রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বৈঠক শুধু শুনলেন, কিছু বললেন না মিয়ানমার দূত

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দায় নেয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি বাংলাদেশ সফররত দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও থিন। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিশেষ দূত শুধু বাংলাদেশের কথা শুনেই গেলেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিও দিলেন না বা দায় নেয়ার কথাও বললেন না। রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র আরো জানায়, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক মুসলিম নিধনযজ্ঞে এ পর্যন্ত যে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয় মিয়ানমার দূতের কাছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শরণার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার মানতেও অস্বীকৃতি জানায় মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনা বাহিনীর অত্যাচারের বিষয়টিও এড়িয়ে যান বিশেষ দূত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিও মানতে চাননি তিনি। বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমারের বিশেষ দূত কিয়াও থিন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের হকের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করতে মিয়ানমার দূতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে না আসে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনা বাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনার লক্ষ্যে অং সান সুচির বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও থিন মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় আছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এই মুহূর্তে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে বাংলাদেশের বিশেষ দূত পাঠিয়েছে। কারণ, আগামী ১৯ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আছে এবং সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীরও যাওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণেই ওই বৈঠকের আগেই বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে মিয়ানমার। এছাড়া মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে দেখাতে চায়, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা দেখাতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো এবং তারা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়।-মানবকণ্ঠ 

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» স্বামীকে খুন, সার্জারি করে প্রেমিককে স্বামীর চেহারায়!

» গুগল সার্চে শীর্ষ দশে একমাত্র নায়িকা বুবলী

» ঠাণ্ডার সঙ্গে যেভাবে করবেন লড়াই

» বাংলাদেশে ফরাসি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

» জেরুজালেম ঘোষণা ট্রাম্পের ‘মহা অপরাধ’ : মাহমুদ আব্বাস

» রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারে চলন্ত বাসে আগুন

» গুগল সার্চে এ বছরের শীর্ষে সাবিলা নূর, দ্বিতীয় মিয়া খলিফা

» আলীরটেকের ক্রোকেরচরে আওলাদ ও মকবুলের মাদক ব্যবসা তুঙ্গে

» স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে উন্মুক্ত আলোচনা

» বৃষ্টিতে আত্রাইয়ের ইটভাটা মালিকদের মাথায় হাতঃক্ষয়ক্ষতি দুই কোটি টাকা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন






ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: kuakataonline@gmail.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বৈঠক শুধু শুনলেন, কিছু বললেন না মিয়ানমার দূত

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দায় নেয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি বাংলাদেশ সফররত দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও থিন। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিশেষ দূত শুধু বাংলাদেশের কথা শুনেই গেলেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিও দিলেন না বা দায় নেয়ার কথাও বললেন না। রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র আরো জানায়, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক মুসলিম নিধনযজ্ঞে এ পর্যন্ত যে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয় মিয়ানমার দূতের কাছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শরণার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার মানতেও অস্বীকৃতি জানায় মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনা বাহিনীর অত্যাচারের বিষয়টিও এড়িয়ে যান বিশেষ দূত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিও মানতে চাননি তিনি। বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমারের বিশেষ দূত কিয়াও থিন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের হকের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করতে মিয়ানমার দূতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে না আসে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনা বাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনার লক্ষ্যে অং সান সুচির বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও থিন মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় আছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এই মুহূর্তে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে বাংলাদেশের বিশেষ দূত পাঠিয়েছে। কারণ, আগামী ১৯ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আছে এবং সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীরও যাওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণেই ওই বৈঠকের আগেই বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে মিয়ানমার। এছাড়া মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে দেখাতে চায়, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা দেখাতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো এবং তারা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়।-মানবকণ্ঠ 

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: kuakataonline@gmail.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com