রাজধানীর লেজার মেডিক্যালের ৯০ ভাগ কর্মীই নারী

রাজধানীর নারীদের কাছে সৌন্দর্যচর্চায় এখন জনপ্রিয় নাম লেজার মেডিক্যাল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার থেকে শুরু করে নিম্নস্তর পর্যন্ত ৯০ শতাংশই নারী। আবার এখানে সেবা নিতে আসেন তাঁদেরও বেশির ভাগই নারী। ২০০৩ সালের দিকে নিজের সঞ্চয় এবং জমি বন্ধক রেখে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।

 

যাত্রা শুরুর পর এই প্রতিষ্ঠানে ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে যাঁদের প্রায় সবায় নারী। সম্প্রতি  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান) তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের পথচলার কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের লেজার মেডিক্যালের প্রবর্তক। ‘নিউ লুক নিউ লাইফ’ স্লোগানে বাংলাদেশে প্রথম লেজার চিকিৎসা চালু করেন। রাজধানীর তিনটি অভিজাত এলাকা গুলশান, ধানমণ্ডি ও উত্তরায় লেজার মেডিক্যালে চিকিৎসা করে থাকেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন ঝুমু খান। তিনি বলেন, ‘নারী চাইলে সফলতার সঙ্গে উদ্যোক্তা হতে পারেন।

 

লেজার মেডিক্যাল গড়ে তুলতে আমাকে অনেক ত্যাগ-পরিশ্রম করতে হয়েছে। সফলভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য আমরা নিবেদিত ছিলাম। তাই ১৪ বছর পর বর্তমানে আমাদের ৩টি শাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল এ দেশের ব্যাংকগুলো ডাক্তারদের উদ্যোক্তা মনে করত না। আমি লেজার মেডিক্যাল সেন্টারের শুরুর দিকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যদিও ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। শুরুতে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমি মূলত একজন ডার্মাটোলজিস্ট। ডার্মাটোলজিতে কাজ করার সময় আমি লেজার চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হই। আমি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে এমবিবিএস করেছি। হলি ফ্যামিলিতে প্রফেসর কবির চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। কাজ করতে গিয়ে আমি ত্বকের চিকিৎসায় নানা সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছি; সেই সীমাবদ্ধতা থেকে লেজার চিকিৎসার প্রতি আমার উৎসাহ ও আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। লেজার চিকিৎসা উন্নত বিশ্বেও আধুনিক চিকিৎসা। সময়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমাদের চিকিৎসার আরো আধুনিকায়ন ঘটেছে।

 

লেজার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি আমদানিসহ অন্যান্য বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে কেমন মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩ কোটি টাকা। আমরা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে সর্বাধুনিক লেজার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানি করি। আমরা যখন বাংলাদেশে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার গড়ে তুলি। তখন ভারতেও সবেমাত্র লেজার চিকিৎসা শুরু হয়।

 

লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ব্রণ কিংবা লোম নিরাময়ে অ্যাসথেটিক্সের ওপর গুরুত্ব দিই। সহজ করে বললে ব্রণ সেরে গেলেও এর দাগ রয়ে যায়। লেজারে সেটা থাকে না। স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্নভাবে লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ডার্মাটোলজি ছাড়াও ওজন হ্রাস, শেপিং, হরমোনের চিকিৎসা, অ্যালার্জি চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী চিকিৎসা আমরা দিয়ে আসছি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কমলগঞ্জে বিএনপি নেতা এখলাছুর রহমান আর নেই

» কমলগঞ্জে বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ঔষধ বিতরণ

» গোপালগঞ্জে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠনের যাত্রা শুরু

» গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় আটক-২ : গনধোলাই পুলিশে সোপর্দ

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির করার নির্দেশ দেওয়ায় জনরোষে পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান

» তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

» রেল স্টেশনের বাথরুমে সন্তান প্রসব করা সেই ভারতীয় নারীর স্বামী আটক

» গাজীপুর সিটি নির্বাচন: মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে প্রচার প্রচারণা

» হারিয়ে যাচ্ছে বাদল দিনের কদম ফুল রণজিৎ মোদক

» গলাচিপায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুসহ আহত তিন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন




ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

রাজধানীর লেজার মেডিক্যালের ৯০ ভাগ কর্মীই নারী

রাজধানীর নারীদের কাছে সৌন্দর্যচর্চায় এখন জনপ্রিয় নাম লেজার মেডিক্যাল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার থেকে শুরু করে নিম্নস্তর পর্যন্ত ৯০ শতাংশই নারী। আবার এখানে সেবা নিতে আসেন তাঁদেরও বেশির ভাগই নারী। ২০০৩ সালের দিকে নিজের সঞ্চয় এবং জমি বন্ধক রেখে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।

 

যাত্রা শুরুর পর এই প্রতিষ্ঠানে ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে যাঁদের প্রায় সবায় নারী। সম্প্রতি  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান) তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের পথচলার কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের লেজার মেডিক্যালের প্রবর্তক। ‘নিউ লুক নিউ লাইফ’ স্লোগানে বাংলাদেশে প্রথম লেজার চিকিৎসা চালু করেন। রাজধানীর তিনটি অভিজাত এলাকা গুলশান, ধানমণ্ডি ও উত্তরায় লেজার মেডিক্যালে চিকিৎসা করে থাকেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন ঝুমু খান। তিনি বলেন, ‘নারী চাইলে সফলতার সঙ্গে উদ্যোক্তা হতে পারেন।

 

লেজার মেডিক্যাল গড়ে তুলতে আমাকে অনেক ত্যাগ-পরিশ্রম করতে হয়েছে। সফলভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য আমরা নিবেদিত ছিলাম। তাই ১৪ বছর পর বর্তমানে আমাদের ৩টি শাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল এ দেশের ব্যাংকগুলো ডাক্তারদের উদ্যোক্তা মনে করত না। আমি লেজার মেডিক্যাল সেন্টারের শুরুর দিকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যদিও ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। শুরুতে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমি মূলত একজন ডার্মাটোলজিস্ট। ডার্মাটোলজিতে কাজ করার সময় আমি লেজার চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হই। আমি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে এমবিবিএস করেছি। হলি ফ্যামিলিতে প্রফেসর কবির চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। কাজ করতে গিয়ে আমি ত্বকের চিকিৎসায় নানা সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছি; সেই সীমাবদ্ধতা থেকে লেজার চিকিৎসার প্রতি আমার উৎসাহ ও আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। লেজার চিকিৎসা উন্নত বিশ্বেও আধুনিক চিকিৎসা। সময়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমাদের চিকিৎসার আরো আধুনিকায়ন ঘটেছে।

 

লেজার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি আমদানিসহ অন্যান্য বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে কেমন মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩ কোটি টাকা। আমরা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে সর্বাধুনিক লেজার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানি করি। আমরা যখন বাংলাদেশে লেজার মেডিক্যাল সেন্টার গড়ে তুলি। তখন ভারতেও সবেমাত্র লেজার চিকিৎসা শুরু হয়।

 

লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ব্রণ কিংবা লোম নিরাময়ে অ্যাসথেটিক্সের ওপর গুরুত্ব দিই। সহজ করে বললে ব্রণ সেরে গেলেও এর দাগ রয়ে যায়। লেজারে সেটা থাকে না। স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্নভাবে লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ডার্মাটোলজি ছাড়াও ওজন হ্রাস, শেপিং, হরমোনের চিকিৎসা, অ্যালার্জি চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী চিকিৎসা আমরা দিয়ে আসছি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited