নিষেধাজ্ঞা মুক্তিই কি জাতীয় দলে ফেরার নিশ্চয়তা আশরাফুলের?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ ১৩ আগস্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা বিপিএল বা আইপিএলের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে খেলতেও এখন আর কোনো বাঁধা নেই আশরাফুলের। দীর্ঘ পাঁচ বছরের নির্বাসন শেষে যদি আগের মতোই ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠতে পারেন, গায়ে লাল-সবুজের জার্সি জড়ানোর সুযোগও পাবেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএল ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ ওঠে দেশীয় ক্রিকেটে ‘বিস্ময় বালক’ খ্যাত আশরাফুলের বিরুদ্ধে। ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর অন্য অনেকের মতো শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাননি তিনি।স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তি দেন, সাময়িক মোহে জড়িয়েছিলেন ফিক্সিংয়ে। এজন্য তিনি অনুতপ্ত এবং জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে। তবে বিসিবি ও আইসিসি শাস্তি কমানোর বিরোধিতা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরই স্থির হয়। তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়।

 

লক্ষ্য এখন একটাই- জাতীয় দলে ফেরা: আশরাফুল

আশরাফুলের নির্বাসন দণ্ড শেষ হলো আজ। এ প্রসঙ্গ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ক্রিকেটার বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি এই দিনটির জন্য, এবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছি। আমি ক্রিকেটের মধ্যে ছিলাম এবং আছি। দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। নিজেকে প্রস্তুত করছি, আমার লক্ষ্য এখন একটাই- জাতীয় দলে ফেরা।বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল অনেক প্রিয় নাম। তাকে আবার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলতে দেখার অপেক্ষায় আছে তার বহু ভক্ত। কিন্তু এখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। তরুণ মেধাবী ক্রিকেটারদের ভিড়ে তাদের সঙ্গে লড়াই করে ৩২ বছর বয়সী আশরাফুলকে আবারও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলেছে এটাই তার ভেতর নতুন করে আশা জাগিয়েছে। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যে ভুল করেছিলেন তা শোধরাতে তার দীর্ঘ লড়াই আলোর মুখ দেখছে এটাই আশরাফুলকে ফের জ্বলে ওঠার সাহস জোগাচ্ছে।

বর্তমানে লন্ডন অবস্থানকারী মোহাম্মদ আশরাফুল সম্প্রতি ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ২০১৮ এর ১৩ আগস্টের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছি। ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করার পর পাঁচ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। গেল দুই মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জাতীয় দলে আবারও প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। আবারও বাংলাদেশের হয়ে যদি খেলতে পারি, সেটি হবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আরও বলেন, ফিরে আসার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম মৌসুমে ভালো করতে পারিনি। গেলবার ২০১৭-১৮তে ভালো খেলেছি। আশা করি, সামনের মৌসুমে আরও ভালো করব।

 

আশরাফুল বলেন, আমি মূলত ফিটনেসের প্রতি নজর দিচ্ছি দুইটা বছর ধরে। গেল দু মাসে আট থেকে নয় কেজি ওজন কমেছে। এখন আমি নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়তে চাই পারফর্ম করে।১৫ আগস্টের পর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু করব। যাতে আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে ভালো করতে পারি। বিগত পাঁচটি বছর শুধু তার নিজের নয় পরিবার ও বন্ধুদের জন্যও ছিল কঠিন সময় উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, শুধু আমার নয়, কঠিন সময় গেছে আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু সবারই। খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি, ছোটবেলায় মাদারটেক থেকে ধানমন্ডি হেঁটে হেঁটে অনুশীলনে যেতাম। অনেক পরিশ্রম করে ক্রিকেটার হয়েছি। গত সাড়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশের এমন কোনো ম্যাচ নেই, যেটা আমি দেখিনি। খেলতে পারিনি একটা কঠিন সময় তো গেছেই। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে বেশি কঠিন গেছে। এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি।

 

জাতীয় দল ফিরতে পারবেন কী আশরাফুল

পাচঁ বছর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে মোহম্মদ আশরাফুলের সামনে আবার সবধরনের ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ অবারিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কী আবার জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাবেন? জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, আমি মনে করি এখনো দলে ফেরার সময় রয়েছে আশরাফুলের। আপনি পাকিস্তানের মিসবাহ-ইউনিসকে দেখেন, তাদের বয়সও কিন্তু ৪০ এর আশেপাশে কিন্তু তারা এখনো খেলছে এবং সেঞ্চুরিও করছে। বর্তমানে তার বয়স এখন ৩২, দুই বছর পর হবে ৩৪। তাহলে আশরাফুল কেন পারবে না? তিনি আরো বলেন, আশরাফুলকে আমি চিনি যখন তার বয়স ১২ কি ১৩। তার টেকনিক এবং স্কিল নিয়ে আমার কোন আশঙ্কা নেই। এই ধরণের কর্মকাণ্ডে তাকে জড়িত হতে দেখে সত্যিই খারাপ লেগেছিল। এখন তার ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে আমি বেশ উজ্জীবিত। আমি চাই, এখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলে, সে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে নিজেকে আবারও যোগ্য করে তুলুক। নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেই সে জাতীয় দলের ডাক পাবে।

 

আশরাফুলের ফেরা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান বলেন, আশরাফুল একজন মেধাবী ক্রিকেটার। বাংলাদেশের জার্সিতে ওর সুন্দর কিছু ইনিংস আছে যা আমাদের বার বার তার কথা মনে করিয়ে দেয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার তার সামনে সুযোগ এসেছে। অন্যসবার মতো ভালো পারফরর্মেন্স দেখাতে পারলে তারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল করলে অবশ্যই সুযোগ পাবে আশরাফুল।

 

তিনি আরো বলেন, তুষার ইমরান যদি মধ্য তিরিশে গিয়েও ‘এ’ দলে ডাক পেতে পারে, তবে আশরাফুল কেন পাবে না? সে যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে পারে এবং ঘরের ক্রিকেটে খুব ভালো পারফর্ম করে, তাহলে হয়তো তাকে বিবেচনায় আনা হতেও পারে। সন্দেহ নেই, আশরাফুল অনেক মেধাবী ব্যাটসম্যান। দেশকে কিছু ম্যাচ সে একাই জিতিয়েছে। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে, সে জানে কখন কি করতে হবে। যার প্রমাণও সে দিয়েছে। আশরাফুল প্রসঙ্গে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, অনেক ধরেই সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে নেই। সুতরাং ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে তাকে খেলতে হবে। ওর ফিটনেস আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য ঠিক আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। সাসপেসশন যাওয়ার পর সব ফরম্যাটে খেলুক, তারপর এক বছর যাওয়ার বোঝা যাবে তার ফিটনেস কোন লেভেলে আছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে যদি বলতে হয়, তাহলে বলব এই মুহূর্তে দলে কোনো জায়গা নেই। আমাদের যে ফিটনেস লেভেল আছে, এইচপি থেকে শুরু করে ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের ফিটনেসের সাথে সে অ্যাটাচড না। এই জায়গায় আসতে হলে তাকে কিছু সময় দিতে হবে। এই লেভেলটা যদি থাকে, তাহলে চিন্তা করা যাবে। সুতরাং এই মুহূর্তে আমরা চিন্তা ভাবনা করছি না। আশরাফুলের আশা একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি উল্লেখ করে নান্নু বলেন, ৩২ বছর বয়স, এটা কোনো বিষয় না। যদি ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানের হয়, তাহলে যে কোন ক্রিকেটারই আসতে পারে। ফিটনেস জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পর্যায়ে আনতে হবে। আর পারফরমেন্স অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো হতে হবে। কারণ সে যে জায়গায় ব্যাট করে, সে জায়গায় অনেক ক্রিকেটার স্থায়ী হয়ে গেছে। জাতীয় দলের জন্য কোনো ক্রিকেটারকে যদি দেখা হয়, তাকে বিশেষ পারফরম্যান্স করেই আসতে হবে।

 

আশরাফুলকে আবারও স্কোয়াডে পেলে খুশি হবেন সতীর্থরা

পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। আশরাফুল কেন পারবেন না ভুল মানুষই করে, আশরাফুলও করেছে এবং সেই ভুলের মাশুল তাকে দিতে হয়েছে। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে দেখতে চান জাতীয় দলের সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল বলেন, আশরাফুলের ব্যাপারটা খুবেই সেনসেটিভ ইস্যু, আমরা সবাই জানি। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উনি আমাদের মতোই একজন থাকবেন। যে কারণে উনাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা কাটিয়েই আবার ক্রিকেট মাঠে নামবেন। ফলে এখন আর তাকে অন্য চোখে দেখা উচিত হবে না। কারণ তিনি তাঁর সাজাটা পুরোপুরি ভোগ করেই ফিরছেন। আশা করি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন।

 

আশরাফুল প্রসঙ্গে তামিম আরো বলেন, আশরাফুলের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জন্মায়নি। সাজার মেয়াদ কাটিয়ে ফেরার পর যেকোনো কিছুই হতে পারে। সে আবারও জ্বলে ওঠতে পারে। বাংলাদেশে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও চান, আশরাফুল অাবার আগের মতোই আশার ফুল হয়ে উঠুক। আশরাফুল প্রসঙ্গে তিনি বললেন, এখন তার নিজের ফিটনেসের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

 

ফিরে দেখা: আশরাফুলের ক্যারিয়ার

২০০১ সালের ১১ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আশরাফুলের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। প্রথম ম্যাচটিতে আশরাফুল মাত্র ৯ রান করেন, সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৩৬ রানে। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্স খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি ।বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে ১৪.২০ গড়ে মাত্র ৭১ রান করেন তিনি। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আশরাফুল বিশ্বের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট শতক করার রেকর্ডের অধিকারী। নিজের ১৭তম জন্মদিনের একদিন আগে ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে হওয়া এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১১৪ রান করে এই রেকর্ডের মালিক হন।

 

২০০৪ সালে জাতীয় দলে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫৮* রান করেন।শতকটি ছিল ঐ সময় তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় শতক এবং কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ টেস্ট রান। ২০০৫ সালের ১৮ জুন তারিখে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে তৎকালীন বিশ্বের একনাম্বার ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ে আশরাফুল ১০০ রান করেন। এটি তার একমাত্র শতক এবং সেই ম্যাচের খেলাটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ১৩৬ রান করেন।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৭ সালে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার অভিষেক হয়। অধিনায়ক হিসেবে তার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম টেস্টের দু’ ইনিংসে তিনি যথাক্রমে ৭ ও ৩৭ রান করেন এবং দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। দ্বিতীয় ইনিংসেই তিনি ১২৯ রানের এক ইনিংস খেলন। অপরাজিত থেকে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।

 

এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে আশরাফুল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার। তার উপরে আছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৮৩ বলে ৮৭ রান করেন আশরাফুল, যা বাংলাদেশকে আরেকটি স্মরণীয় জয় উপহার দেয়। এতে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। ২৪ গড়ে ২১৬ রান করে আশরাফুল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান স্কোরার হন। বিশ্বকাপের পর শাহরিয়ার নাফিসের জায়গায় বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের পর টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক হিসেবে আশরাফুলকে নির্বাচিত করা হয়।সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম অধিনায়ক হন।

 

২০০৭ সালে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের দরকার হয় বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আশরাফুল মাত্র ২০ বলে অর্ধ-শতক করে রেকর্ড করেন। শেষ পর্যন্ত পুরো সিরিজে এটাই বাংলাদেশের একমাত্র জয়। রেকর্ডের ছয়দিন পরেই ভারতের যুবরাজ সিং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২ বলে অর্ধ-শতক করে রেকর্ডটি ভেঙ্গে দেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিস্ট ‘এ’-তে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন আশরাফুল। একটি ‘লিস্ট’-এ টুর্নামেন্টে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি এই কীর্তি গড়েন। আশরাফুলের ওপরে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আলভিরো পিটারসন। তিনি ২০১৫-১৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মোমেন্টাম ওয়ানডে কাপে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি মেরেছেন। ২৩টি লিস্ট-‘এ’ ম্যাচ খেলা আশরাফুলের গড় ৪৭.৬৩। এই সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি খুব একটা ভালো করতে পারেননি। ১৩ ম্যাচ খেলা আশরাফুলের গড় এখানে ২১.৮৫। সেঞ্চুরি মোটে একটি।

 

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গত দুই মৌসুমে আশরাফুলের সেরা পারফরম্যান্স, ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিস্ট-এ’ তে পাঁচটি সেঞ্চুরি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে করা তার পাঁচ সেঞ্চুরি একটি রেকর্ড। কোন লিস্ট-এ টুর্নামেন্টে পাঁচটি সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে মোমেন্টাম ওয়ানডে কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার আলভারো পিটারসন পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠার পর ২৩টি লিস্ট-এ ম্যাচে আশরাফুলের গড় ৪৭.৬৩ হলেও তবে এ সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সময়ে ১৩ ম্যাচে তার গড় ২১.৮৫।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» তীরে এসে তরী ডুবালো বাংলাদেশের মেয়েরা

» জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই

» দশমিনায় ভিজিএফের চাল বিতরন

» কলাপাড়ার ধানখালী ডিগ্রী কলেজ বাজারের রাস্তাটির বেহাল দশা”দেখার কেউ নাই !

» ফতুল্লায় চোরদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাসিন্দারা

» গোপালগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে দিনব্যাপী ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুরহাট

» ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ৮ মাস ধরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ

» বাগেরহাটে-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে দূর্ঘটনা নিহত-১, আহত ৫

» বাগেরহাটে ৪০ মন জমজ ভাই সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি!

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন




ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

নিষেধাজ্ঞা মুক্তিই কি জাতীয় দলে ফেরার নিশ্চয়তা আশরাফুলের?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ ১৩ আগস্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা বিপিএল বা আইপিএলের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে খেলতেও এখন আর কোনো বাঁধা নেই আশরাফুলের। দীর্ঘ পাঁচ বছরের নির্বাসন শেষে যদি আগের মতোই ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠতে পারেন, গায়ে লাল-সবুজের জার্সি জড়ানোর সুযোগও পাবেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএল ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ ওঠে দেশীয় ক্রিকেটে ‘বিস্ময় বালক’ খ্যাত আশরাফুলের বিরুদ্ধে। ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর অন্য অনেকের মতো শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাননি তিনি।স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তি দেন, সাময়িক মোহে জড়িয়েছিলেন ফিক্সিংয়ে। এজন্য তিনি অনুতপ্ত এবং জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে। তবে বিসিবি ও আইসিসি শাস্তি কমানোর বিরোধিতা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরই স্থির হয়। তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়।

 

লক্ষ্য এখন একটাই- জাতীয় দলে ফেরা: আশরাফুল

আশরাফুলের নির্বাসন দণ্ড শেষ হলো আজ। এ প্রসঙ্গ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ক্রিকেটার বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি এই দিনটির জন্য, এবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছি। আমি ক্রিকেটের মধ্যে ছিলাম এবং আছি। দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। নিজেকে প্রস্তুত করছি, আমার লক্ষ্য এখন একটাই- জাতীয় দলে ফেরা।বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল অনেক প্রিয় নাম। তাকে আবার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলতে দেখার অপেক্ষায় আছে তার বহু ভক্ত। কিন্তু এখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। তরুণ মেধাবী ক্রিকেটারদের ভিড়ে তাদের সঙ্গে লড়াই করে ৩২ বছর বয়সী আশরাফুলকে আবারও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলেছে এটাই তার ভেতর নতুন করে আশা জাগিয়েছে। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যে ভুল করেছিলেন তা শোধরাতে তার দীর্ঘ লড়াই আলোর মুখ দেখছে এটাই আশরাফুলকে ফের জ্বলে ওঠার সাহস জোগাচ্ছে।

বর্তমানে লন্ডন অবস্থানকারী মোহাম্মদ আশরাফুল সম্প্রতি ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ২০১৮ এর ১৩ আগস্টের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছি। ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করার পর পাঁচ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। গেল দুই মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জাতীয় দলে আবারও প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। আবারও বাংলাদেশের হয়ে যদি খেলতে পারি, সেটি হবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আরও বলেন, ফিরে আসার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম মৌসুমে ভালো করতে পারিনি। গেলবার ২০১৭-১৮তে ভালো খেলেছি। আশা করি, সামনের মৌসুমে আরও ভালো করব।

 

আশরাফুল বলেন, আমি মূলত ফিটনেসের প্রতি নজর দিচ্ছি দুইটা বছর ধরে। গেল দু মাসে আট থেকে নয় কেজি ওজন কমেছে। এখন আমি নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়তে চাই পারফর্ম করে।১৫ আগস্টের পর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু করব। যাতে আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে ভালো করতে পারি। বিগত পাঁচটি বছর শুধু তার নিজের নয় পরিবার ও বন্ধুদের জন্যও ছিল কঠিন সময় উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, শুধু আমার নয়, কঠিন সময় গেছে আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু সবারই। খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি, ছোটবেলায় মাদারটেক থেকে ধানমন্ডি হেঁটে হেঁটে অনুশীলনে যেতাম। অনেক পরিশ্রম করে ক্রিকেটার হয়েছি। গত সাড়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশের এমন কোনো ম্যাচ নেই, যেটা আমি দেখিনি। খেলতে পারিনি একটা কঠিন সময় তো গেছেই। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে বেশি কঠিন গেছে। এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি।

 

জাতীয় দল ফিরতে পারবেন কী আশরাফুল

পাচঁ বছর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে মোহম্মদ আশরাফুলের সামনে আবার সবধরনের ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ অবারিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কী আবার জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাবেন? জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, আমি মনে করি এখনো দলে ফেরার সময় রয়েছে আশরাফুলের। আপনি পাকিস্তানের মিসবাহ-ইউনিসকে দেখেন, তাদের বয়সও কিন্তু ৪০ এর আশেপাশে কিন্তু তারা এখনো খেলছে এবং সেঞ্চুরিও করছে। বর্তমানে তার বয়স এখন ৩২, দুই বছর পর হবে ৩৪। তাহলে আশরাফুল কেন পারবে না? তিনি আরো বলেন, আশরাফুলকে আমি চিনি যখন তার বয়স ১২ কি ১৩। তার টেকনিক এবং স্কিল নিয়ে আমার কোন আশঙ্কা নেই। এই ধরণের কর্মকাণ্ডে তাকে জড়িত হতে দেখে সত্যিই খারাপ লেগেছিল। এখন তার ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে আমি বেশ উজ্জীবিত। আমি চাই, এখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলে, সে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে নিজেকে আবারও যোগ্য করে তুলুক। নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেই সে জাতীয় দলের ডাক পাবে।

 

আশরাফুলের ফেরা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান বলেন, আশরাফুল একজন মেধাবী ক্রিকেটার। বাংলাদেশের জার্সিতে ওর সুন্দর কিছু ইনিংস আছে যা আমাদের বার বার তার কথা মনে করিয়ে দেয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার তার সামনে সুযোগ এসেছে। অন্যসবার মতো ভালো পারফরর্মেন্স দেখাতে পারলে তারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল করলে অবশ্যই সুযোগ পাবে আশরাফুল।

 

তিনি আরো বলেন, তুষার ইমরান যদি মধ্য তিরিশে গিয়েও ‘এ’ দলে ডাক পেতে পারে, তবে আশরাফুল কেন পাবে না? সে যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে পারে এবং ঘরের ক্রিকেটে খুব ভালো পারফর্ম করে, তাহলে হয়তো তাকে বিবেচনায় আনা হতেও পারে। সন্দেহ নেই, আশরাফুল অনেক মেধাবী ব্যাটসম্যান। দেশকে কিছু ম্যাচ সে একাই জিতিয়েছে। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে, সে জানে কখন কি করতে হবে। যার প্রমাণও সে দিয়েছে। আশরাফুল প্রসঙ্গে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, অনেক ধরেই সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে নেই। সুতরাং ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে তাকে খেলতে হবে। ওর ফিটনেস আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য ঠিক আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। সাসপেসশন যাওয়ার পর সব ফরম্যাটে খেলুক, তারপর এক বছর যাওয়ার বোঝা যাবে তার ফিটনেস কোন লেভেলে আছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে যদি বলতে হয়, তাহলে বলব এই মুহূর্তে দলে কোনো জায়গা নেই। আমাদের যে ফিটনেস লেভেল আছে, এইচপি থেকে শুরু করে ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের ফিটনেসের সাথে সে অ্যাটাচড না। এই জায়গায় আসতে হলে তাকে কিছু সময় দিতে হবে। এই লেভেলটা যদি থাকে, তাহলে চিন্তা করা যাবে। সুতরাং এই মুহূর্তে আমরা চিন্তা ভাবনা করছি না। আশরাফুলের আশা একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি উল্লেখ করে নান্নু বলেন, ৩২ বছর বয়স, এটা কোনো বিষয় না। যদি ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানের হয়, তাহলে যে কোন ক্রিকেটারই আসতে পারে। ফিটনেস জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পর্যায়ে আনতে হবে। আর পারফরমেন্স অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো হতে হবে। কারণ সে যে জায়গায় ব্যাট করে, সে জায়গায় অনেক ক্রিকেটার স্থায়ী হয়ে গেছে। জাতীয় দলের জন্য কোনো ক্রিকেটারকে যদি দেখা হয়, তাকে বিশেষ পারফরম্যান্স করেই আসতে হবে।

 

আশরাফুলকে আবারও স্কোয়াডে পেলে খুশি হবেন সতীর্থরা

পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। আশরাফুল কেন পারবেন না ভুল মানুষই করে, আশরাফুলও করেছে এবং সেই ভুলের মাশুল তাকে দিতে হয়েছে। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে দেখতে চান জাতীয় দলের সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল বলেন, আশরাফুলের ব্যাপারটা খুবেই সেনসেটিভ ইস্যু, আমরা সবাই জানি। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উনি আমাদের মতোই একজন থাকবেন। যে কারণে উনাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা কাটিয়েই আবার ক্রিকেট মাঠে নামবেন। ফলে এখন আর তাকে অন্য চোখে দেখা উচিত হবে না। কারণ তিনি তাঁর সাজাটা পুরোপুরি ভোগ করেই ফিরছেন। আশা করি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন।

 

আশরাফুল প্রসঙ্গে তামিম আরো বলেন, আশরাফুলের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জন্মায়নি। সাজার মেয়াদ কাটিয়ে ফেরার পর যেকোনো কিছুই হতে পারে। সে আবারও জ্বলে ওঠতে পারে। বাংলাদেশে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও চান, আশরাফুল অাবার আগের মতোই আশার ফুল হয়ে উঠুক। আশরাফুল প্রসঙ্গে তিনি বললেন, এখন তার নিজের ফিটনেসের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

 

ফিরে দেখা: আশরাফুলের ক্যারিয়ার

২০০১ সালের ১১ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আশরাফুলের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। প্রথম ম্যাচটিতে আশরাফুল মাত্র ৯ রান করেন, সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৩৬ রানে। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্স খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি ।বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে ১৪.২০ গড়ে মাত্র ৭১ রান করেন তিনি। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আশরাফুল বিশ্বের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট শতক করার রেকর্ডের অধিকারী। নিজের ১৭তম জন্মদিনের একদিন আগে ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে হওয়া এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১১৪ রান করে এই রেকর্ডের মালিক হন।

 

২০০৪ সালে জাতীয় দলে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫৮* রান করেন।শতকটি ছিল ঐ সময় তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় শতক এবং কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ টেস্ট রান। ২০০৫ সালের ১৮ জুন তারিখে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে তৎকালীন বিশ্বের একনাম্বার ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ে আশরাফুল ১০০ রান করেন। এটি তার একমাত্র শতক এবং সেই ম্যাচের খেলাটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ১৩৬ রান করেন।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৭ সালে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার অভিষেক হয়। অধিনায়ক হিসেবে তার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম টেস্টের দু’ ইনিংসে তিনি যথাক্রমে ৭ ও ৩৭ রান করেন এবং দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। দ্বিতীয় ইনিংসেই তিনি ১২৯ রানের এক ইনিংস খেলন। অপরাজিত থেকে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।

 

এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে আশরাফুল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার। তার উপরে আছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৮৩ বলে ৮৭ রান করেন আশরাফুল, যা বাংলাদেশকে আরেকটি স্মরণীয় জয় উপহার দেয়। এতে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। ২৪ গড়ে ২১৬ রান করে আশরাফুল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান স্কোরার হন। বিশ্বকাপের পর শাহরিয়ার নাফিসের জায়গায় বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের পর টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক হিসেবে আশরাফুলকে নির্বাচিত করা হয়।সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম অধিনায়ক হন।

 

২০০৭ সালে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের দরকার হয় বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আশরাফুল মাত্র ২০ বলে অর্ধ-শতক করে রেকর্ড করেন। শেষ পর্যন্ত পুরো সিরিজে এটাই বাংলাদেশের একমাত্র জয়। রেকর্ডের ছয়দিন পরেই ভারতের যুবরাজ সিং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২ বলে অর্ধ-শতক করে রেকর্ডটি ভেঙ্গে দেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিস্ট ‘এ’-তে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন আশরাফুল। একটি ‘লিস্ট’-এ টুর্নামেন্টে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি এই কীর্তি গড়েন। আশরাফুলের ওপরে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আলভিরো পিটারসন। তিনি ২০১৫-১৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মোমেন্টাম ওয়ানডে কাপে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি মেরেছেন। ২৩টি লিস্ট-‘এ’ ম্যাচ খেলা আশরাফুলের গড় ৪৭.৬৩। এই সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি খুব একটা ভালো করতে পারেননি। ১৩ ম্যাচ খেলা আশরাফুলের গড় এখানে ২১.৮৫। সেঞ্চুরি মোটে একটি।

 

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গত দুই মৌসুমে আশরাফুলের সেরা পারফরম্যান্স, ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিস্ট-এ’ তে পাঁচটি সেঞ্চুরি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে করা তার পাঁচ সেঞ্চুরি একটি রেকর্ড। কোন লিস্ট-এ টুর্নামেন্টে পাঁচটি সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে মোমেন্টাম ওয়ানডে কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার আলভারো পিটারসন পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠার পর ২৩টি লিস্ট-এ ম্যাচে আশরাফুলের গড় ৪৭.৬৩ হলেও তবে এ সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সময়ে ১৩ ম্যাচে তার গড় ২১.৮৫।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited