পুলিশ বাহিনীকে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চান-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চান।তাদেরকে আরও পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

 

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি জোর দিতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭)রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগদানের পর তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৩৪তম বিসিএসের ১৪১ কর্মকর্তা পুলিশ অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। এর মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন। নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশমাতৃকাকে ভালোবেসে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে পূর্বসূরিদের অনুসরণ করতে নতুন পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশ বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে সারদা পুলিশ একাডেমিরও বিশেষ ভূমিকা আছে। এখানে ২৪ জন কর্মকর্তা শহীদ হন।’ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেয়া সব পুলিশের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

স্বাধীনতার পর পুলিশ বাহিনীকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম দরকার আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা। এজন্য আমরা সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ এ সময় তিনি পুলিশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা জানান, পুলিশ যেন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এজন্য তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তাদের পদ-পদবিও উন্নীত করা হয়েছে। পুলিশের কল্যাণে সরকারের আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় পুলিশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশকে আরও উন্নত, পেশাদার ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশের পুলিশ। শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামেই নয়, দেশের সংকটময় মুহূর্তে দেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন। পুলিশের এমন আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। পরে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের অভিবাদনও গ্রহণ করেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার পবা উপজেলার হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। ওই জনসভা থেকে তিনি রাজশাহীর বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদার প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এনডিসি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক কে এম শহীদুল হক। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» আমরা তো ডুবেছিই, এবার বাংলাদেশকে ডুবাবো

» রেস্টুরেন্টের গোপন কক্ষে অসামাজিক কাজ, ৩ তরুণীসহ আটক ১১

» বুদ্ধির জোরে ৩ শতাধিক ট্রেনযাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন শাহান মিয়া

» সম্মাননা ক্রেষ্ট হাতে পেয়ে খুশিতে কেঁদে দিলেন আওয়ামীলীগ প্রবীন নেতা রনধীর দত্ত

» কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ৫, আহত আড়াই শতাধিক

» রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কি?

» বাংলাদেশের বিপুল খেলাপি ঋণ আদায় হচ্ছে না যে কারণে

» ২০২১ সাল থেকে বাধ্যতামূলক হবে কারিগরি শিক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

» ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই গ্রেফতার

» কলাপাড়া উপজেলা সমিতি ঢাকা’র উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুলিশ বাহিনীকে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চান-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চান।তাদেরকে আরও পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

 

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি জোর দিতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭)রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগদানের পর তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৩৪তম বিসিএসের ১৪১ কর্মকর্তা পুলিশ অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। এর মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন। নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশমাতৃকাকে ভালোবেসে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে পূর্বসূরিদের অনুসরণ করতে নতুন পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশ বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে সারদা পুলিশ একাডেমিরও বিশেষ ভূমিকা আছে। এখানে ২৪ জন কর্মকর্তা শহীদ হন।’ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেয়া সব পুলিশের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

স্বাধীনতার পর পুলিশ বাহিনীকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম দরকার আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা। এজন্য আমরা সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ এ সময় তিনি পুলিশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা জানান, পুলিশ যেন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এজন্য তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তাদের পদ-পদবিও উন্নীত করা হয়েছে। পুলিশের কল্যাণে সরকারের আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় পুলিশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশকে আরও উন্নত, পেশাদার ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশের পুলিশ। শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামেই নয়, দেশের সংকটময় মুহূর্তে দেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন। পুলিশের এমন আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। পরে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের অভিবাদনও গ্রহণ করেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার পবা উপজেলার হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। ওই জনসভা থেকে তিনি রাজশাহীর বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদার প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এনডিসি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক কে এম শহীদুল হক। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited