কুলাউড়ায় শিশু ইভা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই কুপিয়ে হত্যা

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শিশু ইভা (৫ মাস) হত্যার ঘটনার প্রায় ৫ বছরের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতিমধ্যে মুল আসামী অর্থাৎ হত্যাকারি ইভার আপন চাচা আবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আবুল মিয়া জানিয়েছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মা (ইভার দাদী বিরু বেগম) এর নির্দেশে ইভাকে গলায় কোপ দিয়ে হত্যা করে। আজ ১৪ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ( পিবিআই ) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসলাম উদ্দিন পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান- কুলাউড়া থানাধীন ভাটেরা ইউনিয়নস্থ ইসলাম নগর গ্রামের মুক্তার মিয়ার ছেলে নিজাম মিয়া (৩৭) ও তার ভাইদের সাথে একই গ্রামের মাসুক মিয়া (৪৫), ও তার ভাইদের সাথে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪/০৮/১২ খ্রিঃ মাসুক মিয়া তার দলবল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে গেলে নিজাম মিয়ার স্ত্রী রুবিনা বেগম তার কন্যা মীমকে কোলে নিয়ে উক্ত বিরোধীয় জমিতে গিয়ে বাধাদানসহ হাল্লা চিৎকার শুরু করলে মাসুক মিয়া ও তার লোকজন রুবিনা বেগমকে মারপিট করে। ইতোমধ্যে মামলার বাদী নিজামের মা বিরু বেগম নিজামের মেয়ে শিশু ইভার (০৫ মাস) লাশ হাতে নিয়ে হাল্লা চিৎকার করতে করতে বিরোধীয় জমির দিকে যেতে থাকে। বিরু বেগম উপস্থিত লোকজনকে বলে যে, মাসুক ও তার লোকজন শিশু ইভাকে হত্যা করেছে। ভয়ে মাসুক মিয়া ও তার লোকজন বিরোধীয় জমি থেকে চলে যায়। সংবাদ পাইয়া কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত রুবিনা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

 

ঐ দিন রাতেই নিহত শিশু ইভার পিতা নিজাম মিয়া বাদী হয়ে মাসুক মিয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অফিসার ইনচার্জ কুলাউড়া থানা সূত্রে বর্ণিত মামলা রুজু করে তৎকালীন এসআই/শ্যামল বণিককে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন। কুলাউড়া থানার এসআই/শ্যামল বণিক (বর্তমানে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) গত ১৪/০৮/১২খ্রিঃ থেকে ০৯/১০/১২খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করে বদলীজনিত কারনে মামলাটি এসআই/দেলোয়ার হোসেন এর উপর ন্যাস্ত করেন। এসআই/দেলোয়ার মামলাটি গত ১১/১০/১২খ্রিঃ থেকে ১৭/০১/১৩খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি তদন্তকালীন সময়ে উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে তদন্ত শেষে কুলাউড়া থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-০৬, তাং-১৭/০১/১৩খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন।

 

উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে বাদী না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য ওসি, কুলাউড়া থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশ নামা ওসি, কুলাউড়া থানা প্রাপ্ত হইয়া মামলাটির তদন্তের জন্য এসআই/ মোঃ ওয়াসিম আল বারীকে নিয়োগ করেন। তিনি মামলাটি গত ২৫/১০/১৩খ্রিঃ থেকে ৩১/০১/১৪খ্রিঃ পর্যন্ত তদন্ত করেন। তদন্তকালীন সময়ে উক্ত তদন্তকারী অফিসার ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে তদন্ত শেষে কুলাউড়া থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-০৮, তাং-৩১/০১/১৪খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী বিজ্ঞ আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য ওসি, জেলা গোয়েন্দা শাখা, মৌলভীবাজারকে নিদের্শ প্রদান করেন।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখা, মৌলভীবাজার এর এসআই/মোঃ মোবারক হোসেন গত ১০/০৬/১৪খ্রিঃ থেকে ২১/০৪/১৫খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি প্রায় ০১ বৎসর যাবৎ মামলাটি পূনরায় তদন্ত করেন। তিনি উক্ত হত্যাকান্ডে কে বা কাহারা জড়িত তা খুজে বের করতে ব্যর্থ হয়ে পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তার ন্যায় তদন্ত শেষে পুনরায় চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-২০, তাং-২১/০৪/১৫খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী বিজ্ঞ আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই, মৌলভীবাজারকে নিদের্শ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গত ০১/০২/২০১৬ তারিখ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিবিআই, মৌলভীবাজার সহ তিনি মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মামলার তদন্তকালে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যগন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে নিজেরাই বাদীর শিশু কন্যা ইভাকে হত্যা করে থাকতে পারে সন্দেহ হয়। হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ও এজাহার নামীয় সাক্ষী বাদীর ভাই অর্থাৎ ভিকটিম ইভার চাচা আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩), পিতা-মুক্তার মিয়া, সাং-ইসলাম নগর, থানা-কুলাউড়া, জেলা-মৌলভীবাজারকে গত ১১/০৭/১৭খ্রিঃ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার উত্তর আলমপুর গ্রাম হতে গ্রেফতার করে পিবিআই মৌলভীবাজার অফিসে নিয়ে আসলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে সে ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে স্বীকার করে। পরের দিন ১২/০৭/১৭খ্রিঃ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩) বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

 

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে তার মা বিরু বেগম তার ভাতিজি ঘুমন্ত শিশু ইভাকে উঠানে রেখে তার হাতে বটি দা দিয়ে কোপ দিতে বলে। তখন উঠানে তার ভাই নিজাম ও রাশেদ উপস্থিত ছিল। সে শিশু ইভার গলায় কোপ দিলে শিশু ইভা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তখন তার মা পানি ঢেলে ঘটনাস্থলের রক্ত পরিস্কার করে। এরপর লাশ হাতে নিয়ে বিরোধীয় জমির দিকে যায়। শিশু ইভা হত্যাকান্ডের মূল আসমী আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩) ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। শীঘ্রই হত্যাকান্ডের জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» রোহিঙ্গাদের কারণে বনাঞ্চলের ক্ষতি হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

» নুসরাত হত্যা: ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির

» নিখোঁজের ১১ দিন পর ময়মনসিংহ থেকে সোহেল তাজের ভাগ্নে উদ্ধার

» বান্দরবানে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

» ভারতের বিহার প্রদেশে খালি পেটে লিচু খাওয়ার পর ১০৩ শিশুর মৃত্যু

» বড়লেখায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» শনিবার ৪ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন এ প্লাস

» আগৈলঝাড়ায় ১১শ’ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

» বিশালতা : মোঃ জুমান হোসেন

» ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত-ভিটাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় শিশু ইভা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই কুপিয়ে হত্যা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শিশু ইভা (৫ মাস) হত্যার ঘটনার প্রায় ৫ বছরের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতিমধ্যে মুল আসামী অর্থাৎ হত্যাকারি ইভার আপন চাচা আবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আবুল মিয়া জানিয়েছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মা (ইভার দাদী বিরু বেগম) এর নির্দেশে ইভাকে গলায় কোপ দিয়ে হত্যা করে। আজ ১৪ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ( পিবিআই ) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসলাম উদ্দিন পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান- কুলাউড়া থানাধীন ভাটেরা ইউনিয়নস্থ ইসলাম নগর গ্রামের মুক্তার মিয়ার ছেলে নিজাম মিয়া (৩৭) ও তার ভাইদের সাথে একই গ্রামের মাসুক মিয়া (৪৫), ও তার ভাইদের সাথে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪/০৮/১২ খ্রিঃ মাসুক মিয়া তার দলবল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে গেলে নিজাম মিয়ার স্ত্রী রুবিনা বেগম তার কন্যা মীমকে কোলে নিয়ে উক্ত বিরোধীয় জমিতে গিয়ে বাধাদানসহ হাল্লা চিৎকার শুরু করলে মাসুক মিয়া ও তার লোকজন রুবিনা বেগমকে মারপিট করে। ইতোমধ্যে মামলার বাদী নিজামের মা বিরু বেগম নিজামের মেয়ে শিশু ইভার (০৫ মাস) লাশ হাতে নিয়ে হাল্লা চিৎকার করতে করতে বিরোধীয় জমির দিকে যেতে থাকে। বিরু বেগম উপস্থিত লোকজনকে বলে যে, মাসুক ও তার লোকজন শিশু ইভাকে হত্যা করেছে। ভয়ে মাসুক মিয়া ও তার লোকজন বিরোধীয় জমি থেকে চলে যায়। সংবাদ পাইয়া কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত রুবিনা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

 

ঐ দিন রাতেই নিহত শিশু ইভার পিতা নিজাম মিয়া বাদী হয়ে মাসুক মিয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অফিসার ইনচার্জ কুলাউড়া থানা সূত্রে বর্ণিত মামলা রুজু করে তৎকালীন এসআই/শ্যামল বণিককে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন। কুলাউড়া থানার এসআই/শ্যামল বণিক (বর্তমানে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) গত ১৪/০৮/১২খ্রিঃ থেকে ০৯/১০/১২খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করে বদলীজনিত কারনে মামলাটি এসআই/দেলোয়ার হোসেন এর উপর ন্যাস্ত করেন। এসআই/দেলোয়ার মামলাটি গত ১১/১০/১২খ্রিঃ থেকে ১৭/০১/১৩খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি তদন্তকালীন সময়ে উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে তদন্ত শেষে কুলাউড়া থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-০৬, তাং-১৭/০১/১৩খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন।

 

উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে বাদী না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য ওসি, কুলাউড়া থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশ নামা ওসি, কুলাউড়া থানা প্রাপ্ত হইয়া মামলাটির তদন্তের জন্য এসআই/ মোঃ ওয়াসিম আল বারীকে নিয়োগ করেন। তিনি মামলাটি গত ২৫/১০/১৩খ্রিঃ থেকে ৩১/০১/১৪খ্রিঃ পর্যন্ত তদন্ত করেন। তদন্তকালীন সময়ে উক্ত তদন্তকারী অফিসার ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে তদন্ত শেষে কুলাউড়া থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-০৮, তাং-৩১/০১/১৪খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী বিজ্ঞ আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য ওসি, জেলা গোয়েন্দা শাখা, মৌলভীবাজারকে নিদের্শ প্রদান করেন।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখা, মৌলভীবাজার এর এসআই/মোঃ মোবারক হোসেন গত ১০/০৬/১৪খ্রিঃ থেকে ২১/০৪/১৫খ্রিঃ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি প্রায় ০১ বৎসর যাবৎ মামলাটি পূনরায় তদন্ত করেন। তিনি উক্ত হত্যাকান্ডে কে বা কাহারা জড়িত তা খুজে বের করতে ব্যর্থ হয়ে পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তার ন্যায় তদন্ত শেষে পুনরায় চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-২০, তাং-২১/০৪/১৫খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩২৩ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। উক্ত চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী বিজ্ঞ আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত না-রাজী আবেদন মঞ্জুর করতঃ অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই, মৌলভীবাজারকে নিদের্শ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গত ০১/০২/২০১৬ তারিখ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিবিআই, মৌলভীবাজার সহ তিনি মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মামলার তদন্তকালে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যগন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে নিজেরাই বাদীর শিশু কন্যা ইভাকে হত্যা করে থাকতে পারে সন্দেহ হয়। হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ও এজাহার নামীয় সাক্ষী বাদীর ভাই অর্থাৎ ভিকটিম ইভার চাচা আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩), পিতা-মুক্তার মিয়া, সাং-ইসলাম নগর, থানা-কুলাউড়া, জেলা-মৌলভীবাজারকে গত ১১/০৭/১৭খ্রিঃ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার উত্তর আলমপুর গ্রাম হতে গ্রেফতার করে পিবিআই মৌলভীবাজার অফিসে নিয়ে আসলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে সে ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে স্বীকার করে। পরের দিন ১২/০৭/১৭খ্রিঃ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩) বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

 

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে তার মা বিরু বেগম তার ভাতিজি ঘুমন্ত শিশু ইভাকে উঠানে রেখে তার হাতে বটি দা দিয়ে কোপ দিতে বলে। তখন উঠানে তার ভাই নিজাম ও রাশেদ উপস্থিত ছিল। সে শিশু ইভার গলায় কোপ দিলে শিশু ইভা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তখন তার মা পানি ঢেলে ঘটনাস্থলের রক্ত পরিস্কার করে। এরপর লাশ হাতে নিয়ে বিরোধীয় জমির দিকে যায়। শিশু ইভা হত্যাকান্ডের মূল আসমী আবুল মিয়া @ আবুল্লা (৩৩) ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। শীঘ্রই হত্যাকান্ডের জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited