হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকার অজ্ঞান পার্টি চক্র সনাক্ত: অন্যতম ১ জন সদস্য পিবিআই ঢাকা মেট্রো কর্তৃক আটক

Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর এলাকার সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্র সনাক্ত ও অন্যতম একজন সদস্য মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮) কে গত ২৬/০৫/২০১৭ খ্রিঃ বিকাল ১৮.২০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মেট্রো এর খুলশী থানাধীন আমবাগান, ভাঙ্গাপুল, টিকেট বিল্ডিং ১ নং গলি আসামীর ভাড়া বাসা হতে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে।

 

ঘটনায় প্রকাশ যে, জনৈক মোঃ হাসান (২০) পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, সাং-দেবত্র, থানা-মটবাড়ীয়া, জেলা-পিরোজপুর, বর্তমানে-বাসা নং-২৩/বি, রোড নং-১০২, গুলশান-০২, গুলশান, ঢাকা অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি গুলশান-২ প্রিভি সেলুন এন্ড এস্পা নামক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। তার ফুফা সিফাত ওমান থেকে ফোন করে জানায় কিছু মালামাল পাঠিয়েছেন, ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা হতে মালামালগুলি গ্রহণ করতে হবে। তাই জনৈক হাসান ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ সকালে মালামাল গ্রহণ করার জন্য বিমানবন্দর যান, সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের ২,৩৬,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য এবং অফিসের কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ৫ টি মোবাইল, ৮ টি পেন ড্রাইভসহ বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্ট পৌছানোর পর ওমানের বিমান আসতে দেরি হবে জেনে এয়ারপোর্টের সামনের মেইন রাস্তায় যাত্রী ছাউনির নিকট ফুটপাতের দোকানে বসে অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় চা খাচ্ছিলেন।

 

একই দোকানে তার পাশে বসে চা খাওয়ার সময় জনৈক কবির নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। তাদের উভয়ের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনার সময় আলমগীর নামে অন্য একজন ব্যক্তি আসলে কবির তাকে তার শ্যালক বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিচয় হওয়ার পর আলমগীর তার ফেসবুক আইডি জেনে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। কবির ও আলমগীর এয়ারপোর্ট থেকে মালামাল গ্রহণ করতে এসেছে জানায়। হাসানের বাড়ী পিরোজপুর জানতে পেরে তাদের বাড়ী ঝালকাঠি বলে জানায়। ফলে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পরে তারা একত্রে এয়ারপোর্টের ভিতরের গাড়ী পার্কিং প্লেসে গিয়ে ঘোরাফেরা করে সময় কাটাতে থাকে। অনুমান দুপুর ১২.৪৫ ঘটিকার সময় গাড়ী পার্কিং এর ২য় তলায় অবস্থানকালে আলমগীর ২৫০ এমএল এর দুটি ফ্রুটো জুস এনে তার সামনেই কর্ক খুলে এবং সে নিজেই একটা খায়। অপর একটি জুস কবিরকে খেতে দেয়।

 

কবির কিছুটা জুস খেয়ে হাসানকে দিলে তিনি খাওয়ার পরপরই মাথায় চক্কর দিলে এয়ারপোর্টের মালামাল বহন করার ট্রলিতে বসে পরেন। তখন তিনি হাতে-পায়ে কোন শক্তি পাচ্ছিলেন না, এমনকি কাউকে ডেকে কিছু বলারও সার্মথ্য ছিল না। তিনি দেখছিলেন যে, কবির এবং আলমগীর তার পকেট থেকে ১০,০০০ টাকাসহ মানিব্যাগ, একটি স্যামসাং জে-৭ মোবাইল ফোনসেট ব্যবহৃত সিমসহ এবং ব্যাগে থাকা ২,৩৬,০০০ টাকা ও একটি আসুজ ল্যাপটপ, ০৫টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল ফোনসেট, ০৮ টি প্যান ড্রাইভ ও একটি ক্যানন ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে যাচ্ছে। নগদ টাকা ও মালামালের সর্ব মোট মূল্য অনুমান-৩,৮৯,০০০ টাকা। তিনি অর্ধচেতন অবস্থায় হাটতে হাটতে ২য় তলার সিড়ির নিকট যান। সেখানে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি তাকে নিয়ে পুলিশ বক্সে যান। পুলিশের নিকট তার অসুস্থ্যতার বিষয় জানালে পুলিশ তার চাচা মাহবুবকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে সাগর ও রনি নামে দুইজন অফিস স্টাফ দুপুর অনুমান ০২.২৫ ঘটিকার সময় এয়ারপোর্ট আসেন। তারা ভিকটিম হাসানকে টক জাতীয় লেবু, তেতুল খাওয়ান।

 

পরে ভিকটিমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে উক্ত আলমগীর এর ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ০১৮৭৯২৬৫৮১২ ফোন নম্বরটি সংগ্রহ করে পরিচয় গোপন রেখে কথা বলে। তাদের ব্যবহৃত ০১৭৯-১৩৪৪৯৩৮, ০১৭১-৫৯৪৪৩৬৮, ০১৭৫৯৬১৩৯৫১, ০১৭৪-৪৫১০১২৩, ০১৯৮৩১৪৭১৩৫, ০১৭৮-৭৪৩৪৪৩২, ০১৭৪৭৯৩৩৪২৫ নম্বরগুলো সংরক্ষণ করেন।

 

উক্ত ঘটনায় মোঃ হাসান বাদী হয়ে ঘটনায় জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানার মামলা নং-২৪ তারিখ-২০/০৫/২০১৭ খ্রিঃ ধারাঃ ৩২৮/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন।

 

বর্ণিত মামলাটি বিমানবন্দর থানায় রুজু হওয়ার পর তদন্তকালীন সময়ে মামলাটি পিবিআই এর উপর তদন্ত ন্যাস্ত হওয়ায় ডিআইজি পিবিআই এর নিদের্শ মতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর তদন্তকারী অফিসার এসআই/মোঃ জুয়েল মিঞা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। পিবিআই ঢাকা মেট্রো, ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব আবুল কালাম আজাদ এর দিক-নির্দেশনায় আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনায় জড়িত হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর এলাকার সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্রের অন্যতম সদস্য সর্ম্পকে তথ্য পাওয়ার পর পরই অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ বশির আহমেদ এর নেতৃত্ত্বে পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর একটি টীম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো এর সহযোগীতায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর উক্ত টীম ২৬/০৫/২০১৭ খ্রিঃ বিকাল ১৮.২০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মেট্রো এর খুলশী থানাধীন আমবাগান, ভাঙ্গাপুল, টিকেট বিল্ডিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত আসামী ১। মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮) কে ১ নং গলিস্থ তার ভাড়া বাসা হতে গ্রেফতার করে। তার নিকট থেকে চোরাইকৃত ৩৫,০০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন সেট, একটি পেন ড্রাইভ এবং তার ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল সেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

 

আটককৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, তার নাম ১। মোঃ আলমগীর মিয়া @ সোহাগ (২৮) পিতা-মৃত হায়দার মিয়া, মাতা-সাগরুন নেছা, সাং-৩৬ জালাল টিলা, পশ্চিমপাড়া, থানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা-সিলেট, বর্তমান বাসা-১ নং গলি, মিজান মিয়ার ভাড়াটিয়া, টিকেট বিল্ডিং, ভাঙ্গাপুল আমবাগান, থানা-খুলশী, চট্টগ্রাম মেট্রো। সে জানায় পলাতক আসামী তাজুল ইসলাম @ কবির এর নেতৃত্ত্বে জাহিদ ও সে বয়ান দিয়ে সহজ সরল মানুষের সাথে মিশে ভাই সর্ম্পক গড়ে তুলে। আলাপ আলোচনার মাঝে ভাইয়ের নিকট কি পরিমান টাকা থাকতে পারে তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাদের সদস্য অপর একজনকে কাছে ডেকে এনে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। বাকী সদস্যরা সাধারণ মানুষ হিসেবে নিকটবর্তী দূরত্বে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কখনো কখনো নিজেদেরকে টার্গেট ভাইয়ের অঞ্চলের লোক বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলে। এরই মধ্যে তাদের একজন উঠে গিয়ে জুস/কোল্ড ড্রিংস/ঝালমুড়ি/চানাচুর/চা/কফি নিয়ে আসে। টার্গেটের সামনেই একজন কোল্ড ড্রিংস এর কর্ক খুলে খেতে থাকে যাতে সন্দেহের সৃষ্টি না হয়। অপরজন কোল্ড ড্রিংস খেতে খেতে টার্গেটের সাথে কথা বলে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। এসুযোগে চক্রের প্রথমজন কৌশলে আঙ্গুলের ফাঁেক রাখা বিশেষ ঔষধ উরংড়ঢ়ধহ-২ এর গুড়া করা পাউডার জুস/কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদির ভিতরে ছেড়ে দেয়। ভিকটিমকে খেতে দিলে তিনি মনে করেন যে তার সামনেই খোলা হয়েছে এবং একজন খেয়েই তাকে দিচ্ছে তাই সহজেই বিশ্বাস করে আপত্তি না করে খেয়ে নেয়। খাওয়ার কিছুক্ষন পরেই ভিকটিম মাথা চক্কর দিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে বসে পরে। ভিকটিমের নিকটে থাকা সর্বস্ব লুটে নেয়ার সময় ভিকটিম চেয়ে চেয়ে দেখে কিন্তু কাউকে ডাকা/চিৎকার করার বোধশক্তি তার থাকে না। আটক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গত ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ তার সহযোগী আসামীদের নিয়ে জনৈক মোঃ হাসানকে জুসের সাথে নেশা জাতীয় ঔষধ খাইয়ে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।

 

এছাড়াও চক্রটি বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডে/রেল স্টেশনে ঘোরা ফেরা করে সিঙ্গেল থাকা কোন যাত্রীকে টার্গেট করে। উক্ত যাত্রী যে অঞ্চলে যাবে নিজেকে সে অঞ্চলের যাত্রী বলে পরিচয় দিয়ে একই বাসে পাশাপাশি টিকেট কেটে বসে। অপরাপর সহযোগীরাও টিকেট নিয়ে উক্ত বাসে যাত্রী হিসেবে উঠে পড়ে। যাত্রাপথে সুবিধামতো সময়ে বিশেষ ঔষধ উরংড়ঢ়ধহ-২ এর গুড়া মেশানো খাবার খাওয়ায়ে যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে পথিমধ্যে নেমে পরে।

 

কখনোবা সেখানে অল্প শিক্ষিত দেখতে সহজ সরল একা থাকা যাত্রীকে টার্গেট করে। তাদেরকে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা চুরি হয়েছে, সামনে চেক পোষ্ট চলছে। টাকা থাকলে লুকিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদের কথা বিশ্বাস করে যাত্রীর কাছে থাকা টাকা বের করে দিলে চক্রটি কাগজে মুড়িয়ে শার্ট/প্যান্টের ভাজে ভাজে রাখা বা লুঙ্গির কোঁচে রাখার কৌশল দেখিয়ে খালি কাগজ মুড়িয়ে দিয়ে টাকা সরিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারী অফিসের পিয়ন/ড্রাইভার পরিচয় দিয়ে যাত্রী সংগ্রহ করে থাকে। পরিচয়ের একপর্যায়ে টার্গেট যাত্রীর গন্তব্য স্থান জেনে নিয়ে বলে আমার সাহেব/স্যারও ওখানে যাবে। আপনি চাইলে আমাদের গাড়ীতে যেতে পারেন। এরই মধ্যে চক্রের এক সদস্য এসে সে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তখন চক্রের সহযোগীকে বলে গাড়ীতে কম্পিউটার আছে আপনার কাছে কি কি আছে বলেন। তা না হলে সাহেব কম্পিউটারে দেখতে পেলে গাড়ীতে নেবে না। একথা শুনে চক্রের সদস্যটি টাকা পয়সা বের করে দিলে চক্রের উক্ত পিয়ন/ড্রাইভার কাগজে মুড়িয়ে টাকা শার্ট/প্যান্টের ভাজে রাখার কৌশল দেখিয়ে রেখে দেয়। একইভাবে টার্গেট ব্যাক্তির টাকা নিয়ে কৌশলে খালি কাগজ প্যান্ট/লুঙ্গির কোঁচে মুড়িয়ে দেয়। তাদেরকে রাস্তায় দাড় করিয়ে গাড়ী আনার কথা বলে চলে যায় এবং সহযোগীও সরে পরে। উক্ত চক্রের আরো একাধিক সদস্যকে চিহ্নিত করা গেছে এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান

» কলাপাড়ায় গাঁজা সহ ব্যবসায়ী আটক

» এবার হাসপাতালে যাওয়ার পথে নার্সকে কুপিয়ে হত্যা

» গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

» খুনির সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির ‘সম্পর্কের তথ্য’ ফাঁস

» দশমিনা-উলানিয়া সড়কের কারপিটিংপিচ উঠে খানা খন্দের সৃষ্টি

» দশমিনায় চাঁই ব্যবহারের ফলে: গল্পেরমত থেকে যাবে দেশী প্রজাতির মাছ

» কলাপাড়ায় গৃহবধু হত্যা মামলায় শ্বশুড় গ্রেফতার

» সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোলের প্রচার সম্পাদক রাসেলের উপর প্রাননাশের হুমকিতে থানায় জিডি

» কেরোসিনের চুলা বিস্ফোরণে তিন ছাত্রী দগ্ধ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকার অজ্ঞান পার্টি চক্র সনাক্ত: অন্যতম ১ জন সদস্য পিবিআই ঢাকা মেট্রো কর্তৃক আটক

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর এলাকার সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্র সনাক্ত ও অন্যতম একজন সদস্য মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮) কে গত ২৬/০৫/২০১৭ খ্রিঃ বিকাল ১৮.২০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মেট্রো এর খুলশী থানাধীন আমবাগান, ভাঙ্গাপুল, টিকেট বিল্ডিং ১ নং গলি আসামীর ভাড়া বাসা হতে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে।

 

ঘটনায় প্রকাশ যে, জনৈক মোঃ হাসান (২০) পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, সাং-দেবত্র, থানা-মটবাড়ীয়া, জেলা-পিরোজপুর, বর্তমানে-বাসা নং-২৩/বি, রোড নং-১০২, গুলশান-০২, গুলশান, ঢাকা অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি গুলশান-২ প্রিভি সেলুন এন্ড এস্পা নামক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। তার ফুফা সিফাত ওমান থেকে ফোন করে জানায় কিছু মালামাল পাঠিয়েছেন, ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা হতে মালামালগুলি গ্রহণ করতে হবে। তাই জনৈক হাসান ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ সকালে মালামাল গ্রহণ করার জন্য বিমানবন্দর যান, সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের ২,৩৬,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য এবং অফিসের কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ৫ টি মোবাইল, ৮ টি পেন ড্রাইভসহ বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্ট পৌছানোর পর ওমানের বিমান আসতে দেরি হবে জেনে এয়ারপোর্টের সামনের মেইন রাস্তায় যাত্রী ছাউনির নিকট ফুটপাতের দোকানে বসে অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় চা খাচ্ছিলেন।

 

একই দোকানে তার পাশে বসে চা খাওয়ার সময় জনৈক কবির নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। তাদের উভয়ের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনার সময় আলমগীর নামে অন্য একজন ব্যক্তি আসলে কবির তাকে তার শ্যালক বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিচয় হওয়ার পর আলমগীর তার ফেসবুক আইডি জেনে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। কবির ও আলমগীর এয়ারপোর্ট থেকে মালামাল গ্রহণ করতে এসেছে জানায়। হাসানের বাড়ী পিরোজপুর জানতে পেরে তাদের বাড়ী ঝালকাঠি বলে জানায়। ফলে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পরে তারা একত্রে এয়ারপোর্টের ভিতরের গাড়ী পার্কিং প্লেসে গিয়ে ঘোরাফেরা করে সময় কাটাতে থাকে। অনুমান দুপুর ১২.৪৫ ঘটিকার সময় গাড়ী পার্কিং এর ২য় তলায় অবস্থানকালে আলমগীর ২৫০ এমএল এর দুটি ফ্রুটো জুস এনে তার সামনেই কর্ক খুলে এবং সে নিজেই একটা খায়। অপর একটি জুস কবিরকে খেতে দেয়।

 

কবির কিছুটা জুস খেয়ে হাসানকে দিলে তিনি খাওয়ার পরপরই মাথায় চক্কর দিলে এয়ারপোর্টের মালামাল বহন করার ট্রলিতে বসে পরেন। তখন তিনি হাতে-পায়ে কোন শক্তি পাচ্ছিলেন না, এমনকি কাউকে ডেকে কিছু বলারও সার্মথ্য ছিল না। তিনি দেখছিলেন যে, কবির এবং আলমগীর তার পকেট থেকে ১০,০০০ টাকাসহ মানিব্যাগ, একটি স্যামসাং জে-৭ মোবাইল ফোনসেট ব্যবহৃত সিমসহ এবং ব্যাগে থাকা ২,৩৬,০০০ টাকা ও একটি আসুজ ল্যাপটপ, ০৫টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল ফোনসেট, ০৮ টি প্যান ড্রাইভ ও একটি ক্যানন ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে যাচ্ছে। নগদ টাকা ও মালামালের সর্ব মোট মূল্য অনুমান-৩,৮৯,০০০ টাকা। তিনি অর্ধচেতন অবস্থায় হাটতে হাটতে ২য় তলার সিড়ির নিকট যান। সেখানে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি তাকে নিয়ে পুলিশ বক্সে যান। পুলিশের নিকট তার অসুস্থ্যতার বিষয় জানালে পুলিশ তার চাচা মাহবুবকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে সাগর ও রনি নামে দুইজন অফিস স্টাফ দুপুর অনুমান ০২.২৫ ঘটিকার সময় এয়ারপোর্ট আসেন। তারা ভিকটিম হাসানকে টক জাতীয় লেবু, তেতুল খাওয়ান।

 

পরে ভিকটিমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে উক্ত আলমগীর এর ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ০১৮৭৯২৬৫৮১২ ফোন নম্বরটি সংগ্রহ করে পরিচয় গোপন রেখে কথা বলে। তাদের ব্যবহৃত ০১৭৯-১৩৪৪৯৩৮, ০১৭১-৫৯৪৪৩৬৮, ০১৭৫৯৬১৩৯৫১, ০১৭৪-৪৫১০১২৩, ০১৯৮৩১৪৭১৩৫, ০১৭৮-৭৪৩৪৪৩২, ০১৭৪৭৯৩৩৪২৫ নম্বরগুলো সংরক্ষণ করেন।

 

উক্ত ঘটনায় মোঃ হাসান বাদী হয়ে ঘটনায় জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানার মামলা নং-২৪ তারিখ-২০/০৫/২০১৭ খ্রিঃ ধারাঃ ৩২৮/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন।

 

বর্ণিত মামলাটি বিমানবন্দর থানায় রুজু হওয়ার পর তদন্তকালীন সময়ে মামলাটি পিবিআই এর উপর তদন্ত ন্যাস্ত হওয়ায় ডিআইজি পিবিআই এর নিদের্শ মতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর তদন্তকারী অফিসার এসআই/মোঃ জুয়েল মিঞা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। পিবিআই ঢাকা মেট্রো, ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব আবুল কালাম আজাদ এর দিক-নির্দেশনায় আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনায় জড়িত হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর এলাকার সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্রের অন্যতম সদস্য সর্ম্পকে তথ্য পাওয়ার পর পরই অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ বশির আহমেদ এর নেতৃত্ত্বে পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর একটি টীম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো এর সহযোগীতায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো এর উক্ত টীম ২৬/০৫/২০১৭ খ্রিঃ বিকাল ১৮.২০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মেট্রো এর খুলশী থানাধীন আমবাগান, ভাঙ্গাপুল, টিকেট বিল্ডিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত আসামী ১। মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮) কে ১ নং গলিস্থ তার ভাড়া বাসা হতে গ্রেফতার করে। তার নিকট থেকে চোরাইকৃত ৩৫,০০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন সেট, একটি পেন ড্রাইভ এবং তার ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল সেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

 

আটককৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, তার নাম ১। মোঃ আলমগীর মিয়া @ সোহাগ (২৮) পিতা-মৃত হায়দার মিয়া, মাতা-সাগরুন নেছা, সাং-৩৬ জালাল টিলা, পশ্চিমপাড়া, থানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা-সিলেট, বর্তমান বাসা-১ নং গলি, মিজান মিয়ার ভাড়াটিয়া, টিকেট বিল্ডিং, ভাঙ্গাপুল আমবাগান, থানা-খুলশী, চট্টগ্রাম মেট্রো। সে জানায় পলাতক আসামী তাজুল ইসলাম @ কবির এর নেতৃত্ত্বে জাহিদ ও সে বয়ান দিয়ে সহজ সরল মানুষের সাথে মিশে ভাই সর্ম্পক গড়ে তুলে। আলাপ আলোচনার মাঝে ভাইয়ের নিকট কি পরিমান টাকা থাকতে পারে তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাদের সদস্য অপর একজনকে কাছে ডেকে এনে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। বাকী সদস্যরা সাধারণ মানুষ হিসেবে নিকটবর্তী দূরত্বে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কখনো কখনো নিজেদেরকে টার্গেট ভাইয়ের অঞ্চলের লোক বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলে। এরই মধ্যে তাদের একজন উঠে গিয়ে জুস/কোল্ড ড্রিংস/ঝালমুড়ি/চানাচুর/চা/কফি নিয়ে আসে। টার্গেটের সামনেই একজন কোল্ড ড্রিংস এর কর্ক খুলে খেতে থাকে যাতে সন্দেহের সৃষ্টি না হয়। অপরজন কোল্ড ড্রিংস খেতে খেতে টার্গেটের সাথে কথা বলে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। এসুযোগে চক্রের প্রথমজন কৌশলে আঙ্গুলের ফাঁেক রাখা বিশেষ ঔষধ উরংড়ঢ়ধহ-২ এর গুড়া করা পাউডার জুস/কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদির ভিতরে ছেড়ে দেয়। ভিকটিমকে খেতে দিলে তিনি মনে করেন যে তার সামনেই খোলা হয়েছে এবং একজন খেয়েই তাকে দিচ্ছে তাই সহজেই বিশ্বাস করে আপত্তি না করে খেয়ে নেয়। খাওয়ার কিছুক্ষন পরেই ভিকটিম মাথা চক্কর দিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে বসে পরে। ভিকটিমের নিকটে থাকা সর্বস্ব লুটে নেয়ার সময় ভিকটিম চেয়ে চেয়ে দেখে কিন্তু কাউকে ডাকা/চিৎকার করার বোধশক্তি তার থাকে না। আটক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গত ২০/০২/২০১৭ খ্রিঃ তার সহযোগী আসামীদের নিয়ে জনৈক মোঃ হাসানকে জুসের সাথে নেশা জাতীয় ঔষধ খাইয়ে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।

 

এছাড়াও চক্রটি বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডে/রেল স্টেশনে ঘোরা ফেরা করে সিঙ্গেল থাকা কোন যাত্রীকে টার্গেট করে। উক্ত যাত্রী যে অঞ্চলে যাবে নিজেকে সে অঞ্চলের যাত্রী বলে পরিচয় দিয়ে একই বাসে পাশাপাশি টিকেট কেটে বসে। অপরাপর সহযোগীরাও টিকেট নিয়ে উক্ত বাসে যাত্রী হিসেবে উঠে পড়ে। যাত্রাপথে সুবিধামতো সময়ে বিশেষ ঔষধ উরংড়ঢ়ধহ-২ এর গুড়া মেশানো খাবার খাওয়ায়ে যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে পথিমধ্যে নেমে পরে।

 

কখনোবা সেখানে অল্প শিক্ষিত দেখতে সহজ সরল একা থাকা যাত্রীকে টার্গেট করে। তাদেরকে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা চুরি হয়েছে, সামনে চেক পোষ্ট চলছে। টাকা থাকলে লুকিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদের কথা বিশ্বাস করে যাত্রীর কাছে থাকা টাকা বের করে দিলে চক্রটি কাগজে মুড়িয়ে শার্ট/প্যান্টের ভাজে ভাজে রাখা বা লুঙ্গির কোঁচে রাখার কৌশল দেখিয়ে খালি কাগজ মুড়িয়ে দিয়ে টাকা সরিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারী অফিসের পিয়ন/ড্রাইভার পরিচয় দিয়ে যাত্রী সংগ্রহ করে থাকে। পরিচয়ের একপর্যায়ে টার্গেট যাত্রীর গন্তব্য স্থান জেনে নিয়ে বলে আমার সাহেব/স্যারও ওখানে যাবে। আপনি চাইলে আমাদের গাড়ীতে যেতে পারেন। এরই মধ্যে চক্রের এক সদস্য এসে সে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তখন চক্রের সহযোগীকে বলে গাড়ীতে কম্পিউটার আছে আপনার কাছে কি কি আছে বলেন। তা না হলে সাহেব কম্পিউটারে দেখতে পেলে গাড়ীতে নেবে না। একথা শুনে চক্রের সদস্যটি টাকা পয়সা বের করে দিলে চক্রের উক্ত পিয়ন/ড্রাইভার কাগজে মুড়িয়ে টাকা শার্ট/প্যান্টের ভাজে রাখার কৌশল দেখিয়ে রেখে দেয়। একইভাবে টার্গেট ব্যাক্তির টাকা নিয়ে কৌশলে খালি কাগজ প্যান্ট/লুঙ্গির কোঁচে মুড়িয়ে দেয়। তাদেরকে রাস্তায় দাড় করিয়ে গাড়ী আনার কথা বলে চলে যায় এবং সহযোগীও সরে পরে। উক্ত চক্রের আরো একাধিক সদস্যকে চিহ্নিত করা গেছে এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited