বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া: “পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল” কবি গুরুর এই লাইনটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মত মনে হয়। এক সময এ অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙ্গত পাখির কলতানে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এখন এসব এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ শুনে। জলবায়ু প্রভাব জনিত ও বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা থেকে বহু প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ব্যবহারে এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের ফলে পাখির প্রজনন স্থল ধ্বংস হতে বসেছে। এছাড়া শিকারিদের ফাঁদে পরে একের পর এক পাখি মারা পরছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার প্রত্যান্ত গ্রাম অঞ্চলের থেকে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ অঞ্চলের মাঠে-ঘাটে বনে জঙ্গলে ও নদী নালায় দোয়েল, কোয়েল, ময়না, শ্যামা, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেচাঁ, চড়াঁই, মাছরাঙ্গা, ঘুঘু, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌরি, বুলবুলি, চাতক, বাবই, বক, বউকথাকও, হলোদিয়া, কুকো, টুনটুনি, ফিঙ্গে পাখির অবাধ বিচরন ছিলো। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এরই সাথে সাথে এ অঞ্চল থেকে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। এছাড়া জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে করনে শ্যামল প্রকৃতিকে মুগ্ধ সুষ্মাময় দৃশ্য আর পাখ-পাখালীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

 

পাখি গবেষনা সংস্থা উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায়া মোট ৭৪৪টি পাখি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখিও অন্তর্ভুক্ত এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। পাখির মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশে বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে বলে উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বন্যপ্রানির বিষয়ক শিক্ষা, গবেষনা ও গনসচেতনতা সৃষ্টির স্বিকৃতি সরুপ বঙ্গবদ্ধু এ্যায়াড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ২০১৪ পুরুস্কার প্রাপ্ত মো.হান্নান খান জানান, অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাতœক বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এছাড়া পাখিদের খাদ্যের অভাব, শব্দ দূষন, মানব সৃষ্ট পরিবেশ বিনষ্ট, প্রজননের আনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া বহু প্রজাতি পাখি বিলুপ্তির পথে। অনুকূক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পাখির অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিয়েছি।

 

তবে পাখি শিকার বন্ধ এবং হান্নানের মত যদি গ্রামাঞ্চলের সব মানুষ পাখিার অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিতে তা হলে দিনে দিনে দেশে পখির সংখ্যা বারতো বলে মনে করেন পাখি প্রেমিকরা।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

» আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে- জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের র‌্যালী ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মানবাধিকারের মূলনীতি বাংলাদেশ সংবিধানে আছে, বাস্তবে কিছুই নেই – মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান

» আত্রাইয়ে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

» সমুদ্রের মঝে নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি।। পাখির কোলাহল আর লাল কাকড়ার লুকোচুরিতে মুখরিত চর বিজয়

» বেনাপোলে শত্রুতা জেরে চাষির ক্ষেতের ফসল আগুনে পুড়ালো দূর্বত্তরা

» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার-১

» কলাপাড়ায় রোকেয়া দিবস উদযাপন।। পাঁচ জয়ীতাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

» কলাপাড়ায় দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন

» মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক দুর্ণীতি বিরোধী দিবস- ২০১৯ পালিত

» সবুজ সংকেত পেলেই তবে দিবারাত্রির টেস্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া: “পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল” কবি গুরুর এই লাইনটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মত মনে হয়। এক সময এ অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙ্গত পাখির কলতানে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এখন এসব এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ শুনে। জলবায়ু প্রভাব জনিত ও বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা থেকে বহু প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ব্যবহারে এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের ফলে পাখির প্রজনন স্থল ধ্বংস হতে বসেছে। এছাড়া শিকারিদের ফাঁদে পরে একের পর এক পাখি মারা পরছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার প্রত্যান্ত গ্রাম অঞ্চলের থেকে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ অঞ্চলের মাঠে-ঘাটে বনে জঙ্গলে ও নদী নালায় দোয়েল, কোয়েল, ময়না, শ্যামা, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেচাঁ, চড়াঁই, মাছরাঙ্গা, ঘুঘু, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌরি, বুলবুলি, চাতক, বাবই, বক, বউকথাকও, হলোদিয়া, কুকো, টুনটুনি, ফিঙ্গে পাখির অবাধ বিচরন ছিলো। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এরই সাথে সাথে এ অঞ্চল থেকে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। এছাড়া জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে করনে শ্যামল প্রকৃতিকে মুগ্ধ সুষ্মাময় দৃশ্য আর পাখ-পাখালীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

 

পাখি গবেষনা সংস্থা উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায়া মোট ৭৪৪টি পাখি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখিও অন্তর্ভুক্ত এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। পাখির মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশে বর্তমানে বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে বলে উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

বন্যপ্রানির বিষয়ক শিক্ষা, গবেষনা ও গনসচেতনতা সৃষ্টির স্বিকৃতি সরুপ বঙ্গবদ্ধু এ্যায়াড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ২০১৪ পুরুস্কার প্রাপ্ত মো.হান্নান খান জানান, অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ মারাতœক বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এছাড়া পাখিদের খাদ্যের অভাব, শব্দ দূষন, মানব সৃষ্ট পরিবেশ বিনষ্ট, প্রজননের আনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া বহু প্রজাতি পাখি বিলুপ্তির পথে। অনুকূক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পাখির অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিয়েছি।

 

তবে পাখি শিকার বন্ধ এবং হান্নানের মত যদি গ্রামাঞ্চলের সব মানুষ পাখিার অভায়াশ্রম (বাসা) তৈরি করে দিতে তা হলে দিনে দিনে দেশে পখির সংখ্যা বারতো বলে মনে করেন পাখি প্রেমিকরা।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited