ছয় ভেন্টের স্লুইসসহ সড়ক বিধ্বস্তের হওয়ার আশংকা কলাপাড়ায় অর্ধলক্ষ কৃষক রয়েছে দু:চিন্তায়

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছয় ভেন্টের স্লুইসসহ সড়ক বিধ্বস্তের আশংকা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কলাপাড়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধর শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্লুইস সংলগ্ন কচুপাত্রা নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৫০ হাজার কৃষক কৃষিকাজ নিয়ে। ইতোমধ্যে এস্লুইসটির দুই দিকের মূল পিলারের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। রডগুলো জং ধরে বেরিয়ে গেছে। লোহার কপাটগুলো লোনা পানিতে নষ্ট হয়ে আছে। গেট থাকলেও সব সময় থাকছে খোলা। অনবরত লোনা পানি ওঠানামা করছে। সামনের দুই দিকের গাইড ওয়াল অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালের দিকে নির্মিত এ স্লুইসটির বর্তমানে জীর্ণদশার যেন শেষ নেই। উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়ন ও বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া, পঁচা কোরালিয়া ও বগী ইউনিয়নের কৃষকের কৃষিকাজে এই স্লুইসটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্লুইসটি দিয়ে পানি ওঠানামার সময় ঝাকুনি অনুভূত হয়। মনে হয় এই বুঝি ধ্বসে পড়বে। প্রত্যেকটি গেটের উপরে ঝোলানো রয়েছে একটি করে বেহুন্দী জাল। যা দিয়ে এই স্লুইজে মাছ ধরা হয়। এখন স্লুইসটির কপাট খোলা থাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি ওঠানামা করছে। পানির প্রবল ¯্রােতের তোড়ে ভিতরের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধের তিনটি পয়েন্টে প্রায় দুই শ’ মিটার বাঁধের টপসহ স্লোপ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। কাঠালপাড়া গ্রামের মসজিদটি এখন বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে। চলাচলের খালের পাড়ের একমাত্র সড়কটির বহু অংশ ভেঙ্গে গেছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি এই স্লুইসটি ফের জরুরিভাবে নতুনভাবে নির্মাণ করা হোক। নইলে বিধ্বস্ত হয়ে এলাকার ব্যাপক সর্বনাশ হয়ে যাবে। হাজার হাজার কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। কৃষিকাজ ভেস্তে যাবে। লোনা পানিতে সব সয়লাব হয়ে যাবে। স্লুইসটির উপর দিয়ে তালতলীর সঙ্গে কলাপাড়ার সংযোগ সড়ক রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির খায়রুল, চতুর্থ শ্রেণির আল-আমিন জানায়, ওয়াপদা রাস্তা ভাঙছে। মসজিদ ও টিউবওয়েল ভাইঙ্গা যাইতেছে। অষ্টম শ্রেণির তানজিলা জানায়, আঙ্গারপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে সে স্কুলে আসছে। স্লুইস ভাইঙ্গা গেলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। দশম শ্রেণির কনিকা জানায়, চাউলাপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে স্কুলে আসতে হয়। রাস্তাসহ স্লুইস ভাঙলে সমস্যার শেষ থাকবেনা। প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, স্লুইসটি যেকোন ভাবে রক্ষা করতে না পারলে ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় সমস্যা হবে। স্কুলের অর্ধেক ছাত্র-ছাত্রীর চরম সমস্যা হবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কচুপাত্রা নদীর উপরে বাঁধ দিয়ে ১৯৬৫ সালে স্লুইসটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে কয়েকবার নাম কাওয়াস্তে কপাট পাল্টানোসহ টুকিটাকি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে বর্তমানে জরাজীর্ণের চরম পর্যায়ে পৌছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, ৪৪ নম্বর পোল্ডারের সিক্স ভেন্টের এ স্লুইসটি মেরামতের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এটি এখন আর মেরামত করে সচল রাখার অবস্থায় নেই। নতুন করে করতে অন্তত আট কোটি টাকা প্রয়োজন। আগামি এক দেড় বছরে নতুন করে করার সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তবে তার কাছে এলাকার লোকজন নতুন করে স্লুইস ব্যবস্থাপনা কমিটি করার জন্য আবেদন করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» তীরে এসে তরী ডুবালো বাংলাদেশের মেয়েরা

» জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই

» দশমিনায় ভিজিএফের চাল বিতরন

» কলাপাড়ার ধানখালী ডিগ্রী কলেজ বাজারের রাস্তাটির বেহাল দশা”দেখার কেউ নাই !

» ফতুল্লায় চোরদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাসিন্দারা

» গোপালগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে দিনব্যাপী ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুরহাট

» ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ৮ মাস ধরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ

» বাগেরহাটে-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে দূর্ঘটনা নিহত-১, আহত ৫

» বাগেরহাটে ৪০ মন জমজ ভাই সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি!

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন




ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

ছয় ভেন্টের স্লুইসসহ সড়ক বিধ্বস্তের হওয়ার আশংকা কলাপাড়ায় অর্ধলক্ষ কৃষক রয়েছে দু:চিন্তায়

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছয় ভেন্টের স্লুইসসহ সড়ক বিধ্বস্তের আশংকা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কলাপাড়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধর শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্লুইস সংলগ্ন কচুপাত্রা নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৫০ হাজার কৃষক কৃষিকাজ নিয়ে। ইতোমধ্যে এস্লুইসটির দুই দিকের মূল পিলারের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। রডগুলো জং ধরে বেরিয়ে গেছে। লোহার কপাটগুলো লোনা পানিতে নষ্ট হয়ে আছে। গেট থাকলেও সব সময় থাকছে খোলা। অনবরত লোনা পানি ওঠানামা করছে। সামনের দুই দিকের গাইড ওয়াল অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালের দিকে নির্মিত এ স্লুইসটির বর্তমানে জীর্ণদশার যেন শেষ নেই। উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়ন ও বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া, পঁচা কোরালিয়া ও বগী ইউনিয়নের কৃষকের কৃষিকাজে এই স্লুইসটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্লুইসটি দিয়ে পানি ওঠানামার সময় ঝাকুনি অনুভূত হয়। মনে হয় এই বুঝি ধ্বসে পড়বে। প্রত্যেকটি গেটের উপরে ঝোলানো রয়েছে একটি করে বেহুন্দী জাল। যা দিয়ে এই স্লুইজে মাছ ধরা হয়। এখন স্লুইসটির কপাট খোলা থাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি ওঠানামা করছে। পানির প্রবল ¯্রােতের তোড়ে ভিতরের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধের তিনটি পয়েন্টে প্রায় দুই শ’ মিটার বাঁধের টপসহ স্লোপ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। কাঠালপাড়া গ্রামের মসজিদটি এখন বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে। চলাচলের খালের পাড়ের একমাত্র সড়কটির বহু অংশ ভেঙ্গে গেছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি এই স্লুইসটি ফের জরুরিভাবে নতুনভাবে নির্মাণ করা হোক। নইলে বিধ্বস্ত হয়ে এলাকার ব্যাপক সর্বনাশ হয়ে যাবে। হাজার হাজার কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। কৃষিকাজ ভেস্তে যাবে। লোনা পানিতে সব সয়লাব হয়ে যাবে। স্লুইসটির উপর দিয়ে তালতলীর সঙ্গে কলাপাড়ার সংযোগ সড়ক রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির খায়রুল, চতুর্থ শ্রেণির আল-আমিন জানায়, ওয়াপদা রাস্তা ভাঙছে। মসজিদ ও টিউবওয়েল ভাইঙ্গা যাইতেছে। অষ্টম শ্রেণির তানজিলা জানায়, আঙ্গারপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে সে স্কুলে আসছে। স্লুইস ভাইঙ্গা গেলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। দশম শ্রেণির কনিকা জানায়, চাউলাপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে স্কুলে আসতে হয়। রাস্তাসহ স্লুইস ভাঙলে সমস্যার শেষ থাকবেনা। প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, স্লুইসটি যেকোন ভাবে রক্ষা করতে না পারলে ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় সমস্যা হবে। স্কুলের অর্ধেক ছাত্র-ছাত্রীর চরম সমস্যা হবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কচুপাত্রা নদীর উপরে বাঁধ দিয়ে ১৯৬৫ সালে স্লুইসটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে কয়েকবার নাম কাওয়াস্তে কপাট পাল্টানোসহ টুকিটাকি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে বর্তমানে জরাজীর্ণের চরম পর্যায়ে পৌছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, ৪৪ নম্বর পোল্ডারের সিক্স ভেন্টের এ স্লুইসটি মেরামতের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এটি এখন আর মেরামত করে সচল রাখার অবস্থায় নেই। নতুন করে করতে অন্তত আট কোটি টাকা প্রয়োজন। আগামি এক দেড় বছরে নতুন করে করার সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তবে তার কাছে এলাকার লোকজন নতুন করে স্লুইস ব্যবস্থাপনা কমিটি করার জন্য আবেদন করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited