ঈদকে কেন্দ্র করে ৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট ছিল জালিয়াতদের-দেবদাস ভট্টাচার্য্য

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঈদকে কেন্দ্র করে ৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট ছিল জালিয়াতদের। তাদের মধ্যে ১০ জনকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

 

আজ শুক্রবার (০৮ জুন ২০১৮ )দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য একথা জানান। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার জাল নোট, জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ ও কালি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তাদের কদমতলী থানায় করা এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কদমতলীর বউবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে জাল নোট ছাপার সঙ্গে জড়িত চক্রের ১০ জনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। আটকরা হলো রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার, খোকন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবণী।

সংবাদ সম্মেলনে দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ঈদ লক্ষ্য করে বাজারে ৫ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তারা এতে সফল হতে পারেনি। আমার বাজারে এই টাকাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাদের গ্রেফতার করেছি। এ ধরনের আরও ৮-৯টি জাল নোট তৈরির চক্র রয়েছে বলে জানিয়ে দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যে পরিমাণ জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে আরও ৩-৪ কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করা সম্ভব। এসব টাকা পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিত চক্রটি।

 

সংবাদ সম্মেলনে জাল নোটের বাজারদর সম্পর্কে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিবি জানান, এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ১০ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতার কাছে এই এক লাখ টাকা বিক্রি করা হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতা এসব নোট খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ২০-২৫ হাজার টাকায়। প্রথম খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকার জাল নোট প্রায় সমপরিমাণ দামে মাঠপর্যায়ে বিক্রি করে থাকে।

 

এই জাল নোট তৈরির প্রতারক চক্রটিকে আটকের অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী জানান, এই চক্রের মূলহোতা রফিক। টাকার মধ্যে নিরাপত্তা সুতা বসানোসহ অন্যান্য সূক্ষ কাজ করতো জাকির। বাকিরাও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ করে আসছিল।

 

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)ওবায়দুর রহমান ও ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এমপির ছেলে হোক আর এমপি হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» সমাজকে ইভটিজিং ও মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই-ওসি মঞ্জুর কাদের

» গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সানি লিওন

» আমিও ৬ বছর জেলে ছিলাম: ওরা চেয়েছিল আমি যেন মরে যাই: এরশাদ

» উদ্বোধনের অপেক্ষায় আ’লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়

» এবার পদ্মা সেতুতে আরো ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ল

» অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বরগুনা ছেড়েছেন চারটি লঞ্চ

» কলাপাড়ায় বখাটেদের হামলায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

» গিনেস বুকে নাম লিখাতে চায় বান্দরবানের মেয়ে এ এ সাইং মারমা

» বান্দরবানে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক- ৬

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন




ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

ঈদকে কেন্দ্র করে ৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট ছিল জালিয়াতদের-দেবদাস ভট্টাচার্য্য

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঈদকে কেন্দ্র করে ৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট ছিল জালিয়াতদের। তাদের মধ্যে ১০ জনকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

 

আজ শুক্রবার (০৮ জুন ২০১৮ )দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য একথা জানান। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার জাল নোট, জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ ও কালি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তাদের কদমতলী থানায় করা এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কদমতলীর বউবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে জাল নোট ছাপার সঙ্গে জড়িত চক্রের ১০ জনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। আটকরা হলো রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার, খোকন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবণী।

সংবাদ সম্মেলনে দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ঈদ লক্ষ্য করে বাজারে ৫ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তারা এতে সফল হতে পারেনি। আমার বাজারে এই টাকাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাদের গ্রেফতার করেছি। এ ধরনের আরও ৮-৯টি জাল নোট তৈরির চক্র রয়েছে বলে জানিয়ে দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যে পরিমাণ জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে আরও ৩-৪ কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করা সম্ভব। এসব টাকা পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিত চক্রটি।

 

সংবাদ সম্মেলনে জাল নোটের বাজারদর সম্পর্কে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিবি জানান, এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ১০ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতার কাছে এই এক লাখ টাকা বিক্রি করা হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতা এসব নোট খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ২০-২৫ হাজার টাকায়। প্রথম খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকার জাল নোট প্রায় সমপরিমাণ দামে মাঠপর্যায়ে বিক্রি করে থাকে।

 

এই জাল নোট তৈরির প্রতারক চক্রটিকে আটকের অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী জানান, এই চক্রের মূলহোতা রফিক। টাকার মধ্যে নিরাপত্তা সুতা বসানোসহ অন্যান্য সূক্ষ কাজ করতো জাকির। বাকিরাও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ করে আসছিল।

 

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান,জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)ওবায়দুর রহমান ও ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited