কলাপাড়ায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল উজাড় ॥ কেটে নেয়া হয়েছে প্রাচীন কয়েক শ’ গাছ

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৩ জানুয়ারি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব-মধুখালীর লেকের পাড়ে বেড়িবাঁধের বাইরের এ বনাঞ্চলের গাছ কাটার কারণে এলাকাটি পরিণত হয়েছে বিরান ভূমিতে।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তির অভিযোগ, বনের ছোট্ট একটি গাছ কাটলেও বনবিভাগ মামলা ঠুকে দেয়। অথচ জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার সবুজ দেয়াল বনাঞ্চল উজাড় করে সরকারের কয়েক লাখ টাকার গাছ প্রভাবশালী একটি মহল কেটে নিয়ে গেল বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা রয়েছেন নীরব। হাসান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি এই গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করে মাছের ঘেরের পরিকল্পনা করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৬০-৭০ বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে মধুখালীর সংযোগ নদীরপাড় ভরাট হওয়া চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির কেওড়া, বাইন ও গেওয়াসহ গুল্মজাতীয় গাছপালা জন্মায়। সরকার এই বাগানের মালিক।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ভয়াল ঘুর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা প্রতিরোধ করেছিল এই গাছগুলো। অক্ষত রয়েছে বেড়িবাঁধ। মধুখালীর দুইপাড়েই দীর্ঘ এলাকা নিয়ে এমন প্রাচীন ম্যানগ্রোভ গাছ রয়েছে হাজার হাজার। কিন্তু মধুখালী ব্রিজের দক্ষিণ দিকে দুই দিনে বিশাল আকৃতির ৫০/৬০টি প্রাচীন বাইন ও কেওড়া গাছসহ ছোটবড় দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যা ট্রলার বোঝাই করে আবার পাচার করা হচ্ছে। জানা গেছে, সেনা সদস্য ও মধুখালীর বাসীন্দা হাসান মাহমুদ এ বনাঞ্চলকে একজন বন্দোবস্ত গ্রহীতার কাছ থেকে ক্রয় করেছে বলে দাবী করছেন।

 

মোসলেম হাওলাদার ছেলে মোস্তফা হাওলাদার জানান, এসএ ১৯৮ নম্বর খতিয়ানের ৫০০১/৬০৮৬ নম্বর দাগের বেড়িবাঁধের বনাঞ্চলকে চাষযোগ্য কৃষিজমি দেখিয়ে স্থানীয় মোসলেম আলী হাওলাদারের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। যার নম্বর ২৩৫ কে-৭৭/৭৮। যা ১৯৮০ সালের ২২ অক্টোবর দলিল করে দেয়া হয়েছে। দলিল নম্বর-৬৭০৫। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্য মেহেদী হাসান তাদের কাছ থেকে কোন দলিল নেননি। তিনি দাবি করেন, ভুয়া ওয়ারিশ দিয়ে দলিল করে জমির বদলে সরকারি গাছ কাটছেন। স্থানীয় সকল শ্রেণির মানুষ এমন বনাঞ্চল নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

 

অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি বনবিভাগের পটুয়াখালীস্থ বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছ থেকে গাছ কাটার জন্য অনুমতি চেয়েছেন। অনুমতি পেয়েছেন কিনা তা জানেন না। কেন আগেভাগেই গাছ কেটেছেন, এর কোন উত্তর মেলেনি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে তহশীলদার পাঠিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় বনকর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, বনবিভাগ কাউকে গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়নি।বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

সর্বশেষ আপডেট



» কেমন‌ হয় সোনাগাছির ‘পতিতা’দের জীবন?

» সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন শেখ সাইফুল ইসলাম কবির

» বেনাপোল সীমান্ত থেকে ১২ লক্ষ ৯৯ হাজার হুন্ডির টাকা সহ আটক-১

» যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ১৪ নারী পুরুষ আটক

» কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» ফতুল্লায় ৫ ভূয়া পুলিশ গ্রেফতার

» আমাকে গরিব সাজতে হয়েছিল: বোমা ফাটালেন সালমা

» ফতুল্লায় ৭২ ঘন্টায় পাঁচটি ধর্ষন অস্ত্রধারীর হাতে পুলিশ গুলিবিদ্ধ

» ফতুল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশীর সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পুলিশ সদস্য আহত

» রাজাপুরে বালুর জাহাজের ধাক্কায় ব্রীজ ভাঙ্গার কারনে দুজন আটক

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল উজাড় ॥ কেটে নেয়া হয়েছে প্রাচীন কয়েক শ’ গাছ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৩ জানুয়ারি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব-মধুখালীর লেকের পাড়ে বেড়িবাঁধের বাইরের এ বনাঞ্চলের গাছ কাটার কারণে এলাকাটি পরিণত হয়েছে বিরান ভূমিতে।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তির অভিযোগ, বনের ছোট্ট একটি গাছ কাটলেও বনবিভাগ মামলা ঠুকে দেয়। অথচ জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার সবুজ দেয়াল বনাঞ্চল উজাড় করে সরকারের কয়েক লাখ টাকার গাছ প্রভাবশালী একটি মহল কেটে নিয়ে গেল বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা রয়েছেন নীরব। হাসান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি এই গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করে মাছের ঘেরের পরিকল্পনা করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৬০-৭০ বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে মধুখালীর সংযোগ নদীরপাড় ভরাট হওয়া চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির কেওড়া, বাইন ও গেওয়াসহ গুল্মজাতীয় গাছপালা জন্মায়। সরকার এই বাগানের মালিক।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ভয়াল ঘুর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা প্রতিরোধ করেছিল এই গাছগুলো। অক্ষত রয়েছে বেড়িবাঁধ। মধুখালীর দুইপাড়েই দীর্ঘ এলাকা নিয়ে এমন প্রাচীন ম্যানগ্রোভ গাছ রয়েছে হাজার হাজার। কিন্তু মধুখালী ব্রিজের দক্ষিণ দিকে দুই দিনে বিশাল আকৃতির ৫০/৬০টি প্রাচীন বাইন ও কেওড়া গাছসহ ছোটবড় দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যা ট্রলার বোঝাই করে আবার পাচার করা হচ্ছে। জানা গেছে, সেনা সদস্য ও মধুখালীর বাসীন্দা হাসান মাহমুদ এ বনাঞ্চলকে একজন বন্দোবস্ত গ্রহীতার কাছ থেকে ক্রয় করেছে বলে দাবী করছেন।

 

মোসলেম হাওলাদার ছেলে মোস্তফা হাওলাদার জানান, এসএ ১৯৮ নম্বর খতিয়ানের ৫০০১/৬০৮৬ নম্বর দাগের বেড়িবাঁধের বনাঞ্চলকে চাষযোগ্য কৃষিজমি দেখিয়ে স্থানীয় মোসলেম আলী হাওলাদারের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। যার নম্বর ২৩৫ কে-৭৭/৭৮। যা ১৯৮০ সালের ২২ অক্টোবর দলিল করে দেয়া হয়েছে। দলিল নম্বর-৬৭০৫। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্য মেহেদী হাসান তাদের কাছ থেকে কোন দলিল নেননি। তিনি দাবি করেন, ভুয়া ওয়ারিশ দিয়ে দলিল করে জমির বদলে সরকারি গাছ কাটছেন। স্থানীয় সকল শ্রেণির মানুষ এমন বনাঞ্চল নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

 

অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি বনবিভাগের পটুয়াখালীস্থ বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছ থেকে গাছ কাটার জন্য অনুমতি চেয়েছেন। অনুমতি পেয়েছেন কিনা তা জানেন না। কেন আগেভাগেই গাছ কেটেছেন, এর কোন উত্তর মেলেনি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে তহশীলদার পাঠিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় বনকর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, বনবিভাগ কাউকে গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়নি।বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited