ন তন্ন করে কি যেন খুজে ফিরছে? কৌতুহল বশতঃ তার কাছে গিয়ে জানা যায় তার নাম কামাল হোসেন। সে লালশো বা লাল পিঁপড়া বাসার খোঁজ করছে। তবে যেমন তেমন বাসা হলে চলবে না; চাই ডোল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমান সাদা রঙের ডিম। এই পিঁপড়ার ডিমই যে তার জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার। কালাম হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত রইনা, মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশিয় গাছ গুলোতেই ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়।

 

লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তার ডিম পারে। বড় বাসা থেকে ১’শ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

 

এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কের সাথে করতে হয়। কারণ ডিম আস্ত না রাখলে মাছে খাই না। কালাম হোসেন জানান, লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম প্রতি কেজি ৭ শত টাকা থেকে শুরু করে ১২ শত টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণ সৌখিন মাছ শিকারীরা তার কাছ থেকে এই ডিম ক্রয় করে থাকেন। এই ডিম মাছেদের খুব প্রিয় খাবার। বরশিতে আটা-ময়দা-পাউরুটি, একানির মত আধারের সঙ্গে লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম দেয়া হলে বড় মাছেরা সহজে টোপ গেলে। এইজন্য যারা সৌখিন মাছ শিকারি বা টিকিটের কিনে মাছ শিকার করে তাদের কাছে জনপ্রিয় টোপ পিঁপড়ার ডিম।

 

পানির নির্দিষ্ট স্থানে আধার ফেলে মাছ ডেকে আনার জন্য এই ডিমের চাহিদা রয়েছে জেলেদের কাছেও। এই জন্য অনেক সময় জেলেরা তাদের কাছ থেকে ডিম কিনে থাকেন। কালাম আরো জানান, তিনি গরিব মানুষ। এই কাজে কোন পুঁজি লাগে না। এজন্য তিনি এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন। সারাদিনে সে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারেন। আর তাতেই চলে বাবা-মা- স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাদের ৬ জনের সংসার।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» সোফায় ঝড় তুললেন ঝুমা বৌদি, ভা’ইরাল ছবি

» টাঙ্গাইলে ঘরে ঢুকে অন্তঃসত্ত্বা মা-মেয়েকে গলাকেটে হ’ত্যা

» অবশেষে নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০হাজার টাকা চুক্তিতে এসে ৮ ভুয়া সাংবাদিক ধরা

» মেক্সিকোতে সাড়ে ৫ হাজার লোকের ইসলাম গ্রহণ

» আবরার হ’ত্যা: কারাগারে পিটুনির শিকার অনিক

» গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে ১৮ নারী-পুরুষ আপত্তিকর অবস্থায় আটক

» বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় কিছু ছাত্র সংগঠন ক্ষুব্ধ

» বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ সিলগালা

» আফ্রিকায় মসজিদে ভয়াবহ হামলায় ১৬ জনের মৃত্যু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শৈলকুপায় নালশে পীঁপড়ার ডিম বিক্রি করে চলে কালামের ৬ জনের সংসার!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কালাম হোসেন। তিনি লালশো (নালশে) বা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

 

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজনগর গোরস্থানের পাশের দেখা যায় একটা লম্বা বাঁশ ও থলে হাতে এক যুবক গাছে গাছে তন্ন তন্ন করে কি যেন খুজে ফিরছে? কৌতুহল বশতঃ তার কাছে গিয়ে জানা যায় তার নাম কামাল হোসেন। সে লালশো বা লাল পিঁপড়া বাসার খোঁজ করছে। তবে যেমন তেমন বাসা হলে চলবে না; চাই ডোল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমান সাদা রঙের ডিম। এই পিঁপড়ার ডিমই যে তার জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার। কালাম হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত রইনা, মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশিয় গাছ গুলোতেই ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়।

 

লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তার ডিম পারে। বড় বাসা থেকে ১’শ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

 

এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কের সাথে করতে হয়। কারণ ডিম আস্ত না রাখলে মাছে খাই না। কালাম হোসেন জানান, লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম প্রতি কেজি ৭ শত টাকা থেকে শুরু করে ১২ শত টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণ সৌখিন মাছ শিকারীরা তার কাছ থেকে এই ডিম ক্রয় করে থাকেন। এই ডিম মাছেদের খুব প্রিয় খাবার। বরশিতে আটা-ময়দা-পাউরুটি, একানির মত আধারের সঙ্গে লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম দেয়া হলে বড় মাছেরা সহজে টোপ গেলে। এইজন্য যারা সৌখিন মাছ শিকারি বা টিকিটের কিনে মাছ শিকার করে তাদের কাছে জনপ্রিয় টোপ পিঁপড়ার ডিম।

 

পানির নির্দিষ্ট স্থানে আধার ফেলে মাছ ডেকে আনার জন্য এই ডিমের চাহিদা রয়েছে জেলেদের কাছেও। এই জন্য অনেক সময় জেলেরা তাদের কাছ থেকে ডিম কিনে থাকেন। কালাম আরো জানান, তিনি গরিব মানুষ। এই কাজে কোন পুঁজি লাগে না। এজন্য তিনি এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন। সারাদিনে সে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারেন। আর তাতেই চলে বাবা-মা- স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাদের ৬ জনের সংসার।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited