প্রতিরোধ প্রস্তুতির অভাবই চিকুনগুনিয়ার প্রকোট হয়েছে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আমরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সবাই জানি। সাধারণত বর্ষা কালে এ রোগের পার্দুভাব দেখা যায়। যার ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত জ্বর। এডিস মশার মাধ্যমে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়। এডিস মশা বৈচিত্রের অধিকারী।

 

এডিস মশার মাধ্যমে জিকা ও চিকুনগুনিয়া নামে আরো দুই ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। আমাদের আজকের এই উপস্থাপিত বিষয় চিকুনগুনিয়া। মেজাম্বিকের ভাষায় চিকুনগুনিয়া অর্থ “বাঁকা হয়ে যাওয়া” জ্বরে হাড়ের জোড় গুলো ফুলে যাওয়া জন্য এই নামকরণ। চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত অসহনীয় ব্যথাসম্বলিত যন্ত্রণাদায়ক জ্বর।

 
১৯৫২ সালে আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব তানজানিয়া ও  উত্তর মোজাম্বিক বর্ডার এলাকায় মাকন্ডি জাতীর মধ্যে সর্বপ্রথম এই রোগটি দেখা দেয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশের ইহার বিস্তার ঘটে ২০০৮ সালে। ২০০৬ সালে ভারতে কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়, ২০০৭ সালে ইতালি, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রোগটির পার্দুভাব ছিল ভয়াবহ। ২০১৫ সালে আমেরিকার বহু দেশে রোগটির ভয়াবহতার টের পাওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০ টি দেশে রোগটির পার্দুভাব রয়েছে।

 
চিকনগুনিয়ার লক্ষন সমূহ:
    সংক্রামিত এডিস মশা কামড়ানোর ৩-৭ দিন পর চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
    সাধারণত জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথা  হয়। জ্বরের পাশাপাশি রোগির শরীরে তীব্র ব্যথা
    এছাড়া মাথা ব্যাথা, মাংস পেশীতে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া।
    রোগির বমি বমি ভাব এবং শারীরিক দুর্বলতা।
    তবে নবজাতক ও বয়স্ক মানুষেরা অনেক বেশী ঝুঁকিতে থাকে।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
সুতরাং চিকুনগুনিয়া সাধারণ কোনো বিষয় না। একটা পরিবারে এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে সেই পরিবারে বিপর্যয় দেখা দেয়। কর্মক্ষমরা আক্রান্ত হলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। আর ভুক্তভুগির কষ্টের অভিজ্ঞতা নিদারুন বেদনাদায়ক। চিকুনগুনিয়া আজ এক অতঙ্কের নাম। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সময়মত  প্রায় নিশ্চুপ ছিলেন।

 

রাজধানীতে সবচেয়ে বড় জনসাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকুনগুনিয়া। রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে মশাবাহিত এ ভাইরাস জ্বর ছড়িয়ে পরেছে অন্যান্য জেলায়ও। যেমন নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও জয়পুর হাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ঘরে ঘরে মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও একে মহামারী বলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর এ রোগ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরশনের অবহেলাকে দায়ী করেছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, “সিটি কর্পোরশন সময় মত মশা মারেনি বলে চিকনগুনিয়া বেড়ে গেছে”।

 

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব সাঈদ খোকন ঢাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য ওয়াসাকে দায়ী করেন। এখন মেয়র সাহেব মশা বেড়ে যাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করবেন। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরশনের মেয়র মহোদয় গুছিয়ে সুন্দরভাবে কথা বলেন। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে তাদের বক্তব্য অনুপস্থিত। অথচ জন প্রতিনিধি হিসেবে তাদের তৎপরতা ও কার্যকর ব্যবস্থা কোন কিছুই দৃশ্যমান নয়। অথচ সমকালের প্রতিবেদনে দেখা যায়। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এক বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মশা মারার জন্য ব্যয় করেছেন। তারা এই মশা মারার কাজটি করেছেন ঢাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে। ফলে ৩৫ কোটি ব্যয় হয়েছে কিন্তু মশা নিধন হয় নি। সুতরাং মশা নিধনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বলেই প্রতিয়মান হয়। আমরা দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত যেমন, যানজট, জলাবদ্ধতা, ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা, খাবার পানির সমস্যা, গ্যাসের অপ্রতুলতা ইত্যাদির কারণে ঢাকাবাসি নাকাল। তার উপর মশা নিধনের টাকা লোপাট।

 
ইতি মধ্যে টেলিভিশনে দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের মেয়ের সাঈদ খোকনের একটি বিজ্ঞাপন আমাদের চোখে পড়েছে। সেখানে নাগরিকদের সচেতনার কথা বলেছেন। এতে ঢাকাবাসী কতটা উপকৃত হয়েছে তা মেয়র সাহেবই বুঝতে পেরেছেন। নাগরিকদের এই বিপর্যয়ে দুই মেয়রের চেষ্টা যা বিস্ময়কর! আমরা তাদেরকে জনগনের পাশে দেখতে চাই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মশা নিধনের টাকা চুরি অভিযোগ জোরালো হোক তা চাই না। তারা ব্যাখ্যা করে বলুন কেন এডিস মশা নিধন করতে সিটি কর্পোরেশন ব্যর্থ হল। এটা অবশ্যই তাদের দায়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
লক্ষণীয় এই যে, যখনই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে তখনই নাগরিকরা নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার অভিজান চালাত। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ নেই নাগরিকদের কাছ থেকে। তাহলে নাগরিকরা কি সরকারের প্রতি বিরক্ত? সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে আশা করি। অতি দ্রুত চিকুনগুনিয়া থেকে নাগরিকদের উদ্ধার করবে। এডিস মশা বংশ বিস্তার করে যেমন: ছাদে, বিভিন্ন ধরনের টবে, অপ্রয়োজনীয় পাত্রে, ডাবের খোসায়, ডাবের ভাঙা প্লাষ্টিকের বোতলে। আমাদের উচিৎ পুরনো কোনো আসবাবপত্রে কোথাও পানি জমিয়ে থাকিতে না দেওয়া। কেননা, জমিয়ে থাকা পরিস্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। এই রোগের প্রতিকার বিষয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচারণারও চালাতে হবে। ডেঙ্গু সংক্রামণ রোধে প্রশাসন ও জনগনের সম্মিলিত উদ্যোগে যে সাফল্য আনিয়া দিয়াছে এই ক্ষেত্রেও তাহার অন্যথা হইবার কোনো কারণ নেই।
নিজ উদ্যোগে আমাদের বাসস্থানের চারপাশের পরিবেশ এডিস মশার বিস্তারের স্থানগুলো অপসারণ করি। পরিশেষে সরকারের উপরে নির্ভর না করে আজই আমরা মাঠে নেমে পরি। আপনারা কষ্ট করে আমাদের সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন এজন্য আপনাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মোঃ আমিনুল ইসলাম বুলু
আহবায়ক
জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটি
স্থান: পল্লবীস্থ শেখ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সমুখে ঢাকাতে সংবাদ সম্মেলেনে চিকুনগুনিয়ার সর্ম্পকে তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মোঃ বাচ্চু বেপারী, শেখ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন রনি, জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, মো: গিয়াস উদ্দীন, ইব্রাহীম হাসান মিঠু, মাহবুব হাসান, জহির আহমেদ বাবু, মো: শওকত হাসান, মো: আফজাল হোসেন, নুর ইসলাম, মো: সালাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় ও সিও সংস্থার আয়োজনে কারাবন্দীদের সাথে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা

» ঝিনাইদহে গোয়েন্দা পুলিশের সফল অভিযানে একাধিক মামলার আসামি দেশীয় ওয়ান শুটারগান ও গুলি সহ গ্রেফতার

» মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবসায়ী আহত

» রাম আদালত সক্রিয়করণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে – জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান

» ঝালকাঠিতে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে আমনের বীজ বিতরন

» “ন্যাশনাল সার্ভিস ১ম-৪র্থ পর্বের কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ এবং চলমান কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করে স্থায়ী কর্মসংস্থান প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ও ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে” মানববন্ধন

» যশোরের বেনাপোল দৌলতপুর সীমান্তে ফেন্সিডিল মহিলাসহ আটক-২

» শার্শা থানার এসআই মামুন লুঙ্গী,গেঞ্জি পড়ে ছদ্ববেশে খুনের আসামীকে গ্রেফতার করলেন

» চলতি বাজেটে মুঠোফোনে বর্ধিত কর বাতিলের দাবিতে গণসমাবেশ

» রংপুরে ঘুষ নেয়ার ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল পুলিশ, ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রতিরোধ প্রস্তুতির অভাবই চিকুনগুনিয়ার প্রকোট হয়েছে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ সংবাদ সম্মেলন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আমরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সবাই জানি। সাধারণত বর্ষা কালে এ রোগের পার্দুভাব দেখা যায়। যার ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত জ্বর। এডিস মশার মাধ্যমে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়। এডিস মশা বৈচিত্রের অধিকারী।

 

এডিস মশার মাধ্যমে জিকা ও চিকুনগুনিয়া নামে আরো দুই ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। আমাদের আজকের এই উপস্থাপিত বিষয় চিকুনগুনিয়া। মেজাম্বিকের ভাষায় চিকুনগুনিয়া অর্থ “বাঁকা হয়ে যাওয়া” জ্বরে হাড়ের জোড় গুলো ফুলে যাওয়া জন্য এই নামকরণ। চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত অসহনীয় ব্যথাসম্বলিত যন্ত্রণাদায়ক জ্বর।

 
১৯৫২ সালে আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব তানজানিয়া ও  উত্তর মোজাম্বিক বর্ডার এলাকায় মাকন্ডি জাতীর মধ্যে সর্বপ্রথম এই রোগটি দেখা দেয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশের ইহার বিস্তার ঘটে ২০০৮ সালে। ২০০৬ সালে ভারতে কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়, ২০০৭ সালে ইতালি, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রোগটির পার্দুভাব ছিল ভয়াবহ। ২০১৫ সালে আমেরিকার বহু দেশে রোগটির ভয়াবহতার টের পাওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০ টি দেশে রোগটির পার্দুভাব রয়েছে।

 
চিকনগুনিয়ার লক্ষন সমূহ:
    সংক্রামিত এডিস মশা কামড়ানোর ৩-৭ দিন পর চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
    সাধারণত জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথা  হয়। জ্বরের পাশাপাশি রোগির শরীরে তীব্র ব্যথা
    এছাড়া মাথা ব্যাথা, মাংস পেশীতে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া।
    রোগির বমি বমি ভাব এবং শারীরিক দুর্বলতা।
    তবে নবজাতক ও বয়স্ক মানুষেরা অনেক বেশী ঝুঁকিতে থাকে।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
সুতরাং চিকুনগুনিয়া সাধারণ কোনো বিষয় না। একটা পরিবারে এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে সেই পরিবারে বিপর্যয় দেখা দেয়। কর্মক্ষমরা আক্রান্ত হলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। আর ভুক্তভুগির কষ্টের অভিজ্ঞতা নিদারুন বেদনাদায়ক। চিকুনগুনিয়া আজ এক অতঙ্কের নাম। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সময়মত  প্রায় নিশ্চুপ ছিলেন।

 

রাজধানীতে সবচেয়ে বড় জনসাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকুনগুনিয়া। রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে মশাবাহিত এ ভাইরাস জ্বর ছড়িয়ে পরেছে অন্যান্য জেলায়ও। যেমন নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও জয়পুর হাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ঘরে ঘরে মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও একে মহামারী বলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর এ রোগ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরশনের অবহেলাকে দায়ী করেছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, “সিটি কর্পোরশন সময় মত মশা মারেনি বলে চিকনগুনিয়া বেড়ে গেছে”।

 

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব সাঈদ খোকন ঢাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য ওয়াসাকে দায়ী করেন। এখন মেয়র সাহেব মশা বেড়ে যাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করবেন। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরশনের মেয়র মহোদয় গুছিয়ে সুন্দরভাবে কথা বলেন। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে তাদের বক্তব্য অনুপস্থিত। অথচ জন প্রতিনিধি হিসেবে তাদের তৎপরতা ও কার্যকর ব্যবস্থা কোন কিছুই দৃশ্যমান নয়। অথচ সমকালের প্রতিবেদনে দেখা যায়। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এক বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মশা মারার জন্য ব্যয় করেছেন। তারা এই মশা মারার কাজটি করেছেন ঢাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে। ফলে ৩৫ কোটি ব্যয় হয়েছে কিন্তু মশা নিধন হয় নি। সুতরাং মশা নিধনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বলেই প্রতিয়মান হয়। আমরা দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত যেমন, যানজট, জলাবদ্ধতা, ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা, খাবার পানির সমস্যা, গ্যাসের অপ্রতুলতা ইত্যাদির কারণে ঢাকাবাসি নাকাল। তার উপর মশা নিধনের টাকা লোপাট।

 
ইতি মধ্যে টেলিভিশনে দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের মেয়ের সাঈদ খোকনের একটি বিজ্ঞাপন আমাদের চোখে পড়েছে। সেখানে নাগরিকদের সচেতনার কথা বলেছেন। এতে ঢাকাবাসী কতটা উপকৃত হয়েছে তা মেয়র সাহেবই বুঝতে পেরেছেন। নাগরিকদের এই বিপর্যয়ে দুই মেয়রের চেষ্টা যা বিস্ময়কর! আমরা তাদেরকে জনগনের পাশে দেখতে চাই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মশা নিধনের টাকা চুরি অভিযোগ জোরালো হোক তা চাই না। তারা ব্যাখ্যা করে বলুন কেন এডিস মশা নিধন করতে সিটি কর্পোরেশন ব্যর্থ হল। এটা অবশ্যই তাদের দায়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
লক্ষণীয় এই যে, যখনই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে তখনই নাগরিকরা নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার অভিজান চালাত। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ নেই নাগরিকদের কাছ থেকে। তাহলে নাগরিকরা কি সরকারের প্রতি বিরক্ত? সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে আশা করি। অতি দ্রুত চিকুনগুনিয়া থেকে নাগরিকদের উদ্ধার করবে। এডিস মশা বংশ বিস্তার করে যেমন: ছাদে, বিভিন্ন ধরনের টবে, অপ্রয়োজনীয় পাত্রে, ডাবের খোসায়, ডাবের ভাঙা প্লাষ্টিকের বোতলে। আমাদের উচিৎ পুরনো কোনো আসবাবপত্রে কোথাও পানি জমিয়ে থাকিতে না দেওয়া। কেননা, জমিয়ে থাকা পরিস্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। এই রোগের প্রতিকার বিষয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচারণারও চালাতে হবে। ডেঙ্গু সংক্রামণ রোধে প্রশাসন ও জনগনের সম্মিলিত উদ্যোগে যে সাফল্য আনিয়া দিয়াছে এই ক্ষেত্রেও তাহার অন্যথা হইবার কোনো কারণ নেই।
নিজ উদ্যোগে আমাদের বাসস্থানের চারপাশের পরিবেশ এডিস মশার বিস্তারের স্থানগুলো অপসারণ করি। পরিশেষে সরকারের উপরে নির্ভর না করে আজই আমরা মাঠে নেমে পরি। আপনারা কষ্ট করে আমাদের সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন এজন্য আপনাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মোঃ আমিনুল ইসলাম বুলু
আহবায়ক
জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটি
স্থান: পল্লবীস্থ শেখ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সমুখে ঢাকাতে সংবাদ সম্মেলেনে চিকুনগুনিয়ার সর্ম্পকে তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মোঃ বাচ্চু বেপারী, শেখ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন রনি, জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, মো: গিয়াস উদ্দীন, ইব্রাহীম হাসান মিঠু, মাহবুব হাসান, জহির আহমেদ বাবু, মো: শওকত হাসান, মো: আফজাল হোসেন, নুর ইসলাম, মো: সালাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited