প্রধান বিচারপতিরই অধিকার হরণ, আম নাগরিক কোথায় এবং কার কাছে যাবে রিট আবেদনের জন্য? !

প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্ত ও অসুস্থ্যতার সংবাদের, যদি সত্যি হয়েও থাকে, সংবিধান অনুসারে তা গোপন রাখার কথা। ছুটির দরখাস্ত ব্যক্তিগত ও অসুস্থ্যতাও ব্যক্তিগত। সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা কি সংবিধান লঙ্ঘন নয়?  সকল নাগরিক গণের  মৌলিক অধিকার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। যাহা পৃথিবীর সকল সংবিধান  দ্বারা  স্বীকৃত।

 

সমাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেসব অধিকার থাকা দরকার, তাহাই মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত । রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসবের মধ্য থেকে কিছু  অতিপ্রয়োজনীয়    অধিকারকে মৌলিক হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানে র  অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হলে রাষ্ট্র প্রতিকারে  বাধ্য থাকবে। আর এখন রাষ্ট্রই  মৌলিক অধিকার  হরণ  করছে!! মানবাধিকার  হল মানুষের জন্মগত অধিকার। মৌলিক অধিকার আইনিভাবে স্বীকৃত অধিকার ।

 

প্রতিটি দেশের  সংবিধানেই মৌলিক অধিকারের  বিষয়টি  সুস্পষ্টভাবে  উল্লেখ  আছে। বাংলাদেশের  সংবিধানের  তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার  বিষয়  বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট। তৃতীয় ভাগের শুরুতে -২৬  নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে  অসামঞ্জস্যপূর্ণ  কোনো আইন করা যাবে না। যদি মৌলিক অধিকারের  সঙ্গে  অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন  করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সরকার  বা  মন্ত্রিপরিষদ  ইচ্ছা  করলেই মৌলিক  অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলোর  ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।

 

আইনের  দৃষ্টিতে  সমতা @

সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে নাগরিকদের কীভাবে দেখা হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের  দৃষ্টিতে সকল  নাগরিক  সমান।

 

অবস্থানগত কারণে বৈষম্য @

ধর্ম_বর্ণ_ লিঙ্গ_ বাসস্থান বা পেশার  কারণে কোনো নাগরিককে বৈষম্যের নজরে দেখা  যাবে না। মৌলিক  এ  অধিকারের বিষয়ে সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা রয়েছে।

 

সরকারি  চাকরির  অধিকার @

২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরি  সবার সমান সুযোগ আছে বলে স্বীকার করা হয়েছে।

 

আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার @

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার আছে।  সংবিধানের ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট  কারণ ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না যাতে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

 

বিনা বিচারে আটক @

কোনো নাগরিককে  আটক করা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া  হয়েছে  ৩৩ নং অনুচ্ছেদে। এখানে বলা হয়েছে, আদালতের অনুমতি ব্যতিরিকে  বিনা কারণে কাউকে আটক করা যাবে না। কোনো কারণে কাউকে আটক করা হলে, সেটির কারণ জানিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কোনো অবস্থায় তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় হাজতে রাখা যাবে না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী আদালতের কাছে আটক ব্যক্তিকে হাজির করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জোরপূর্বক শ্রম @

৩৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ফৌজদারি  অপরাধের  সাজাপ্রাপ্ত  না হলে অথবা নাগরিকগণের  বৃহৎ স্বার্থে আবশ্যক  না হলে কাউকে দ্বারা জোর পূর্বক কোনো কাজ করানো যাবে না।

 

বিচার দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ @

৩৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোনো নাগরিক  অপরাধ করলে তার বিচার অবশ্যই ওই সময়ে প্রচলিত আইনে করতে হবে। একই অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না।

৩৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার রয়েছে। কাউকে কারো  বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে জোরপূর্বক  বাধ্য করা যাবে না এবং নিষ্ঠুর, অমানুষিক  বা  লাঞ্ছনাকর  দণ্ড দেওয়া  যাবে না।

 

সভা-সমাবেশ, সংঘটন চলাফেরার স্বাধীনতা @  

৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং অনুচ্ছেদ  জনস্বার্থে  আইনের  মাধ্যমে  আরোপিত  যুক্তিসংগত  বাধানিষেধ  ছাড়া  দেশের যেকোনো স্থানে অবাধ চলাফেরার, দেশত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতা রয়েছে নাগরিকদের।

৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং অনুচ্ছেদগুলোতে জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সমাবেশ  বা সংগঠনের  অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই  রয়েছে ।

 

চিন্তা- বিবেক বাকস্বাধীনতা @

৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে  প্রতিটি  নাগরিক তাঁর  চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা র অধিকারী । এখানে সংবাদক্ষেত্রগুলোতেও এ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

 

পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা @ 

৪০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক আইন অনুযায়ী যেকোনো কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বাছাই করতে পারবে ।

ধর্মীয় স্বাধীনতা @

৪১নং  অনুচ্ছেদ  অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে।  কাউকে জবরদস্তি করে কোনো ধর্ম পালনে বা পাঠদানে বাধ্য করা যাবে না।

 

সম্পত্তির অধিকার @

৪২ নং অনুচ্ছেদে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি  নাগরিক  সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর করতে পারবে ।

 

গৃহ যোগাযোগের অধিকার @

৪৩ নং অনুচ্ছেদে  বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি  নাগরিকের নিজ গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকবে। নাগরিকদের চিঠিপত্র  যোগাযোগের  গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

মৌলিক অধিকার ভঙ্গে  করণীয় @

যদি কোনো কারণে মৌলিক অধিকার  ভঙ্গ বা হরণ করা হয়। তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। 

কিন্তু অপ্ত্যাসিত বাস্তব সত্য হলো আমাদের প্রধান বিচারপতিরই অধিকার হরণ, আম নাগরিক কোথায় এবং কার কাছে যাবে রিট আবেদনের জন্য? !

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো তাহার  আবেদনটি  সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এখন প্রশ্ন দেখাদিয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মোতাবেক একজন আইনজ্ঞ আইন মন্ত্রী এস কে সিনহার মৌলিক অধিকার হরণ করলেন?  ইহাতে কি আইনমন্ত্রীর  শপথ ভঙ্গ হয়েছে? যদি হয় তাহলে কিহবে?

এছারা সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশের ওয়েব সাইটে ”বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৬” এ যে স্বাক্ষর রয়েছে তার সাথে ‘’ছুটি চাহিয়া আবেদন পত্রের  স্বাক্ষরের মিল নাই !!  দরখাস্তে বানানের ভুল একাধিক।

সংঘত কারণে দেশের নাগরিকদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। কি ঘটতে যাচ্ছে? কার ঈশারায় ঘটছে এ সব। আওয়ামীলীগ কি পারবে এর দায় এড়াতে? আগামী দুই শত বছরেও কি এই ভুলের খেসারৎ সামলে উঠতে সক্ষম হবে স্বাধীনতা পূর্ব এই দলটি?

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

সভাপতি

বাংলাদেশ নাগরিক শক্তি

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» যৌন নির্যাতনে বন্ধ হতে পারে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া

» তালাবন্দী জয়কে উদ্ধারে অপুর বাসায় শাকিব!

» অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা

» রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অপহৃত ছাত্রীর ‘সাবেক শ্বশুর’ আটক

» নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কৌশলী ইসি

» বিপিএলে ১০ ভারতীয়সহ ৭৭ জুয়াড়ি আটক

» রাজধানীর মতিঝিলে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ যুবক আটক

» ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়বেন পর্নস্টার চেরি ডেভিলা

» চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে জয় পেল খুলনা

» নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে তোপের মুখে জনি ডেপ!

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন






ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
Email: kuakataonline@gmail.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন: + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com




,

প্রধান বিচারপতিরই অধিকার হরণ, আম নাগরিক কোথায় এবং কার কাছে যাবে রিট আবেদনের জন্য? !

প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্ত ও অসুস্থ্যতার সংবাদের, যদি সত্যি হয়েও থাকে, সংবিধান অনুসারে তা গোপন রাখার কথা। ছুটির দরখাস্ত ব্যক্তিগত ও অসুস্থ্যতাও ব্যক্তিগত। সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা কি সংবিধান লঙ্ঘন নয়?  সকল নাগরিক গণের  মৌলিক অধিকার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। যাহা পৃথিবীর সকল সংবিধান  দ্বারা  স্বীকৃত।

 

সমাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেসব অধিকার থাকা দরকার, তাহাই মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত । রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসবের মধ্য থেকে কিছু  অতিপ্রয়োজনীয়    অধিকারকে মৌলিক হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানে র  অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হলে রাষ্ট্র প্রতিকারে  বাধ্য থাকবে। আর এখন রাষ্ট্রই  মৌলিক অধিকার  হরণ  করছে!! মানবাধিকার  হল মানুষের জন্মগত অধিকার। মৌলিক অধিকার আইনিভাবে স্বীকৃত অধিকার ।

 

প্রতিটি দেশের  সংবিধানেই মৌলিক অধিকারের  বিষয়টি  সুস্পষ্টভাবে  উল্লেখ  আছে। বাংলাদেশের  সংবিধানের  তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার  বিষয়  বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট। তৃতীয় ভাগের শুরুতে -২৬  নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে  অসামঞ্জস্যপূর্ণ  কোনো আইন করা যাবে না। যদি মৌলিক অধিকারের  সঙ্গে  অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন  করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সরকার  বা  মন্ত্রিপরিষদ  ইচ্ছা  করলেই মৌলিক  অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলোর  ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।

 

আইনের  দৃষ্টিতে  সমতা @

সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে নাগরিকদের কীভাবে দেখা হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের  দৃষ্টিতে সকল  নাগরিক  সমান।

 

অবস্থানগত কারণে বৈষম্য @

ধর্ম_বর্ণ_ লিঙ্গ_ বাসস্থান বা পেশার  কারণে কোনো নাগরিককে বৈষম্যের নজরে দেখা  যাবে না। মৌলিক  এ  অধিকারের বিষয়ে সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা রয়েছে।

 

সরকারি  চাকরির  অধিকার @

২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরি  সবার সমান সুযোগ আছে বলে স্বীকার করা হয়েছে।

 

আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার @

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার আছে।  সংবিধানের ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট  কারণ ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না যাতে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

 

বিনা বিচারে আটক @

কোনো নাগরিককে  আটক করা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া  হয়েছে  ৩৩ নং অনুচ্ছেদে। এখানে বলা হয়েছে, আদালতের অনুমতি ব্যতিরিকে  বিনা কারণে কাউকে আটক করা যাবে না। কোনো কারণে কাউকে আটক করা হলে, সেটির কারণ জানিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কোনো অবস্থায় তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় হাজতে রাখা যাবে না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী আদালতের কাছে আটক ব্যক্তিকে হাজির করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জোরপূর্বক শ্রম @

৩৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ফৌজদারি  অপরাধের  সাজাপ্রাপ্ত  না হলে অথবা নাগরিকগণের  বৃহৎ স্বার্থে আবশ্যক  না হলে কাউকে দ্বারা জোর পূর্বক কোনো কাজ করানো যাবে না।

 

বিচার দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ @

৩৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোনো নাগরিক  অপরাধ করলে তার বিচার অবশ্যই ওই সময়ে প্রচলিত আইনে করতে হবে। একই অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না।

৩৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার রয়েছে। কাউকে কারো  বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে জোরপূর্বক  বাধ্য করা যাবে না এবং নিষ্ঠুর, অমানুষিক  বা  লাঞ্ছনাকর  দণ্ড দেওয়া  যাবে না।

 

সভা-সমাবেশ, সংঘটন চলাফেরার স্বাধীনতা @  

৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং অনুচ্ছেদ  জনস্বার্থে  আইনের  মাধ্যমে  আরোপিত  যুক্তিসংগত  বাধানিষেধ  ছাড়া  দেশের যেকোনো স্থানে অবাধ চলাফেরার, দেশত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতা রয়েছে নাগরিকদের।

৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং অনুচ্ছেদগুলোতে জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সমাবেশ  বা সংগঠনের  অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই  রয়েছে ।

 

চিন্তা- বিবেক বাকস্বাধীনতা @

৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে  প্রতিটি  নাগরিক তাঁর  চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা র অধিকারী । এখানে সংবাদক্ষেত্রগুলোতেও এ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

 

পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা @ 

৪০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক আইন অনুযায়ী যেকোনো কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বাছাই করতে পারবে ।

ধর্মীয় স্বাধীনতা @

৪১নং  অনুচ্ছেদ  অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে।  কাউকে জবরদস্তি করে কোনো ধর্ম পালনে বা পাঠদানে বাধ্য করা যাবে না।

 

সম্পত্তির অধিকার @

৪২ নং অনুচ্ছেদে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি  নাগরিক  সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর করতে পারবে ।

 

গৃহ যোগাযোগের অধিকার @

৪৩ নং অনুচ্ছেদে  বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি  নাগরিকের নিজ গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকবে। নাগরিকদের চিঠিপত্র  যোগাযোগের  গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

মৌলিক অধিকার ভঙ্গে  করণীয় @

যদি কোনো কারণে মৌলিক অধিকার  ভঙ্গ বা হরণ করা হয়। তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। 

কিন্তু অপ্ত্যাসিত বাস্তব সত্য হলো আমাদের প্রধান বিচারপতিরই অধিকার হরণ, আম নাগরিক কোথায় এবং কার কাছে যাবে রিট আবেদনের জন্য? !

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো তাহার  আবেদনটি  সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এখন প্রশ্ন দেখাদিয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মোতাবেক একজন আইনজ্ঞ আইন মন্ত্রী এস কে সিনহার মৌলিক অধিকার হরণ করলেন?  ইহাতে কি আইনমন্ত্রীর  শপথ ভঙ্গ হয়েছে? যদি হয় তাহলে কিহবে?

এছারা সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশের ওয়েব সাইটে ”বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৬” এ যে স্বাক্ষর রয়েছে তার সাথে ‘’ছুটি চাহিয়া আবেদন পত্রের  স্বাক্ষরের মিল নাই !!  দরখাস্তে বানানের ভুল একাধিক।

সংঘত কারণে দেশের নাগরিকদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। কি ঘটতে যাচ্ছে? কার ঈশারায় ঘটছে এ সব। আওয়ামীলীগ কি পারবে এর দায় এড়াতে? আগামী দুই শত বছরেও কি এই ভুলের খেসারৎ সামলে উঠতে সক্ষম হবে স্বাধীনতা পূর্ব এই দলটি?

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

সভাপতি

বাংলাদেশ নাগরিক শক্তি

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
Email: kuakataonline@gmail.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন: + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com