কমলগঞ্জে এক সপ্তাহে ২০টি গবাদি পশুর মৃত্যু

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে  ২০টি গবাদি পশু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদী পশুর মাঝে ১২টি মহিষ,  ৫টি গরু ও ৩টি ছাগল রয়েছে। গত এক সপ্তাহে শুধু পতনঊষার ইউনিয়নের মনসুরপুর, শ্রীসূর্য্য ও মিনারই গ্রামে ১২টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলায় মাত্র তিনজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে এক পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে নয়টি হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর সংক্রামক রোগ দেখা দিলে আগাম রোগ প্রতিরোধ মূলক প্রতিষেধক  প্রদানে বিঘœ ঘটছে। মারা যাওয়া প্রাণির মৃতদেহ শেয়াল কুকুরেও খাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গরু-মহিষ ও ছাগলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন গরু, মহিষ চাষীরা। উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে প্রতিষেধক প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার (২০ মার্চ) উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পতনঊষারে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে গবাদি পশুর প্রতিষেধ টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

 

জানা যায়, গত দশ দিনে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য গ্রামের আনোয়ার খান ও ময়ুব আলীর ২টি মহিষ, শ্রীমতপুর গ্রামের তৈয়ব উল্লার ২টি মহিষ, মেহের বক্সের ২টি মহিষ, মনসুরপুর গ্রামের মধু মিয়ার ১টি মহিষ, কুতুব আলীর ১টি মহিষ, মিনারাই গ্রামের মুক্তার খাঁ এর ১টি মহিষ, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপসপুর গ্রামের মাসুক মাস্টার ও আব্দুল আলীর ২টি মহিষ গলাফুলা রোগে মারা গেছে। উল্লেখিত গ্রামের লিয়াকত আলী, জহির আলী, মিনার মিয়া, মাহমুদ আলী, আশিক মিয়ার একটি করে গরু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদি পশু দূরে মাঠে পড়তে থাকতেও দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মারা যাওয়া গবাদি পশুকে শিয়াল কুকুরও খাচ্ছে না।পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের ছমরু মিয়ার আক্রান্ত ৯টি ছাগলের মধ্যে তিনটি ছাগল মারা গেছে।

 

ছাগলের পেট ফুলা, পেট ব্যাথা, সর্দি, জ্বরসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশুর মধ্যেও রোগব্যাধী দেখা দিয়েছে বলে কৃষকরা জানান। মড়কে গবাদি পশু মৃত্যুর খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষে সোমবার (২০ মার্চ) পতনঊষার ইউনিয়নে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে প্রায় তিন শতাধিক গবাদি পশুর মধ্যে প্রতিষেধক টিকা প্রদান করেছে। মাহমুদ আলী, ফটিকুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী জানান, পশু রোগব্যাধী দেখা দিলে প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করলেও লোকবল সংকট দেখিয়ে প্রথমে তারা কেউ গুরুত্ব দেয় না। পতনঊষার এলাকার সাংবাদিক ও সমাজসেবক ডা: আব্দুল হান্নান চিনু বলেন, এক সপ্তাহে পতনঊষারের তিনটি গ্রামে ১৭টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু বলেন, এতোসব গবাদি পশুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করার পর এখন তারা সচেতনতামূলক ক্যাম্পিং শুরু করেছে। ততক্ষণে কৃষকরা বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

আসলে একজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা একা তিনটি ইউনিয়নে সঠিকভাবে হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগরে ভ্যাটেনারী সার্জন মো: হাবিবুর রহমান গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে দুটি ইউনিয়নে এসব গবাদি পশু মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নয়। এখন প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল হাই বলেন, হাওরে মহিষ নিয়ে যাওয়ার পর গলাফুলা রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব প্রাণি মারা গেছে। সোমবার পতনঊষারে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং শুরু করে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে গবাধি পশুর প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান

» কলাপাড়ায় গাঁজা সহ ব্যবসায়ী আটক

» এবার হাসপাতালে যাওয়ার পথে নার্সকে কুপিয়ে হত্যা

» গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

» খুনির সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির ‘সম্পর্কের তথ্য’ ফাঁস

» দশমিনা-উলানিয়া সড়কের কারপিটিংপিচ উঠে খানা খন্দের সৃষ্টি

» দশমিনায় চাঁই ব্যবহারের ফলে: গল্পেরমত থেকে যাবে দেশী প্রজাতির মাছ

» কলাপাড়ায় গৃহবধু হত্যা মামলায় শ্বশুড় গ্রেফতার

» সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোলের প্রচার সম্পাদক রাসেলের উপর প্রাননাশের হুমকিতে থানায় জিডি

» কেরোসিনের চুলা বিস্ফোরণে তিন ছাত্রী দগ্ধ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে এক সপ্তাহে ২০টি গবাদি পশুর মৃত্যু

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে  ২০টি গবাদি পশু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদী পশুর মাঝে ১২টি মহিষ,  ৫টি গরু ও ৩টি ছাগল রয়েছে। গত এক সপ্তাহে শুধু পতনঊষার ইউনিয়নের মনসুরপুর, শ্রীসূর্য্য ও মিনারই গ্রামে ১২টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলায় মাত্র তিনজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে এক পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে নয়টি হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর সংক্রামক রোগ দেখা দিলে আগাম রোগ প্রতিরোধ মূলক প্রতিষেধক  প্রদানে বিঘœ ঘটছে। মারা যাওয়া প্রাণির মৃতদেহ শেয়াল কুকুরেও খাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গরু-মহিষ ও ছাগলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন গরু, মহিষ চাষীরা। উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে প্রতিষেধক প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার (২০ মার্চ) উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পতনঊষারে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে গবাদি পশুর প্রতিষেধ টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

 

জানা যায়, গত দশ দিনে গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য গ্রামের আনোয়ার খান ও ময়ুব আলীর ২টি মহিষ, শ্রীমতপুর গ্রামের তৈয়ব উল্লার ২টি মহিষ, মেহের বক্সের ২টি মহিষ, মনসুরপুর গ্রামের মধু মিয়ার ১টি মহিষ, কুতুব আলীর ১টি মহিষ, মিনারাই গ্রামের মুক্তার খাঁ এর ১টি মহিষ, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপসপুর গ্রামের মাসুক মাস্টার ও আব্দুল আলীর ২টি মহিষ গলাফুলা রোগে মারা গেছে। উল্লেখিত গ্রামের লিয়াকত আলী, জহির আলী, মিনার মিয়া, মাহমুদ আলী, আশিক মিয়ার একটি করে গরু মারা গেছে। মারা যাওয়া গবাদি পশু দূরে মাঠে পড়তে থাকতেও দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মারা যাওয়া গবাদি পশুকে শিয়াল কুকুরও খাচ্ছে না।পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের ছমরু মিয়ার আক্রান্ত ৯টি ছাগলের মধ্যে তিনটি ছাগল মারা গেছে।

 

ছাগলের পেট ফুলা, পেট ব্যাথা, সর্দি, জ্বরসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশুর মধ্যেও রোগব্যাধী দেখা দিয়েছে বলে কৃষকরা জানান। মড়কে গবাদি পশু মৃত্যুর খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষে সোমবার (২০ মার্চ) পতনঊষার ইউনিয়নে ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে প্রায় তিন শতাধিক গবাদি পশুর মধ্যে প্রতিষেধক টিকা প্রদান করেছে। মাহমুদ আলী, ফটিকুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী জানান, পশু রোগব্যাধী দেখা দিলে প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করলেও লোকবল সংকট দেখিয়ে প্রথমে তারা কেউ গুরুত্ব দেয় না। পতনঊষার এলাকার সাংবাদিক ও সমাজসেবক ডা: আব্দুল হান্নান চিনু বলেন, এক সপ্তাহে পতনঊষারের তিনটি গ্রামে ১৭টি মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু বলেন, এতোসব গবাদি পশুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করার পর এখন তারা সচেতনতামূলক ক্যাম্পিং শুরু করেছে। ততক্ষণে কৃষকরা বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

আসলে একজন মাঠ সহকারী কর্মকর্তা একা তিনটি ইউনিয়নে সঠিকভাবে হাঁস মুরগী ও গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগরে ভ্যাটেনারী সার্জন মো: হাবিবুর রহমান গলাফুলা, তড়কাসহ বিভিন্ন রোগে দুটি ইউনিয়নে এসব গবাদি পশু মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নয়। এখন প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল হাই বলেন, হাওরে মহিষ নিয়ে যাওয়ার পর গলাফুলা রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব প্রাণি মারা গেছে। সোমবার পতনঊষারে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং শুরু করে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে গবাধি পশুর প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited