বনশ্রীতে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

Spread the love

রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীতে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ এনে সহস্রাধিক বস্তিবাসী বাড়িটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ৭ তলা ওই বাড়ির জানালা-দরজার কাঁচ ভাঙচুর করেছে। বাড়ির পাশে রাখা একটি প্রাইভেটকার জ্বালিয়ে দিয়েছে। বস্তিবাসীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম, এসআই আফজাল হোসেন ও এসআই মঞ্জুর রহমানসহ অন্তত ১০ পুলিশ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ৫০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুঁড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বনশ্রীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি ঘিরে এসব ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির মালিক মাইনুদ্দীন মুন্সী কাস্টমসের সাবেক সুপার ছিলেন। তিনি বর্তমানে বেসরকারি নাসির গ্রুপে কর্মরত। পুলিশ গৃহকর্তা ও বাড়ির ম্যানেজার টিপুকে আটক করেছে। খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, লাইলী বেগম খিলগাঁওয়ের ভূইয়াপাড়ার হিন্দুপাড়া বস্তিতে থাকতেন। তিনি বনশ্রীর মাইনুদ্দীন মুন্সীর বাড়িতে ছুটা বুয়া হিসাবে কাজ করতেন। প্রতিদিন সকালে তার বাসায় গিয়ে রান্না ও ঘর পরিষ্কার করতেন। আজ সকাল ১০টার দিকে গৃহকর্তা পুলিশকে ফোন করে জানায় যে তার বাসার ছুটা বুয়া বাড়ির নিচতলায় দারোয়ানের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় ওই বাড়ির সামনে তখন পর্যন্ত শতাধিক বস্তিবাসী ঘেরাও করে রেখেছে। তারা পুলিশকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি।

এদিকে, হিন্দুপাড়া বস্তির বাসিন্দা আফরোজা বেগম জানান, লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দী। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার কাশীপুর গ্রামে লাইলীর বাড়ি। মরিয়ম (৫) ও আতিক (২) নামে লাইলীর দুইটি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে একটি সন্তান মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। সবমিলিয়ে লাইলী ছুটা বুয়ার কাজ করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চলত। এরই মধ্যে লাইলীর তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে যায়। বকেয়া বেতনের দাবিতে লাইলী সকাল নয়টার দিকে ওই বাড়িতে যান। সাত তলা বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে গৃহকর্তা থাকেন। বেতন চাইলে গৃহকর্তা তাকে গালমন্দ করে বাসা থেকে বের করে দেন। বাড়ির নীচতলায় আসার পর দারোয়ান দিয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারানো হয়। এতে সেখানেই লাইলী অচেতন হয়ে পড়ে যান। পড়ে বাড়ি থেকে একটি হাসপাতালে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই লাইলী না ফেরার দেশে চলে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বনশ্রীর আশেপাশের বিভিন্ন বস্তি থেকে শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকে ওই বাড়ির সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাইলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা জানায়, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। লাইলীর মৃত্যুর খবরে বস্তিবাসীরা ওই বাড়ির সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। থেমে থেমে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে ওই বাড়ির জানালা-দরজার বেশিরভাগ কাঁচ ভেঙে গেছে। বেলা ১২টার দিকে বস্তিবাসীরা বাড়ির প্রবেশ দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে বস্তিবাসীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বস্তিবাসীরাও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে সেখানে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এডিসি সাইফুল ইসলাম বস্তিবাসীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তার ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বেলা তিনটার দিকে বস্তিবাসীরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে বাড়ির চারদিক হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রবেশগেটের ছোট গেটটি ভেঙে যায়।

সাত তলা ওই বাড়ির নীচতলায় একটি অংশ গাড়ির পার্কিং। চতুর্থ তলা বাদে বাকি তলায় দুইটি করে পরিবার ভাড়া থাকেন। এদের মধ্যে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ভাড়াটিয়া বাসিন্দা বৃদ্ধ মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জমিলা খাতুন বলেন, ‘আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম গেটে ভেঙে শত শত মানুষ বাড়িতে ঢুকে আগুন জ্বালিয়ে দিবে। আল্লাহ আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কীভাবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আতংকে ছিলাম তা বলা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রন কক্ষে কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বিকাল সোয়া চারটার দিকে জনতা ওই বাড়ির পাশে রাখা একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেললেও প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। প্রাইভেটকারটির মালিক ছিলেন মাইনুদ্দীন মুন্সী। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখানে টেলিফোনের ক্যাবল প্যাঁচানো কাঠের চাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

অপর দিকে, দুপুরেই পুলিশ ওই বাড়ি থেকে গৃহকর্তা ও বাড়ির ম্যানেজারকে আটক করে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের কাছে গৃহকর্তা মাইনু্দ্দীন মুন্সী বলেন, লাইলী বাসায় প্রতিদিন সকালে কাজ করতে আসে। বাসায় এসে নীচতলার একটি রুমের ভিতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ডাকাডাকি করলেও দরজা না খুললে বাড়ির ম্যানেজার টিপুকে তিনি ডেকে পাঠান। তারা ব্যর্থ হলে পরে দরজার খিল ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখতে পান যে লাইলী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। ওই অবস্থায় ওড়না কেটে তাকে নামানো হয়। তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিত্সকরা জানান যে লাইলী মারা গেছেন।

দক্ষিণ বনশ্রী বাড়ির মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে, গৃহকর্তা দারোয়ানকে দিয়ে লাইলীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে লাইলী ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন। হয়তো এভাবেই তিনি মারা যেতে পারেন। তবে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করার বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য পাননি। -সূত্র: ইত্তেফাক

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মানুষ নামের অমানুষগুলো…

» বাউফলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

» আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই উৎপাদনে প্রথম ইউনিট।। ছয় হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ

» জঙ্গী দমনের মত মাদক নির্মূলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো

» ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের জার্সি পরা ওরা কারা?

» সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

» র‍্যাংকিংয়ে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ

» পাকিস্তানের বোলিং তোপে কোণঠাসা নিউজিল্যান্ড

» যশোরের বেনাপোল পুটখালী থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» শ্রমিকদের জন্য হাসপাতল, আবাসন, রেশনিং, শিক্ষা, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ন মৌলিক বিষয়ে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবীতে। মাননীয় স্পিকারের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বনশ্রীতে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীতে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ এনে সহস্রাধিক বস্তিবাসী বাড়িটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ৭ তলা ওই বাড়ির জানালা-দরজার কাঁচ ভাঙচুর করেছে। বাড়ির পাশে রাখা একটি প্রাইভেটকার জ্বালিয়ে দিয়েছে। বস্তিবাসীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম, এসআই আফজাল হোসেন ও এসআই মঞ্জুর রহমানসহ অন্তত ১০ পুলিশ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ৫০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুঁড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বনশ্রীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি ঘিরে এসব ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির মালিক মাইনুদ্দীন মুন্সী কাস্টমসের সাবেক সুপার ছিলেন। তিনি বর্তমানে বেসরকারি নাসির গ্রুপে কর্মরত। পুলিশ গৃহকর্তা ও বাড়ির ম্যানেজার টিপুকে আটক করেছে। খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, লাইলী বেগম খিলগাঁওয়ের ভূইয়াপাড়ার হিন্দুপাড়া বস্তিতে থাকতেন। তিনি বনশ্রীর মাইনুদ্দীন মুন্সীর বাড়িতে ছুটা বুয়া হিসাবে কাজ করতেন। প্রতিদিন সকালে তার বাসায় গিয়ে রান্না ও ঘর পরিষ্কার করতেন। আজ সকাল ১০টার দিকে গৃহকর্তা পুলিশকে ফোন করে জানায় যে তার বাসার ছুটা বুয়া বাড়ির নিচতলায় দারোয়ানের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় ওই বাড়ির সামনে তখন পর্যন্ত শতাধিক বস্তিবাসী ঘেরাও করে রেখেছে। তারা পুলিশকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি।

এদিকে, হিন্দুপাড়া বস্তির বাসিন্দা আফরোজা বেগম জানান, লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দী। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার কাশীপুর গ্রামে লাইলীর বাড়ি। মরিয়ম (৫) ও আতিক (২) নামে লাইলীর দুইটি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে একটি সন্তান মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। সবমিলিয়ে লাইলী ছুটা বুয়ার কাজ করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চলত। এরই মধ্যে লাইলীর তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে যায়। বকেয়া বেতনের দাবিতে লাইলী সকাল নয়টার দিকে ওই বাড়িতে যান। সাত তলা বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে গৃহকর্তা থাকেন। বেতন চাইলে গৃহকর্তা তাকে গালমন্দ করে বাসা থেকে বের করে দেন। বাড়ির নীচতলায় আসার পর দারোয়ান দিয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারানো হয়। এতে সেখানেই লাইলী অচেতন হয়ে পড়ে যান। পড়ে বাড়ি থেকে একটি হাসপাতালে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই লাইলী না ফেরার দেশে চলে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বনশ্রীর আশেপাশের বিভিন্ন বস্তি থেকে শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকে ওই বাড়ির সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাইলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা জানায়, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। লাইলীর মৃত্যুর খবরে বস্তিবাসীরা ওই বাড়ির সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। থেমে থেমে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে ওই বাড়ির জানালা-দরজার বেশিরভাগ কাঁচ ভেঙে গেছে। বেলা ১২টার দিকে বস্তিবাসীরা বাড়ির প্রবেশ দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে বস্তিবাসীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বস্তিবাসীরাও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে সেখানে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এডিসি সাইফুল ইসলাম বস্তিবাসীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তার ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বেলা তিনটার দিকে বস্তিবাসীরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে বাড়ির চারদিক হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রবেশগেটের ছোট গেটটি ভেঙে যায়।

সাত তলা ওই বাড়ির নীচতলায় একটি অংশ গাড়ির পার্কিং। চতুর্থ তলা বাদে বাকি তলায় দুইটি করে পরিবার ভাড়া থাকেন। এদের মধ্যে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ভাড়াটিয়া বাসিন্দা বৃদ্ধ মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জমিলা খাতুন বলেন, ‘আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম গেটে ভেঙে শত শত মানুষ বাড়িতে ঢুকে আগুন জ্বালিয়ে দিবে। আল্লাহ আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কীভাবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আতংকে ছিলাম তা বলা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রন কক্ষে কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বিকাল সোয়া চারটার দিকে জনতা ওই বাড়ির পাশে রাখা একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেললেও প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। প্রাইভেটকারটির মালিক ছিলেন মাইনুদ্দীন মুন্সী। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখানে টেলিফোনের ক্যাবল প্যাঁচানো কাঠের চাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

অপর দিকে, দুপুরেই পুলিশ ওই বাড়ি থেকে গৃহকর্তা ও বাড়ির ম্যানেজারকে আটক করে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের কাছে গৃহকর্তা মাইনু্দ্দীন মুন্সী বলেন, লাইলী বাসায় প্রতিদিন সকালে কাজ করতে আসে। বাসায় এসে নীচতলার একটি রুমের ভিতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ডাকাডাকি করলেও দরজা না খুললে বাড়ির ম্যানেজার টিপুকে তিনি ডেকে পাঠান। তারা ব্যর্থ হলে পরে দরজার খিল ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখতে পান যে লাইলী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। ওই অবস্থায় ওড়না কেটে তাকে নামানো হয়। তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিত্সকরা জানান যে লাইলী মারা গেছেন।

দক্ষিণ বনশ্রী বাড়ির মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে, গৃহকর্তা দারোয়ানকে দিয়ে লাইলীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে লাইলী ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন। হয়তো এভাবেই তিনি মারা যেতে পারেন। তবে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করার বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য পাননি। -সূত্র: ইত্তেফাক

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited