পটুয়াখালী-৩ : ঘাঁটি রক্ষায় দুই দলই শক্ত অবস্থানে

মামুন তানভীর, দশমিনা: পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত। সংসদ সদস্য হিসাবে সামরিক শাসন আমল ও ১৫ জানুয়ারীর নির্বাচন ছাড়া সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

 

বর্তমানে আওয়ামী দুর্গে কিছু ফাঁকফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতারা। প্রার্থী মনোনয়নে আওয়মী লীগ ভুল করলে বিএনপি যদি এলাকার ত্যাগী অথবা তরুন নেতাদের মনোনয়ন দেয় তাহলে এ ফাঁক গলে আওয়মী দুর্গ বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীন অনেক নেতা ও সমর্থরা। সর্বপরি এ আসনে আওয়ামী লীগে তরুনদের কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন দুই উপজেলার বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী সমর্থকরা।

 

আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছেন এ দু’ উপজেলার কান্ডারী ? এ নিয়ে দু’উপজেলায় রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে তৃনমুল পর্যন্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশসহ দলগুলোর বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দশমিনা গলাচিপা উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশীরা পোষ্টার ও ফেষ্টুন টানিয়ে জনসাধারণকে জানান দিচ্ছেন। আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামরান শহীদ প্রিন্স মহাব্বত,পটুয়াখালী জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর। মনোয়ন পাওয়ার বিষয়ে সকলেই নিজেদের শক্ত অবস্থান দাবি করছেন।

 

বর্তমান সংসদ সদস্য আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন,প্রধান মন্ত্রী কর্ম, সততার ও আদর্শের মূল্যায়ন করেন তাহলে আমি মনোনয়ন পাবো। অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, ১/১১ এর সময় কারা বরণ,বিভিন্ন সময় হামলা মালাসহ নির্যাতিত হয়ে এখনও দলেই আছি। কতিপয় ১/১১ এর সময় স্বরযন্ত্রকারী এর নেতার ধারা বাবার নির্যাতীত হয়েছি। মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করলে আমি মনোনয়ন পাবো ও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ঘাঁটি রক্ষা করতে পারবো। আমি দশমিনা গলাচিপাকে আধুনিক উপজেলায় পরিনত করতে চাই। মায়ের ও প্রধান মন্ত্রীর দোয়া নিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

 

অপর দিকে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্যমনোনায়ন প্রত্যাশী দুইজনের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা। এই তিনজনই এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এই দুই জনই এগিয়ে রয়েছে। হাসান মামুন ছাত্ররাজনীতি থেকে অবসর নেয়র পর বিএপি’র রাজনীতিতে গত ৭ বছর যাবত তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

 

হাসান মামুন গলাচিপা ও দশমিনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানেও বেশ অবদান রাখায় এর প্রভাব একাদশ জাতীয় প্রভাব রাখবে বলে দলের অনকে নেতা আশা করছেন। তবে শাহজাহান খান তৃনমুলে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি (শাহজাহান খান) ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠেই আছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কর্মী বান্ধব হিসেবে পরিচিত। বিএনপি যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে পারলে বিগত দিনের মত বিজিত হয়ে সন্তষ্ঠ হয়ে থাকতে হবে।
জানতে চাইলে হাসান মামুন এ জানান, ‘আমি এলাকার মানুষের ভাগ্য-উন্নয়নে কাজ করছি। দল থেকে আমাকে মনোনায়ন দেয়া হলে নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

 

বিএনপির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আরেক নাম শাহজাহান খান। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি কখনো। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। নিজে সব সময় এলাকায় থাকেন উল্লেখ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে সব সময়ই আছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরেও আমি মাঠেই আছি।

 

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী থেকে আ. বারেক মিয়া, জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি থেকে আবদুল বাতেন তালুকদার, এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ৮৮ সালে ইয়াকুব আলী চৌধুরী, ৯১ সালে আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ‘৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনেবিএনপি’র শাহজাহান খান, একই বছরে সবদলের অংশগ্রহনে ফের নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ তাকে বস্ত্র প্রতিমন্তীর দায়িত্ব দেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবার আখসম জাহাঙ্গীর হোসাইন জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলীয় টানপোড়নে আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন। আওয়ামী লীগ দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয় এলাকায় একেবারেই অপিরিচিত গোলাম মাওলা রনিকে।

 

বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েও তিনি স্থানীয় নেতাকমীদের দমন নিপীড়ন চালান। ইলোকট্রনিক মিডিয়ার টক শো এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সরকার বিরোধী বানোয়াট বক্তব্য রাখার জান্য জাতীয়ভাবেও বিতর্কিত হয়ে পড়েন। সর্বশেষ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মীদের মারধর করার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন নির্বাচনে জয়রাভ করেন। বর্তমানে আওয়ামী দুর্গে অনেক ফাঁকফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বক্তাবলী খেয়াঘাটে মহিউদ্দিনের অতিরিক্ত টোল আদায়,দেখার যেন কেউ নেই!

» ফতুল্লায় সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষনের ঘটনায় ইব্রাহীম গ্রেপ্তার 

» ফতুল্লায় ইয়াবা ট্যাবলেট হেরোইনসহ গ্রেপ্তার -৪

» ফতুল্লায় মুরগী ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন কাজী নিখোঁজ

» কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।। ভোটারা রয়েছে চরম উৎকন্ঠায় ।। সাউন্ড সন্ত্রাসের অভিযোগ

» বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নিষিদ্ধ সময়ে বাশঁ কেটে পাচারের অভিযোগে কয়েক হাজার বাঁশ জব্দ

» বান্দরবানে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

» সোনারগাঁয়ে শতাধিক ব্যক্তির জাতীয় পার্টিতে যোগদান

» সোনারগাঁয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায়, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা একজন এমপির সবচেয়ে বড় পাওয়া: ডালিয়া লিয়াকত

» ভারত থেকে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে আমদানি হলো ৫০ জোড়া মহিষ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন






ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

পটুয়াখালী-৩ : ঘাঁটি রক্ষায় দুই দলই শক্ত অবস্থানে

মামুন তানভীর, দশমিনা: পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত। সংসদ সদস্য হিসাবে সামরিক শাসন আমল ও ১৫ জানুয়ারীর নির্বাচন ছাড়া সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

 

বর্তমানে আওয়ামী দুর্গে কিছু ফাঁকফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতারা। প্রার্থী মনোনয়নে আওয়মী লীগ ভুল করলে বিএনপি যদি এলাকার ত্যাগী অথবা তরুন নেতাদের মনোনয়ন দেয় তাহলে এ ফাঁক গলে আওয়মী দুর্গ বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীন অনেক নেতা ও সমর্থরা। সর্বপরি এ আসনে আওয়ামী লীগে তরুনদের কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন দুই উপজেলার বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী সমর্থকরা।

 

আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছেন এ দু’ উপজেলার কান্ডারী ? এ নিয়ে দু’উপজেলায় রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে তৃনমুল পর্যন্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশসহ দলগুলোর বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দশমিনা গলাচিপা উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশীরা পোষ্টার ও ফেষ্টুন টানিয়ে জনসাধারণকে জানান দিচ্ছেন। আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামরান শহীদ প্রিন্স মহাব্বত,পটুয়াখালী জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর। মনোয়ন পাওয়ার বিষয়ে সকলেই নিজেদের শক্ত অবস্থান দাবি করছেন।

 

বর্তমান সংসদ সদস্য আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন,প্রধান মন্ত্রী কর্ম, সততার ও আদর্শের মূল্যায়ন করেন তাহলে আমি মনোনয়ন পাবো। অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, ১/১১ এর সময় কারা বরণ,বিভিন্ন সময় হামলা মালাসহ নির্যাতিত হয়ে এখনও দলেই আছি। কতিপয় ১/১১ এর সময় স্বরযন্ত্রকারী এর নেতার ধারা বাবার নির্যাতীত হয়েছি। মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করলে আমি মনোনয়ন পাবো ও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ঘাঁটি রক্ষা করতে পারবো। আমি দশমিনা গলাচিপাকে আধুনিক উপজেলায় পরিনত করতে চাই। মায়ের ও প্রধান মন্ত্রীর দোয়া নিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

 

অপর দিকে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্যমনোনায়ন প্রত্যাশী দুইজনের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা। এই তিনজনই এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এই দুই জনই এগিয়ে রয়েছে। হাসান মামুন ছাত্ররাজনীতি থেকে অবসর নেয়র পর বিএপি’র রাজনীতিতে গত ৭ বছর যাবত তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

 

হাসান মামুন গলাচিপা ও দশমিনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানেও বেশ অবদান রাখায় এর প্রভাব একাদশ জাতীয় প্রভাব রাখবে বলে দলের অনকে নেতা আশা করছেন। তবে শাহজাহান খান তৃনমুলে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি (শাহজাহান খান) ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠেই আছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কর্মী বান্ধব হিসেবে পরিচিত। বিএনপি যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে পারলে বিগত দিনের মত বিজিত হয়ে সন্তষ্ঠ হয়ে থাকতে হবে।
জানতে চাইলে হাসান মামুন এ জানান, ‘আমি এলাকার মানুষের ভাগ্য-উন্নয়নে কাজ করছি। দল থেকে আমাকে মনোনায়ন দেয়া হলে নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

 

বিএনপির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আরেক নাম শাহজাহান খান। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি কখনো। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। নিজে সব সময় এলাকায় থাকেন উল্লেখ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে সব সময়ই আছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরেও আমি মাঠেই আছি।

 

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী থেকে আ. বারেক মিয়া, জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি থেকে আবদুল বাতেন তালুকদার, এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ৮৮ সালে ইয়াকুব আলী চৌধুরী, ৯১ সালে আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ‘৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনেবিএনপি’র শাহজাহান খান, একই বছরে সবদলের অংশগ্রহনে ফের নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ তাকে বস্ত্র প্রতিমন্তীর দায়িত্ব দেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবার আখসম জাহাঙ্গীর হোসাইন জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলীয় টানপোড়নে আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন। আওয়ামী লীগ দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয় এলাকায় একেবারেই অপিরিচিত গোলাম মাওলা রনিকে।

 

বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েও তিনি স্থানীয় নেতাকমীদের দমন নিপীড়ন চালান। ইলোকট্রনিক মিডিয়ার টক শো এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সরকার বিরোধী বানোয়াট বক্তব্য রাখার জান্য জাতীয়ভাবেও বিতর্কিত হয়ে পড়েন। সর্বশেষ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মীদের মারধর করার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন নির্বাচনে জয়রাভ করেন। বর্তমানে আওয়ামী দুর্গে অনেক ফাঁকফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited