প্রশ্নপত্র ফাঁস-যৌন হয়রানি: কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন কী?

কুয়াকাটা নিউজ :  যৌন হয়রানি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, এর জন্য কোচিং সেন্টারকে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে কোচিং সেন্টারের নাম উঠে আসে সবার আগে। স্কুলে শিক্ষকরা ক্লাস ঠিকমতো নেন না। ক্লাসে যান না। কারণ তারা কোচিং সেন্টারের মালিক। কোচিং সেন্টারে জঙ্গি ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে।

 

উপরের একটি ঘটনাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কমবেশি যারা সংবাদপত্র পড়েন, তারা এমন খবর প্রায়ই দেখে থাকেন। বলা হচ্ছে কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধ। আদৌ কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়েছে কি? বড় বড় সাইনবোর্ড এখনও চোখে পড়ে। কোচিং সেন্টারে আসলে কী হয়? অবশ্যই কোচিং। পাঠ্যবই পড়ানো হয়। বোঝানো হয়। এই তো? ক্লাসে যদি ঠিকভাবে পড়ানো হয়, তাহলে কোচিং সেন্টারের কী দরকার? আগে দেখতাম, ক্লাসে কেউ না বুঝলে স্যার তাকে পরে আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিতেন। বাসায় যেতে বলতেন। পড়া বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষক কিন্তু এর জন্য কোনো টাকা নিতেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষকও সবকিছুর প্রতি লক্ষ রাখতেন। ক্লাসের পেছনে দাঁড়িয়ে টিচারদের ক্লাস দেখতেন। কানে কানে শিক্ষকের ভুলগুলো শুধরে দিতেন।

 

শিক্ষক নিজের থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাজ করতেন। ক্লাস টেস্ট নিতেন। হাতের লেখা সুন্দর করার বুদ্ধি দিতেন। সৎ অনুকরণীয় আদর্শে আদর্শবান ছিলেন তারা। প্রাইভেট, কোচিং সেন্টার বলতে কিছুই ছিল না তখন। দরকারও হতো না। প্রশ্ন হল, এ জায়গাটা থেকে শিক্ষকরা সরে এলেন কেন? তখন শিক্ষক যে সুযোগ-সুবিধা পেতেন, এখনকার শিক্ষকরা তার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পান। তবু ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়ান কেন? কেন কোচিং নামক বিষবৃক্ষ গড়ে তোলা হয়েছে? বলা হতে পারে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আগের মতো বোঝানো সম্ভব নয়। এটা অবশ্যই খোঁড়া যুক্তি। কারণ এখনও দু’-চারজন মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া যায়, যারা ক্লাসেই ছাত্রছাত্রীদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। প্রাইভেট পড়ান না। কোচিং সেন্টারেও যান না।

 

অভিভাবকদের বাধ্য করা হয়। কোচিংয়ে না পাঠালে ওই বিষয়ে ছাত্রছাত্রী নম্বর কম পায়। যিনি কোচিং করান, তিনিই স্কুলের শিক্ষক। ফলে ছাত্রছাত্রী তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। স্কুল শিক্ষকদের কোচিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। দুর্বল ছাত্র তো কিছু থাকতেই পারে। তাদের আলাদাভাবে বোঝানোর ব্যবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষই করবে। এটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমনও দেখা যায়, স্কুলে বসেই শিক্ষক কোচিং করিয়ে পকেট ভারি করেন। হেডমাস্টার হয় সুবিধা পান, নয়তো শিক্ষকের ক্ষমতার কাছে নতজানু। স্বীকার করি বা নাই করি, শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা-মূল্যবোধ-আদর্শ বিসর্জন দেয়াই হল সব সমস্যার মূল। যখন কোচিং-প্রাইভেট ছিল না, তখনকার ছাত্রছাত্রীরা যা পারত বা বুঝত, এখনকার ছাত্রছাত্রীরা তা পারে না।

 

আগে পরীক্ষায় তিন ঘণ্টা লিখতে হতো। নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা তো ভাবাই যেত না। এখন কেবল কোচিং নয়, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসামির তালিকায় শিক্ষকদের নাম থাকে প্রথম দিকে। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখি? যে কোনো মূল্যে কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হোক। তবু শিক্ষা জগতের বিষফোঁড়া কোচিং সেন্টার আর নয়। শিক্ষক যেন স্কুলে বসেই ছাত্রছাত্রীদের পড়া বুঝিয়ে দেন, সেজন্য যা কিছু করা দরকার তা দ্রুত করা হোক।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান: একজন শিক্ষকের সন্তান

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বক্তাবলী খেয়াঘাটে মহিউদ্দিনের অতিরিক্ত টোল আদায়,দেখার যেন কেউ নেই!

» ফতুল্লায় সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষনের ঘটনায় ইব্রাহীম গ্রেপ্তার 

» ফতুল্লায় ইয়াবা ট্যাবলেট হেরোইনসহ গ্রেপ্তার -৪

» ফতুল্লায় মুরগী ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন কাজী নিখোঁজ

» কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।। ভোটারা রয়েছে চরম উৎকন্ঠায় ।। সাউন্ড সন্ত্রাসের অভিযোগ

» বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নিষিদ্ধ সময়ে বাশঁ কেটে পাচারের অভিযোগে কয়েক হাজার বাঁশ জব্দ

» বান্দরবানে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

» সোনারগাঁয়ে শতাধিক ব্যক্তির জাতীয় পার্টিতে যোগদান

» সোনারগাঁয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায়, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা একজন এমপির সবচেয়ে বড় পাওয়া: ডালিয়া লিয়াকত

» ভারত থেকে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে আমদানি হলো ৫০ জোড়া মহিষ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন






ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

প্রশ্নপত্র ফাঁস-যৌন হয়রানি: কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন কী?

কুয়াকাটা নিউজ :  যৌন হয়রানি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, এর জন্য কোচিং সেন্টারকে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে কোচিং সেন্টারের নাম উঠে আসে সবার আগে। স্কুলে শিক্ষকরা ক্লাস ঠিকমতো নেন না। ক্লাসে যান না। কারণ তারা কোচিং সেন্টারের মালিক। কোচিং সেন্টারে জঙ্গি ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে।

 

উপরের একটি ঘটনাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কমবেশি যারা সংবাদপত্র পড়েন, তারা এমন খবর প্রায়ই দেখে থাকেন। বলা হচ্ছে কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধ। আদৌ কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়েছে কি? বড় বড় সাইনবোর্ড এখনও চোখে পড়ে। কোচিং সেন্টারে আসলে কী হয়? অবশ্যই কোচিং। পাঠ্যবই পড়ানো হয়। বোঝানো হয়। এই তো? ক্লাসে যদি ঠিকভাবে পড়ানো হয়, তাহলে কোচিং সেন্টারের কী দরকার? আগে দেখতাম, ক্লাসে কেউ না বুঝলে স্যার তাকে পরে আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিতেন। বাসায় যেতে বলতেন। পড়া বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষক কিন্তু এর জন্য কোনো টাকা নিতেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষকও সবকিছুর প্রতি লক্ষ রাখতেন। ক্লাসের পেছনে দাঁড়িয়ে টিচারদের ক্লাস দেখতেন। কানে কানে শিক্ষকের ভুলগুলো শুধরে দিতেন।

 

শিক্ষক নিজের থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাজ করতেন। ক্লাস টেস্ট নিতেন। হাতের লেখা সুন্দর করার বুদ্ধি দিতেন। সৎ অনুকরণীয় আদর্শে আদর্শবান ছিলেন তারা। প্রাইভেট, কোচিং সেন্টার বলতে কিছুই ছিল না তখন। দরকারও হতো না। প্রশ্ন হল, এ জায়গাটা থেকে শিক্ষকরা সরে এলেন কেন? তখন শিক্ষক যে সুযোগ-সুবিধা পেতেন, এখনকার শিক্ষকরা তার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পান। তবু ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়ান কেন? কেন কোচিং নামক বিষবৃক্ষ গড়ে তোলা হয়েছে? বলা হতে পারে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আগের মতো বোঝানো সম্ভব নয়। এটা অবশ্যই খোঁড়া যুক্তি। কারণ এখনও দু’-চারজন মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া যায়, যারা ক্লাসেই ছাত্রছাত্রীদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। প্রাইভেট পড়ান না। কোচিং সেন্টারেও যান না।

 

অভিভাবকদের বাধ্য করা হয়। কোচিংয়ে না পাঠালে ওই বিষয়ে ছাত্রছাত্রী নম্বর কম পায়। যিনি কোচিং করান, তিনিই স্কুলের শিক্ষক। ফলে ছাত্রছাত্রী তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। স্কুল শিক্ষকদের কোচিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। দুর্বল ছাত্র তো কিছু থাকতেই পারে। তাদের আলাদাভাবে বোঝানোর ব্যবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষই করবে। এটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমনও দেখা যায়, স্কুলে বসেই শিক্ষক কোচিং করিয়ে পকেট ভারি করেন। হেডমাস্টার হয় সুবিধা পান, নয়তো শিক্ষকের ক্ষমতার কাছে নতজানু। স্বীকার করি বা নাই করি, শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা-মূল্যবোধ-আদর্শ বিসর্জন দেয়াই হল সব সমস্যার মূল। যখন কোচিং-প্রাইভেট ছিল না, তখনকার ছাত্রছাত্রীরা যা পারত বা বুঝত, এখনকার ছাত্রছাত্রীরা তা পারে না।

 

আগে পরীক্ষায় তিন ঘণ্টা লিখতে হতো। নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা তো ভাবাই যেত না। এখন কেবল কোচিং নয়, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসামির তালিকায় শিক্ষকদের নাম থাকে প্রথম দিকে। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখি? যে কোনো মূল্যে কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হোক। তবু শিক্ষা জগতের বিষফোঁড়া কোচিং সেন্টার আর নয়। শিক্ষক যেন স্কুলে বসেই ছাত্রছাত্রীদের পড়া বুঝিয়ে দেন, সেজন্য যা কিছু করা দরকার তা দ্রুত করা হোক।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান: একজন শিক্ষকের সন্তান

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited