বিশ্ব আদিবাসী দিবস বিলুপ্তের পথে আদিবাসী রাখাইন জনগোষ্টি

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা থেকে॥ প্রায় তিন’শ বছর পূর্বে মায়ানমার ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পটুয়াখালীর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা ও তালতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল কেটে বসতি গড়ে তোলেন এখানকার আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সমুদ্র উপকূলীয় হিং¯্র জীবজন্তু এবং অরণ্যভূমিকে বাসযোগ্য,চাষাবাদের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলে রাখাইনরা।

 

রাখাইনদের আগমনের সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত হিংস জীবজন্তু,প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে। এক সময় একক আতিপাত্য ছিল রাখাইনদের। এখন আর সেই আদিপাত্য নেই তাদের। এক সময়ের সম্পদ ও প্রভাবশালী রাখাইনরা তাদের আবাদভুমি ছেড়ে মায়ানমার চলে যাওয়া,বন্যায় প্রানহানি এবং সমুদ্রের করাল গ্রাসে কমতে থাকে রাখাইন আদিবাসীদের জনসংখ্যা।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে গেছে উপকুলের রাখাইনদের জীবন চিত্র। ভাষা, শিক্ষা, পোশাক, চলাফেরা ও সামাজিকতায়ও এসেছে পরিবর্তন। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার আদিবাসীদের টিকিয়ে রাখতে ব্যবসা বানিজ্যের সুযোগ, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাছ করছে। আদিবাসী রাখাইনদের কৃষ্টি কালচার, সংস্কৃতি, প্যাগোঠাসহ আদি ঔতিহ্য নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থা। দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে আদিবাসী রাখাইনরা মুল্যবান সম্পদ।

 

আশির দশকে রাখাইনদের বসবাস ছিল চোখে পড়ার মত। সেই সংখ্যা এখন হতাশা জনক। রাখাইনদের নামনুসারে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাড়া গুলোর নাম করন থাকলেও রাখাইন বসবাস না থাকার কারনে বেশির ভাগ পাড়ার নামই এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হুইচানপাড়া,(বর্তমান হোসেন পাড়া) দিয়ারআমখোলাপাড়া (বর্তমান তাহেরপুর) কালাচান পাড়া (বর্তমান আলীপুর) উল্লেখযোগ্য।

 

১৭৯৪ খৃষ্টাব্দে আরাকানের স্বাধীনতার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নানা সংকট ও জানমাল নিরাপত্তার জন্য আরাকান থেকে সমুদ্র পথে রাখাইনদের প্রধম আগমন ঘটে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়। কৃষি জমি আবাদ, সাগরে মাছ ধরা এবং কুইচা, কাকরা সহ বন্য পশুপাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল আদিবাসী রাখাইনদের মূল পেশা। স্বদেশ ত্যাগ করলেও তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সচেষ্ট ছিল।

 

কলাপাড়া,রাঙ্গাবালী,তালতলী ও কুয়াকাটা পৌরসভাসহ পটুয়াখালী জেলায় প্রায় তিন হাজার রাখাইন পরিবার বসবাস করছে।
আদিবাসীদের যারা আছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খাদ্য সংকেটর পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা প্রসারের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। পাশাপশি রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবরদখল। গত দুই দশকে মিথ্যা মামলা এবং জবর দখলে অন্তত দুই শতাধিক রাখাইন পরিবার ভিটে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিটে-মাটি রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসিনতার অভাব রয়েছে বলে আদিবাসী নেতারা অভিযোগ করছেন। নানা প্রতিকুলতায় টিকে থাকতে না পেরে কেউ কেউ পারি দিয়েছেন আপন দেশ আরাকানে। যারা আছেন তাদেরকেও থাকতে হচ্ছে শংকায়। কলাপাড়া উপজেলার কেরানী পাড়ার উচাচিং মাতুব্বর,লুমা মগনী,মংথায়ে সহ রাখাইন নেতাদের সাথে কথা বললে এ তথ্য দেন তারা ।

 

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাখাইনদের ভাষা শিক্ষা ও চর্চার জন্য কুয়াকাটায় একটি কালচারাল একাডেমী রয়েছে। আরো একটি কালচারাল সেন্টার তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতি মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাখাইনদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁত সামগ্রীসহ ব্যবসা বানিজ্যে সুযোগ তৈরীতে রাখাইন মার্কেট গড়ে তোলা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ইতো পুর্বে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ার ধানখালী ডিগ্রী কলেজ বাজারের রাস্তাটির বেহাল দশা”দেখার কেউ নাই !

» ফতুল্লায় চোরদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাসিন্দারা

» গোপালগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে দিনব্যাপী ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুরহাট

» ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ৮ মাস ধরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ

» বাগেরহাটে-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে দূর্ঘটনা নিহত-১, আহত ৫

» বাগেরহাটে ৪০ মন জমজ ভাই সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি!

» উদ্বোধনের অপেক্ষায় দশমিনা ফায়ার সাব-ষ্টেশন

» নওগাঁয় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান কাজের উদ্ধোধন

» কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটে জলাবদ্ধতা॥ দুর্ভোগে ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন




ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বিশ্ব আদিবাসী দিবস বিলুপ্তের পথে আদিবাসী রাখাইন জনগোষ্টি

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা থেকে॥ প্রায় তিন’শ বছর পূর্বে মায়ানমার ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পটুয়াখালীর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা ও তালতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল কেটে বসতি গড়ে তোলেন এখানকার আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সমুদ্র উপকূলীয় হিং¯্র জীবজন্তু এবং অরণ্যভূমিকে বাসযোগ্য,চাষাবাদের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলে রাখাইনরা।

 

রাখাইনদের আগমনের সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত হিংস জীবজন্তু,প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে। এক সময় একক আতিপাত্য ছিল রাখাইনদের। এখন আর সেই আদিপাত্য নেই তাদের। এক সময়ের সম্পদ ও প্রভাবশালী রাখাইনরা তাদের আবাদভুমি ছেড়ে মায়ানমার চলে যাওয়া,বন্যায় প্রানহানি এবং সমুদ্রের করাল গ্রাসে কমতে থাকে রাখাইন আদিবাসীদের জনসংখ্যা।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে গেছে উপকুলের রাখাইনদের জীবন চিত্র। ভাষা, শিক্ষা, পোশাক, চলাফেরা ও সামাজিকতায়ও এসেছে পরিবর্তন। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার আদিবাসীদের টিকিয়ে রাখতে ব্যবসা বানিজ্যের সুযোগ, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাছ করছে। আদিবাসী রাখাইনদের কৃষ্টি কালচার, সংস্কৃতি, প্যাগোঠাসহ আদি ঔতিহ্য নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থা। দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে আদিবাসী রাখাইনরা মুল্যবান সম্পদ।

 

আশির দশকে রাখাইনদের বসবাস ছিল চোখে পড়ার মত। সেই সংখ্যা এখন হতাশা জনক। রাখাইনদের নামনুসারে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাড়া গুলোর নাম করন থাকলেও রাখাইন বসবাস না থাকার কারনে বেশির ভাগ পাড়ার নামই এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হুইচানপাড়া,(বর্তমান হোসেন পাড়া) দিয়ারআমখোলাপাড়া (বর্তমান তাহেরপুর) কালাচান পাড়া (বর্তমান আলীপুর) উল্লেখযোগ্য।

 

১৭৯৪ খৃষ্টাব্দে আরাকানের স্বাধীনতার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নানা সংকট ও জানমাল নিরাপত্তার জন্য আরাকান থেকে সমুদ্র পথে রাখাইনদের প্রধম আগমন ঘটে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়। কৃষি জমি আবাদ, সাগরে মাছ ধরা এবং কুইচা, কাকরা সহ বন্য পশুপাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল আদিবাসী রাখাইনদের মূল পেশা। স্বদেশ ত্যাগ করলেও তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সচেষ্ট ছিল।

 

কলাপাড়া,রাঙ্গাবালী,তালতলী ও কুয়াকাটা পৌরসভাসহ পটুয়াখালী জেলায় প্রায় তিন হাজার রাখাইন পরিবার বসবাস করছে।
আদিবাসীদের যারা আছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খাদ্য সংকেটর পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা প্রসারের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। পাশাপশি রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবরদখল। গত দুই দশকে মিথ্যা মামলা এবং জবর দখলে অন্তত দুই শতাধিক রাখাইন পরিবার ভিটে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিটে-মাটি রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসিনতার অভাব রয়েছে বলে আদিবাসী নেতারা অভিযোগ করছেন। নানা প্রতিকুলতায় টিকে থাকতে না পেরে কেউ কেউ পারি দিয়েছেন আপন দেশ আরাকানে। যারা আছেন তাদেরকেও থাকতে হচ্ছে শংকায়। কলাপাড়া উপজেলার কেরানী পাড়ার উচাচিং মাতুব্বর,লুমা মগনী,মংথায়ে সহ রাখাইন নেতাদের সাথে কথা বললে এ তথ্য দেন তারা ।

 

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাখাইনদের ভাষা শিক্ষা ও চর্চার জন্য কুয়াকাটায় একটি কালচারাল একাডেমী রয়েছে। আরো একটি কালচারাল সেন্টার তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতি মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাখাইনদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁত সামগ্রীসহ ব্যবসা বানিজ্যে সুযোগ তৈরীতে রাখাইন মার্কেট গড়ে তোলা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ইতো পুর্বে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited